Image description

ছোট পর্দার অভিনয়ে আলো-ছায়ার গল্পে নিজস্ব এক অবস্থান তৈরি করেছেন রুকাইয়া জাহান চমক। মডেলিং, অভিনয় থেকে কনটেন্ট ক্রিয়েশনে নিজেকে বারবার ভেঙে নতুন করে গড়ার চেষ্টা করেন এই অভিনেত্রী। ২০১৭ সালে মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় রানারআপ হওয়ার মাধ্যমে শোবিজে তাঁর যাত্রা শুরু। তবে গ্ল্যামারের সেই প্রথম পরিচয়কে খুব দ্রুতই অভিনয়ের গভীরতায় নিয়ে যান তিনি।

২০২০ সালে নিয়মিত অভিনয় শুরু করে অল্প সময়েই দর্শকের নজর কাড়েন চমক। ‘হাউস নং ৯৬’, ‘মহানগর’, ‘সাদা প্রাইভেট’, ‘অসমাপ্ত’, ‘ভাইরাল হাজব্যান্ড’– এমন একাধিক জনপ্রিয় কাজ, ওয়েব কনটেন্টে তাঁর উপস্থিতি তাঁকে পরিচিত মুখে পরিণত করে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কাজের সংখ্যার চেয়ে মানকে বেশি গুরুত্ব দিতে শুরু করেন এই তরুণ অভিনেত্রী।

চমকের ভাষায়, এখন তিনি আর আগের মতো নিয়মিত কাজে নেই। কারণ হিসেবে জানান, গল্প বাছাইয়ের বিষয়টি। তাঁর মতে, বর্তমান সময়ের অনেক নাটকে একই ধরনের গল্প ঘুরেফিরে আসে। তাই তিনি কম কাজ করলেও গল্পনির্ভর ও ভিন্নধর্মী কাজেই যুক্ত হতে চান। দর্শকের কাছে একটি পরিচিতি তৈরি হওয়ার পর নিজের দায়বদ্ধতাও বেড়েছে বলে মনে করেন চমক।

অভিনয়ের পাশাপাশি মিউজিক ভিডিওতেও তাঁর উপস্থিতি আলোচনায় এসেছে। সম্প্রতি দ্বিতীয়বারের মতো কণ্ঠশিল্পী জিনিয়া জাফরিন লুইপার গানের ভিডিওতে মডেল হয়েছেন তিনি। ‘চুড়ি ছাম ছাম’ শিরোনামে নাচনির্ভর এই ভিডিওতে সম্পূর্ণ নতুন লুকে ধরা দেন চমক। লাল শাড়ি, রেশমি চুড়ি আর ভারী গয়নার সাজে তাঁর উপস্থিতি দর্শকের নজর কেড়েছে আলাদাভাবে। শিফাত আব্দুল্লাহ আবিরের কথায় গানটির সুর ও সংগীত পরিচালনা করেছেন তানভীর। পোশাক পরিকল্পনায় ছিলেন আদি অভি।

এর আগে ‘স্বর্গ’ গানের ভিডিওতে প্রথমবার মিউজিক ভিডিওর মডেল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন তিনি। 

চমক বলেন, ‘২০২৫ সালে অনেক কাজই করেছি। ‘চুড়ি ছাম ছাম’ আমার অন্যতম ভালোলাগার একটি কাজ ছিল। লুইপার কণ্ঠের গানের সঙ্গে একেবারে মিশে যেতে চেষ্টা করেছি। নাচনির্ভর ভিডিওটির চিত্রায়ণও ভালো হয়েছে। গানটির জন্য অনেকের কাজ থেকেই প্রশংসা পাচ্ছি। আশা করছি, শিগগিরই ইউটিউবে গানটি এক কোটি ভিউর মাইলফলক স্পর্শ করবে। ‘চুড়ি ছাম ছাম বাজে’ ড্যান্স মুভ চ্যালেঞ্জের বিজয়ীদের ইতোমধ্যেই নির্বাচন করা হয়েছে। দর্শকদের অংশগ্রহণ এই গানকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলেছে।

