Image description

সিলেটে জামায়াতের চেয়ে বিএনপির প্রার্থীরা বেশি সম্পদশালী। স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ—সব দিক দিয়েই তাঁরা তুলনামূলকভাবে এগিয়ে আছেন। তবে উভয় দলে ‘কোটিপতি’ প্রার্থীর ছড়াছড়ি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দেওয়া হলফনামা থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

হলফনামা ঘেঁটে দেখা গেছে, ছয়টি আসনের মধ্যে পাঁচটিতে বিএনপির প্রার্থী আছেন। একটি আসনে কৌশলগত কারণে বিএনপি দুজনকে মনোনয়ন দিয়েছে। দ্রুতই এখানে দলটি একক প্রার্থী চূড়ান্ত করবে। আরেকটি আসনে বিএনপি তাদের জোটভুক্ত জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের প্রার্থী দিয়েছে। তবে সব কটি আসনেই জামায়াতের প্রার্থী আছেন। অস্থাবর ও স্থাবর সম্পদ মিলিয়ে ছয় আসনের ১০ প্রার্থীই ‘কোটিপতি’।

বিএনপির প্রার্থী যাঁরা

সিলেট-১ আসনে খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর, সিলেট-২ আসনে তাহসিনা রুশদীর, সিলেট-৩ আসনে এম এ মালিক এবং সিলেট-৪ আসনে আরিফুল হক চৌধুরী বিএনপির প্রার্থী। তাঁরা দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা।

এ ছাড়া সিলেট-৬ আসনে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমরান আহমদ চৌধুরী এবং জেলা বিএনপির সদস্য ফয়সল আহমদ চৌধুরীকে প্রার্থী করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে একজন চূড়ান্ত প্রার্থী থাকবেন। অন্যদিকে সিলেট-৫ আসনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী করা হয়েছে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের কেন্দ্রীয় সভাপতি উবায়দুল্লাহ ফারুককে। তাই এ আসনে বিএনপির প্রার্থী নেই।

জামায়াতের প্রার্থী যাঁরা

সিলেট-১ আসনে জেলার আমির হাবিবুর রহমান, সিলেট-২ আসনে জেলা নায়েবে আমির মো. আবদুল হান্নান, সিলেট-৩ আসনে দক্ষিণ সুরমা উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান লোকমান আহমদ, সিলেট-৪ আসনে জেলার সেক্রেটারি মো. জয়নাল আবেদীন, সিলেট-৫ আসনে জেলার নায়েবে আমির মো. আনওয়ার হোসাইন খান এবং সিলেট-৬ আসনে ঢাকা মহানগর জামায়াত উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন দলীয় প্রার্থী।

আছেন পেশাহীন প্রার্থীও

বিএনপি, জামায়াত ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের ১৩ জন প্রার্থীর মধ্যে এম এ মালিকের বর্তমানে কোনো পেশা নেই বলে হলফনামায় উল্লেখ করেছেন। অন্যদের মধ্যে ৯ জন ব্যবসায়ী। অপর তিনজনের মধ্যে তাহসিনা রুশদীর অবসরপ্রাপ্ত চাকরিজীবী, উবায়দুল্লাহ ফারুক শিক্ষক এবং এমরান আহমদ চৌধুরী আইনজীবী।

তাঁরা ১০ কোটিপতি

স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ মিলিয়ে বিএনপি ও জামায়াতের ১০ জন কোটিপতি রয়েছেন। এর মধ্যে বিএনপির ৬ জন, জামায়াতের ৪ জন। সম্পদের দিক দিয়ে সম্পদশালী হিসেবে তাঁরা হলেন যথাক্রমে খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর, আরিফুল হক চৌধুরী, ফয়সল আহমদ চৌধুরী, এম এ মালিক, তাহসিনা রুশদীর, হাবিবুর রহমান, আবদুল হান্নান, লোকমান আহমদ, জয়নাল আবেদীন ও এমরান আহমদ চৌধুরী। অপর তিন প্রার্থী আনওয়ার হোসাইন খান, উবায়দুল্লাহ ফারুক ও মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন ‘কোটিপতি’ নন।

