চীনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার সম্ভাব্য ঝুঁকির বিষয়টি বাংলাদেশের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সরকারের কাছে স্পষ্টভাবে তুলে ধরবেন বলে জানিয়েছেন নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন। গত অক্টোবরে মার্কিন সিনেটে নিজের নিয়োগের শুনানিতে সেই ঝুঁকির বিষয়ে বাংলাদেশকে সতর্ক করেছিলেন ব্রেন্ট। ঢাকায় দায়িত্ব গ্রহণের ৬ দিনের মাথায় গতকাল ফের বিষয়টি উত্থাপন করলেন।
গত ১৫ জানুয়ারি প্রেসিডেন্টের কাছে পরিচয়পত্র পেশের মধ্য দিয়ে ঢাকা মিশন শুরু করেন ব্রেন্ট। কাল তিনি প্রথম সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন। বলেন, নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে চীনের সঙ্গে যুক্ততায় ঝুঁকির যে বিষয় রয়েছে, তা আমি স্পষ্টভাবে অন্তর্বর্তী সরকার এবং নির্বাচিত সরকারের কাছে তুলে ধরবো।
রাজধানীর ইএমকে সেন্টারে গণমাধ্যমকর্মীর সঙ্গে আলাপে দুই দেশের সম্পর্কের নানা বিষয় নিয়ে কথা বলেন ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। এক পর্যায়ে চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ভূ-রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা সংক্রান্ত প্রশ্নটি আসে। অন্য এক প্রশ্নের জবাবে ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বলেন, নিরাপত্তা–সংক্রান্ত বিষয়গুলো আমার জন্য বিশেষ আগ্রহের ক্ষেত্র। এই দায়িত্ব পালনের আগে ওয়াশিংটনে আমি এ বিষয়ে কাজ করেছি এবং বাংলাদেশেও আমার এ নিয়ে কাজের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে শক্তিশালী সামরিক সহযোগিতা রয়েছে। ক্রমে তা আরও জোরদার হচ্ছে।
বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা বাহিনীর সব শাখার সঙ্গেই যুক্তরাষ্ট্রের অংশীদারত্ব রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, নৌবাহিনীর সঙ্গে সামুদ্রিক নিরাপত্তা বিষয়ে, বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও মহড়ার মাধ্যমে সেনাবাহিনী ও বিমানবাহিনীর সঙ্গে অপারেশনাল প্রস্তুতি ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়াতে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করছে। গত এক বছরে দুই দেশ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ যৌথ মহড়া পরিচালনা করেছে বলে উল্লেখ করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। নৌবাহিনীর সঙ্গে অপারেশনাল প্রস্তুতির জন্য ‘টাইগার শার্ক’, সেনাবাহিনীর সঙ্গে শান্তিরক্ষা, সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম ও চিকিৎসা–সংক্রান্ত সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ‘টাইগার লাইটনিং’সহ আরও নানা ধরনের সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করেন তিনি।
মার্কিন দূত বলেন, দুই দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর জন্য প্রতিবছর প্রায় ১৫ লাখ ডলার পেশাদার সামরিক শিক্ষায় সহায়তা দিয়ে থাকে যুক্তরাষ্ট্র। ব্রেন্ট বলেন, বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীর আধুনিকায়ন পরিকল্পনা ও সক্ষমতা উন্নয়নে আমরা তাদের সঙ্গে কাজ করছি, বিশেষ করে শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে তারা কীভাবে আরও বিস্তৃত ভূমিকা রাখতে পারে, পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা চাহিদা পূরণে কীভাবে আরও কার্যকর হতে পারে, সে বিষয়ে। আমরা সামরিক সরঞ্জাম কেনার বিভিন্ন সম্ভাবনা নিয়েও সহায়তা করছি এবং কোনটি বাংলাদেশি বাহিনীর জন্য সবচেয়ে উপযোগী হতে পারে, তা খতিয়ে দেখছি। বাংলাদেশের বাজেট বাস্তবতা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি নতুন সক্ষমতা আত্মস্থ করার সক্ষমতাও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে বলে জানান মার্কিন রাষ্ট্রদূত।
ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বলেন, শুনানিতে আমি যেমন বলেছিলাম, দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের সামগ্রিক প্রভাব নিয়ে আমি উদ্বিগ্ন এবং এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র সরকার স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছে। বাংলাদেশে আমি সব বন্ধুর সঙ্গে যোগাযোগ রাখব, সেটা অন্তর্বর্তী সরকার বা নতুন নির্বাচিত সরকার হোক। এখানে কিছু নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে চীনের সঙ্গে যুক্ততায় ঝুঁকির যে বিষয়টি রয়েছে, সেটা আমি স্পষ্টভাবে তুলে ধরব।
অংশীদার দেশগুলোর সামরিক সক্ষমতার চাহিদা পূরণে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নানা বিকল্প রয়েছে বলে উল্লেখ করেন মার্কিন দূত। বলেন, এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব প্রতিরক্ষাব্যবস্থা যেমন আছে, তেমনি অনেক ক্ষেত্রে আমরা আমাদের মিত্র ও অংশীদার দেশগুলোর উপযোগী কোনো ব্যবস্থা চিহ্নিত করতে সহায়তা করি, যা বাংলাদেশি বাহিনীর প্রয়োজনের সঙ্গে আরও মানানসই বা তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের কাছে যদি উপযুক্ত কোনো ব্যবস্থা না থাকে, সে ক্ষেত্রেও আমরা আমাদের মিত্রদের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করে সেই চাহিদা পূরণে সহায়তা করি।