অভিনয়ে বিরতি থাকলেও থেমে নেই তাঁর সৃজনশীলতা। সামাজিক মাধ্যমে নিয়মিত প্রকাশ করছেন নানা ধরনের কনটেন্ট। বিশেষ করে শিক্ষামূলক ও ঐতিহ্যভিত্তিক ভিডিও দিয়ে প্রশংসা কুড়িয়েছেন তিনি। ফকির লালন সাঁইয়ের জীবনদর্শন, কুষ্টিয়ার ঐতিহ্য, লালনের গানের সঙ্গে আত্মিক সম্পর্ক– এসব বিষয় তুলে ধরে নির্মাণ করা তাঁর ভিডিওগুলো দর্শকের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। গামছা নিয়ে নির্মিত একটি কনটেন্টও সামাজিক মাধ্যমে বেশ আলোচিত হয়।

চমকের মতে, কনটেন্টের মাধ্যমে দেশের ইতিহাস ও সংস্কৃতি তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তাঁর কণ্ঠে মানুষ যদি দেশের গল্প শোনে, সেটাকেই তিনি সার্থকতা মনে করেন। পাশাপাশি নিজের বহুমুখী প্রতিভা প্রকাশের একটি মাধ্যম হিসেবেও কনটেন্ট ক্রিয়েশনকে দেখছেন তিনি।

এদিকে সাহসী বক্তব্য ও স্পষ্টভাষিতার জন্যও পরিচিত চমক। সামাজিক নানা অনিয়ম ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে কথা বলতে বরাবরই দ্বিধাহীন ছিলেন তিনি। তবে সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া একটি স্ট্যাটাসে যেন ভিন্ন এক চমক দেখালেন এই অভিনেত্রী। সেখানে তিনি লেখেন, এই দেশে সব অবস্থায় চুপ থাকাই নাকি বুদ্ধিমানের কাজ। অন্যায়ের প্রতিবাদকারীদের নির্বোধ বলা হয় এমন বাস্তবতার কথাই উঠে আসে তাঁর লেখায়। শেষাংশে শাড়ি পরে রোমান্টিক ছবি দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন, যা নিয়ে ভক্তদের মধ্যে তৈরি হয় মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

কেউ তাঁর বক্তব্যকে সময়ের বাস্তবতা হিসেবে দেখেছেন, আবার কেউ তাঁর আগের প্রতিবাদী কণ্ঠ ফিরে পাওয়ার আশাও ব্যক্ত করেছেন। সময়ের সঙ্গে নিজের অবস্থান নিয়ে নতুন করে ভাবছেন চমক– এমনটাই মনে করছেন অনেকে।

চমক বলেন, ‘আমি শূন্য থেকে এসেছি। এ কথা অনেক জায়গায় বলছি। সাহসের সঙ্গে কথা বলতে পছন্দ করি। সাহসই ছিল আমার সুপার পাওয়ার। আমার পা থেকে মাথা পর্যন্ত সাহস [হাসি]। এটি আমার একমাত্র পুঁজি। অন্যায়ের বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ কণ্ঠ জারি রাখতে চাই।’

নিজেকে নিয়ে চমক বলেন, তিনি পরিকল্পনাহীন মানুষ। যা মন চায়, সেটাই করেন। কখনও কবিতা, কখনও গান, কখনও আঁকাআঁকি কিংবা কনটেন্ট তৈরি– সবই আসে মনের তাড়নায়। এই স্বাধীনচেতা মানসিকতাই হয়তো তাঁকে আলাদা করে চিহ্নিত করে। তাঁর ভাষায়, তিনি কারও নিয়ন্ত্রণে চলেন না; চলেন নিজের মতো করেই।

আলো ছায়ার এই যাত্রায় চমক যে থেমে যাওয়ার মানুষ নন, সেটি স্পষ্ট। গল্প, চরিত্র আর সময়– সব মিলিয়ে নিজের মতো করে এগিয়ে যাওয়াই তাঁর একমাত্র লক্ষ্য।