বার্ষিক আয়ে যাঁরা এগিয়ে

বার্ষিক আয় বেশি ফয়সল আহমদ চৌধুরীর। তাঁর বার্ষিক আয় ১ কোটি ৭৩ লাখ ৯ হাজার ১৪৭ টাকা। এর মধ্যে ব্যবসা থেকে আসে ১ কোটি ৪৮ লাখ ৪১ হাজার ৮০০ টাকা। এরপরই আছেন খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর। তিনি বার্ষিক আয় করেন ৩৯ লাখ ২১ হাজার ৯২২ টাকা। অন্যদিকে আরিফুল হক চৌধুরীর বার্ষিক আয় ৩১ লাখ ৮৩ হাজার ২৩৬ টাকা।

অপর প্রার্থীদের মধ্যে তাহসিনা রুশদীর লুনা ৯ লাখ ৫২ হাজার ৩৮৭ টাকা, এম এ মালিক ৯ লাখ ১৬ হাজার ৫০০ টাকা এবং এমরান আহমদ চৌধুরী ৬ লাখ ৮৪ হাজার ৫৪৮ টাকা বার্ষিক আয় করেন। এ ছাড়া উবায়দুল্লাহ ফারুকের বছরে আয় ৮ লাখ ৫৬ হাজার টাকা।

জামায়াতের হাবিবুর রহমান ২০ লাখ ৫২ হাজার ২৮০ টাকা, আবদুল হান্নান ৯ লাখ ৫৪ হাজার টাকা, মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন ৭ লাখ টাকা, জয়নাল আবেদীন ৫ লাখ ৩৫ হাজার টাকা, লোকমান আহমদ ৫ লাখ টাকা এবং আনওয়ার হোসাইন খান ৪ লাখ ৫২ হাজার ৮৭০ টাকা বার্ষিক আয় করেন।

কার হাতে কত নগদ টাকা

সবচেয়ে বেশি নগদ টাকা আছে খন্দকার আবদুল মুক্তাদীরের হাতে। তাঁর আছে ৬৪ লাখ ২৮ হাজার ১৪৭ টাকা। এরপরই হাবিবুর রহমানের আছে ৩৭ লাখ ৪২ হাজার ৩২৯ টাকা। আবদুল হান্নানের কাছে নগদ ৩৩ লাখ ৭ হাজার ২৪৫ টাকা আছে। আরিফুল হক চৌধুরীর ২৩ লাখ ৭৮ হাজার ৯৯ টাকা এবং উবায়দুল্লাহ ফারুকের ২২ লাখ ৬৫ হাজার টাকা নগদ আছে।

জয়নাল আবেদীনের ২০ লাখ টাকা, তাহসিনা রুশদীর ১৭ লাখ ৭০ হাজার ৪৬৪ টাকা, এমরান আহমদ চৌধুরীর ১৬ লাখ ৪ হাজার ৫৩ টাকা, মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনের ১৪ লাখ ৭০ হাজার ১৯১ টাকা, লোকমান আহমদের ১৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং আনওয়ার হোসাইন খানের ৪ লাখ ২০ হাজার ২১৯ টাকা নগদ আছে।

এম এ মালিকের নগদ আছে ২ লাখ টাকা। পাশাপাশি তাঁর কাছে ৭১ হাজার ৭৭২ মার্কিন ডলার ও ৬ হাজার ৭১০ ব্রিটিশ পাউন্ডও আছে। নগদ টাকা সবচেয়ে কম রয়েছে ফয়সল আহমদ চৌধুরীর। তাঁর আছে ৬৭ হাজার ১৮৪ টাকা।

অস্থাবর সম্পদে কারা এগিয়ে

প্রার্থীদের মধ্যে খন্দকার আবদুল মুক্তাদীরের অস্থাবর সম্পদ বেশি। তাঁর ১৫ কোটি ৭২ লাখ ৭ হাজার ৭৮৯ টাকার অস্থাবর সম্পদ আছে। এরপরেই অস্থাবর সম্পদ বেশি রয়েছে ফয়সল আহমদ চৌধুরীর। তাঁর ৬ কোটি ২৬ লাখ ৯৬ হাজার ১০৭ টাকার অস্থাবর সম্পদ আছে।

অস্থাবর সম্পদের দিক থেকে তৃতীয় অবস্থানে আছেন আরিফুল হক চৌধুরী। তাঁর ৪ কোটি ৩৩ লাখ ২৭ হাজার ৩৮৪ টাকার অস্থাবর সম্পদ আছে। চতুর্থ স্থানে আছেন এম এ মালিক। তাঁর রয়েছে ২ কোটি ১০ লাখ টাকার অস্থাবর সম্পদ।

