দুই বছর ধরে চেষ্টার পর কাঙ্ক্ষিত পদোন্নতি পেলেন, কিন্তু সপ্তাহ ঘুরতেই সেই উত্তেজনার আনন্দ কোথায় যেন মিলিয়ে গেল! এর বদলে মনে ভর করল একধরনের বিভ্রান্তিকর শূন্যতা—‘তাহলে এবার কী?’ অনেককেই এমন পরিস্থিতির মধ্যে পরতে হয়।
এক্ষেত্রে কেউ আগে থেকে সতর্ক করে দেয় না যে, দীর্ঘ প্রতীক্ষিত লক্ষ্য অর্জনের পর প্রকৃত উদযাপনের চেয়ে একধরনের মন খারাপ বা হতাশা বেশি কাজ করতে পারে। প্রত্যাশিত আনন্দ আর বাস্তবের এই ব্যবধানের পেছনে মনস্তাত্ত্বিক কিছু কারণ রয়েছে।
‘গেটওয়ে অফ হিলিং’-এর প্রতিষ্ঠাতা, সাইকোথেরাপিস্ট ও লাইফ কোচ ডা. চাঁদনি তুগনাইতের মাধ্যমে এই মনস্তাত্ত্বিক কারণগুলো তুলে ধরা হয়েছে:
১. মস্তিষ্ক কেবল অর্জনের চেয়ে ‘পিছু ছোটাকে’ বেশি পুরস্কৃত করে
আমাদের প্রেরণা মূলত নির্ভর করে প্রত্যাশার ওপর।
যখন আপনি কোনো কিছুর পেছনে ছুটছেন, কেবল তখনই মস্তিষ্কে সবচেয়ে বেশি ভালোলাগার কেমিক্যাল বা হরমোন ক্ষরিত হয়, লক্ষ্য অর্জনের ঠিক পরে নয়। যেই মুহূর্তে লক্ষ্য অর্জিত হয়, ভেতরের সেই পুরস্কার প্রদানকারী সিস্টেমের আর ছোটার মতো কিছু থাকে না। ফলে সাফল্যের সন্তুষ্টির বদলে একধরনের মানসিক টানাপোড়েন তৈরি হয়।
২. লক্ষ্যটিই এতদিন আপনার জীবনকে গুছিয়ে রেখেছিল
মাসের পর মাস বা বছরের পর বছর ধরে ওই লক্ষ্যটিই আপনার দিনগুলোকে একটি নির্দিষ্ট রূপ দিয়েছিল। সকালে তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে ওঠার কারণ এবং কোন সিদ্ধান্তগুলো আপনার জন্য জরুরি, তা নির্ধারণে এটি সাহায্য করেছিল।
কিন্তু লক্ষ্য অর্জিত হওয়ার পর সেই রুটিন বা কাঠামো রাতারাতি গায়েব হয়ে যায়। ফলে জীবনের অন্য সবকিছু ঠিকঠাক থাকলেও, ঠিক যে জায়গাটিতে দিকনির্দেশনা ছিল, সেখানে একটি বড় ফাঁক তৈরি হয়।
৩. অর্জন খুব দ্রুত সাধারণ হয়ে যায়
ডা. চাঁদনি বলেন, ‘লক্ষ্য অর্জনের প্রথম দিনে যা রোমাঞ্চকর মনে হয়, তা কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সাধারণ এক বিষয়ে পরিণত হয়; কারণ ভালো বা মন্দ যেকোনো পরিস্থিতির সঙ্গেই আমরা খুব দ্রুত মানিয়ে নিই।’
পদোন্নতি, ডিগ্রি বা সম্পর্কের যেকোনো বড় মাইলফলক—সবকিছুই একসময় স্থায়ী আনন্দের উৎস না হয়ে দৈনন্দিন জীবনের অভ্যাসে পরিণত হয়।
৪. লক্ষ্যটি আদতে আপনার নিজের ছিল না কখনো
‘মাঝে মধ্যে এই শূন্যতা আরও গভীর হয়, কারণ লক্ষ্যটি আপনার নিজের ইচ্ছায় বেছে নেওয়া ছিল না, বরং পারিবারিক প্রত্যাশা বা সামাজিক চাপের ফল,’ ব্যাখ্যা করেন ডা. চাঁদনি।
সমাজ বা চারপাশের মানুষের কাছে সেটি যতই চমৎকার বা বড় মনে হোক না কেন, নিজের মন থেকে না চাওয়া কোনো কিছু অর্জন করলে কখনোই সত্যিকারের তৃপ্তি পাওয়া যায় না।
তবে এর অর্থ এই নয় যে লক্ষ্য ঠিক করা অর্থহীন কিংবা সফলতার পর এমন উদাসীন লাগার কারণে আপনার মধ্যে কোনো সমস্যা রয়েছে। এর সহজ অর্থ হলো—লক্ষ্যটি আপনাকে নির্দিষ্ট একটি জায়গায় পৌঁছে দেওয়ার কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করেছে, এবং এখন আপনার দিনগুলোতে নতুন উদ্দেশ্য যোগ করতে একটি নতুন লক্ষ্যের প্রয়োজন।