অতি সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রেখে প্রশংসা কুড়িয়েছেন তারেক রহমান। জানাজার আগে মায়ের জন্য দোয়া চেয়ে এ বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। গতকাল বুধবার বেলা ৩টায় মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জানাজার আগে পরিবারের পক্ষ থেকে বক্তব্যের আহ্বান পেয়ে তিনি খুবই সংক্ষেপে কথা বলেন।
বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, ‘আমি বেগম খালেদা জিয়ার বড় সন্তান তারেক রহমান। আজকে এখানে উপস্থিত সকল ভাইবোন যারা উপস্থিত আছেন, বেগম খালেদা জিয়া জীবিত থাকাকালীন যদি আপনাদের কারো কাছ থেকে কোনো ঋণ নিয়ে থাকেন, দয়া করে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। আমি সেটি পরিশোধের ব্যবস্থা করব ইনশাআল্লাহ। একই সঙ্গে তিনি জীবিত থাকাকালীন তার কোনো ব্যবহারে, কোনো কথায় যদি কেউ আঘাত পেয়ে থাকেন, তাহলে মরহুমার পক্ষ থেকে আমি আপনাদের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী। দোয়া করবেন, আল্লাহতাআলা যাতে তাকে বেহেশত দান করেন।
বাংলাদেশে প্রচলিত রীতি অনুযায়ী মা-বাবার জানাজায় সন্তানেরা যে ধরনের বক্তব্য রাখেন, ঠিক সেরকমই আবেদন জানালেন তারেক রহমান। নির্ধারিত সময় বেলা ২টায় জানাজা শুরু করা যায়নি। কফিন পৌঁছাতে কিছুটা বিলম্ব হয়। এ সময়টাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ এবং সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী বক্তব্য দেন। কফিন পৌঁছার পর দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সংক্ষিপ্ত জীবনবৃত্তান্ত তুলে ধরেন স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য নজরুল ইসলাম খান। তার পরই তারেক রহমানকে আহ্বান জানানো হয় পরিবারের পক্ষ থেকে সমবেত জনসমুদ্রের উদ্দেশে কিছু বলার জন্য। তিনি কয়েক বাক্যে বক্তব্য শেষ করেন।
জানাজা বিলম্বের কারণে সকাল থেকে সমবেত জনতা কিছুটা অধৈর্য হয়ে পড়েন। তারেক রহমান সম্ভবত সেটা অনুধাবন করতে পেরেছিলেন। মানুষের কষ্ট লাঘব করতে দীর্ঘ বক্তব্যে মানুষের মধ্যে বিরক্তির উদ্রেক করতে পারে এমন অনুভূতি থেকেই তারেক রহমান বক্তব্য খুব সংক্ষিপ্ত করেন। অথবা আগে থেকেই সিদ্ধান্ত নিয়ে এটা করে থাকতে পারেন। বিষয়টিকে উপস্থিত জনতা ইতিবাচকভাবে নিয়েছেন। তারেক রহমানের পরিমিতিবোধের প্রশংসা করতেও শোনা যায় অনেককে। শুধু তা-ই নয়, তিনি নিজের রাজনৈতিক পরিচয় এড়িয়ে খালেদা জিয়ার বড় সন্তান পরিচয়ের মধ্যে সীমিত রেখেছেন। এটাও তার বিনয় হিসেবে দেখেছে সমবেত জনতা।
প্রসঙ্গত, জানাজায় প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের বাম পাশে দাঁড়ান তারেক রহমান। তারপর এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। আর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ডান পাশে দাঁড়ান প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, এরপর জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এবং তার পাশে ছিলেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান ও বিমান বাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান।
প্রধান উপদেষ্টার পাশাপাশি তার সরকারের উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, আদিলুর রহমান খান, ফাওজুল কবির খান, আ ফ ম খালিদ হোসেন, আলী ইমাম মজুমদার, সি আর আবরার, এম সাখাওয়াত হোসেন, প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলমও জানাজায় শরিক হন।