অস্থাবর সম্পদের দিক দিয়ে তাহসিনা রুশদীর পঞ্চম, জয়নাল আবেদীন ষষ্ঠ, আবদুল হান্নান সপ্তম, হাবিবুর রহমান অষ্টম, উবায়দুল্লাহ ফারুক নবম, এমরান আহমদ চৌধুরী দশম, মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন ১১তম, লোকমান আহমদ ১২তম এবং আনওয়ার হোসাইন খান ১৩তম অর্থাৎ সর্বশেষ অবস্থানে আছেন।     

স্থাবর সম্পদে এগিয়ে যাঁরা

অস্থাবর সম্পদের মতো খন্দকার আবদুল মুক্তাদীরের স্থাবর সম্পদও বেশি। তাঁর ১৮ কোটি ৬৩ লাখ ৫৬ হাজার ৯৪১ টাকার স্থাবর সম্পদ আছে। আরিফুল হক চৌধুরী আছেন দ্বিতীয় অবস্থানে। তাঁর ১৫ কোটি ২৬ লাখ ৬৭ হাজার ৮৮২ টাকার স্থাবর সম্পদ আছে।

তৃতীয় অবস্থানে আছেন ফয়সল আহমদ চৌধুরী। তাঁর স্থাবর সম্পদ আছে ৪ কোটি ৮৯ লাখ ২৫ হাজার ৭৯৫ টাকার। চতুর্থ ও পঞ্চম অবস্থানে আছেন যথাক্রমে লোকমান আহমদ ও এম এ মালিক। লোকমানের ১ কোটি ৩৫ লাখ ৮২ হাজার ১৯২ টাকার এবং মালিকের ১ কোটি ৩০ লাখ টাকার স্থাবর সম্পদ আছে।

এ ছাড়া হাবিবুর রহমানের ৯২ লাখ ৪৫ হাজার ৫৯৮ টাকার এবং তাহসিনা রুশদীর ৮৯ লাখ ৬৬ হাজার ৫০০ টাকার স্থাবর সম্পদ আছে।

স্থাবর সম্পদের দিক দিয়ে অষ্টম আবদুল হান্নান, নবম এমরান আহমদ চৌধুরী, দশম জয়নাল আবেদীন, ১১তম আনওয়ার হোসাইন খান এবং ১২তম উবায়দুল্লাহ ফারুক। অন্য প্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনের কোনো স্থাবর সম্পদ নেই।

দায়হীন ১০ জন

প্রার্থীদের মধ্যে ১০ জনেরই কোনো দায় নেই। অপর তিন প্রার্থীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি দায়গ্রস্ত খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর। তাঁর নামে মেয়াদি ঋণ আছে ৬ কোটি ৮৮ লাখ ১২ হাজার ২২১ টাকার। এ ছাড়া একক, তাঁর ওপর নির্ভরশীল এবং প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান ও পরিচালক হিসেবে তাঁর ব্যাংকঋণ আছে ৮৩৮ কোটি টাকার বেশি।

এ ছাড়া আরিফুল হক চৌধুরীর ২ কোটি ৩৯ লাখ ১১ হাজার ২৬৫ টাকা ব্যাংকঋণ রয়েছে। এর বাইরে তাহসিনা রুশদীর ৫ লাখ টাকার দায় আছে।

আয়কর রিটার্নে এগিয়ে যাঁরা

আয়কর রিটার্নে ২৭ কোটি ৬৯ লাখ ৮ হাজার ৪৬৮ টাকার সম্পদ দেখিয়েছেন ফয়সল আহমদ চৌধুরী। এই অর্থবছরে তিনি ৫০ লাখ ৮৪ হাজার ৭৯৭ টাকা আয়কর দিয়েছেন। আয়কর রিটার্নে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সম্পদ দেখিয়েছেন খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর। তিনি ১১ কোটি ৩২ লাখ ৯৩ হাজার ৭৮৪ টাকার সম্পদ দেখিয়েছেন। চলতি অর্থবছরে তিনি ৭ লাখ ৩৫ হাজার ৭৩১ টাকা আয়কর দিয়েছেন।

আরিফুল হক চৌধুরী আয়কর রিটার্নে তৃতীয় সর্বোচ্চ সম্পদ দেখিয়েছেন। তিনি ৬ কোটি ৮০ লাখ ১৭ হাজার ১৩৯ টাকার সম্পদ দেখানোর পাশাপাশি এই অর্থবছরে ৫ লাখ ৯৪ হাজার ৮৯০ টাকা আয়কর দিয়েছেন। এই অর্থবছরে সবচেয়ে কম ৫ হাজার ৪২৯ টাকা আয়কর দিয়েছেন আনওয়ার হোসাইন খান।