Image description
 

বেঁচে থাকলে তার বয়স হতো ৮৪ বছর। যাকে এখনো এক নামে চেনে বাংলাদেশের মানুষ, তিনি ‘নায়করাজ’ রাজ্জাক। আগামীকাল, ২৩ জানুয়ারি, এই অভিনেতার জন্মবার্ষিকী। দিনটি ঘিরে তার অভিনীত সিনেমা, গান, জীবনীনির্ভর প্রামাণ্যচিত্র নিয়ে দুদিনব্যাপী আয়োজন সাজিয়েছে চ্যানেল আই।

 

বিজ্ঞপ্তিতে টেলিভিশন চ্যানেলটি জানিয়েছে, শুক্রবার বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি নায়ক রাজ্জাকের জন্মদিন। এ উপলক্ষে চ্যানেল আইয়ের পর্দাজুড়ে বৃহস্পতি ও শুক্রবার রয়েছে বিভিন্ন আয়োজন। আজ দুপুর ১টা ৫ মিনিট দেখানো হয় সিনেমার গান, বেলা সাড়ে ৩টায় প্রদর্শিত হয় চলচ্চিত্র ‘অবুঝ মন’। সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন কাজী জহির, এতে রাজ্জাক ছাড়াও অভিনয় করেছেনÑশাবানা, সুজাতা, শওকত আকবর, নারায়ণ চক্রবর্তী, খান জয়নুল, সাইফুদ্দিনসহ অনেকে।

 

শুক্রবার সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে দেখানো হবে সংগীতানুষ্ঠান ‘গান দিয়ে শুরু’। এতে শিল্পী হিসেবে থাকবেন খুরশীদ আলম, স্বর্ণা এবং ইমরান খন্দকার। বিকাল সাড়ে ৪টায় দেখানো হবে বিশেষ অনুষ্ঠান ‘নায়ক থেকে নায়করাজ’। এটি উপস্থাপনা করবেন আবদুর রহমান। জন্মদিনের এ আয়োজন শেষ হবে বিকাল ৫টা ২০ মিনিটে শাইখ সিরাজের নির্মাণে নায়করাজের জীবনীনির্ভর প্রামাণ্যচিত্র ‘রাজাধিরাজ রাজ্জাক’ প্রচারের মধ্য দিয়ে।

 

 

রাজ্জাক রুপালি পর্দায় নিজেকে দিয়েছিলেন উজাড় করে। ১৯৬৫ সালে বাংলাদেশের সিনেমা হলগুলোয় কলকাতার সিনেমা মুক্তি পাওয়া বন্ধ হয়ে যায়। উত্তম-সুচিত্রা আর সৌমিত্রে বুঁদ হয়ে থাকা পূর্ব বাংলার মধ্যবিত্ত বিকল্প হিসেবে খুঁজে পায় রাজ্জাককে। তিনি হয়ে উঠলেন ঢাকাই সিনেমার ‘স্ক্রিন আইডল’।

১৯৬৪ সালে বাংলাদেশ টেলিভিশনের যাত্রা শুরু হলে সেখানে অভিনয়ের সুযোগ নেন রাজ্জাক। তখন ধারাবাহিক নাটক ‘ঘরোয়া’য় অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকদের কাছে পরিচিত হয়ে ওঠেন। কিন্তু তার লক্ষ্য ছিল চলচ্চিত্রে অভিনয় করা। আবদুল জব্বার খানের মাধ্যমে চলচ্চিত্রে কাজ করার সুযোগ পান তিনি। তবে নায়ক হিসেবে নয়, সহকারী পরিচালক হিসেবে।

এর মধ্যেই ‘তেরো নাম্বার ফেকু ওস্তাগার লেন’ চলচ্চিত্রে ছোট একটি ভূমিকায় অভিনয় করেন রাজ্জাক। এরপর ‘ডাকবাবু’, উর্দু ছবি ‘আখেরি স্টেশন’সহ কয়েকটি চলচ্চিত্রেও তাকে দেখা যায়। এক সময় নির্মাতা জহির রায়হানের নজরে পড়েন রাজ্জাক। তিনি ‘বেহুলা’য় লখিন্দরের ভূমিকায় অভিনয়ের সুযোগ দেন রাজ্জাককে; সুচন্দার বিপরীতে। ‘বেহুলা’ ব্যবসা সফল হওয়ায় আর পিছে ফিরে তাকাতে হয়নি রাজ্জাককে। তার অভিনীত জহির রায়হানের ‘জীবন থেকে নেয়া’ ছবিটি বাংলা চলচ্চিত্রের একটি মাইলফলক। সুদর্শন রাজ্জাক সুচন্দার পর শবনম, কবরী, ববিতা, শাবানাসহ তখনকার প্রায় সব অভিনেত্রীকে নিয়ে একের পর এক ব্যবসা সফল চলচ্চিত্র উপহার দেন ঢালিউডকে।

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে রাজ্জাক অনেকদিন ছিলেন এক নম্বর হিরো। ৩০০ ছবি তিনি করেছেন। প্রযোজনা করেছেন কিছু ব্যবসা সফল সিনেমা। রাজ্জাক সবচেয়ে বেশি সিনেমায় অভিনয় করেছেন শাবানার বিপরীতে। ১৯৭০ সালে ‘মধুমিলন’ ছবি দিয়ে রুপালি পর্দায় জুটি বাঁধেন তারা। তারপর ‘অবুঝ মন’, ‘সাধু শয়তান’, ‘মাটির ঘর’, ‘দুই পয়সার আলতা’সহ অনেক সিনেমায় অভিনয় করেছেন তারা।

দীর্ঘ অভিনয় জীবনে অনেক পুরস্কার পেয়েছেন রাজ্জাক। এর মধ্যে আছে স্বাধীনতা পদক (২০১৫), পাঁচবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার (সেরা অভিনেতা)।

২০১৭ সালের ২১ অগাস্ট নায়করাজ চলে যান না ফেরার দেশে। বনানী করস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়।