এক সময়ের জনপ্রিয় নায়িকা পূর্ণিমা বর্তমানে অভিনয়ে অনিয়মিত। তবে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নিয়মিত হাজির হন তিনি। সম্প্রতি নিজের ফেসবুক পেজে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। ভিডিওটিতে তার সঙ্গে দেখা যায় মধ্যবয়সী এক নারীকে।
ভিডিওটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং তা নিয়ে শুরু হয় নানা আলোচনা-সমালোচনা।
ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর অনেকেই দাবি করেন, ওই নারী পূর্ণিমার ছোটবেলার বান্ধবী। কেউ কেউ আবার মন্তব্য করেন, তারা নাকি একসঙ্গে পড়াশোনা করেছেন এবং প্রায় সমবয়সী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন নানা তথ্য ছড়িয়ে পড়লেও বাস্তবতা ভিন্ন বলে জানিয়েছেন ভিডিওতে থাকা নারী নিজেই।
জানা গেছে, ভিডিওতে দেখা যাওয়া নারীর নাম রাজিয়া আক্তার। তার বয়স ৫০ বছর। তিনি গাজীপুরের মিরের বাজার এলাকার হাজারী কটেজে বাবুর্চির কাজ করেন। দীর্ঘদিন ধরে রান্নার কাজের সঙ্গে যুক্ত রাজিয়ার হাতের রান্না অভিনেত্রী পূর্ণিমার খুবই পছন্দ।
সেই ভালো লাগা থেকেই সম্প্রতি তার সঙ্গে একটি ভিডিও ধারণ করে নিজের ফেসবুক পেজে প্রকাশ করেন এই অভিনেত্রী।
কিন্তু ভিডিওটি প্রকাশের পর সেটিকে ঘিরে তৈরি হয় বিভ্রান্তি। অনেকেই রাজিয়াকে পূর্ণিমার স্কুল বা কলেজ জীবনের বন্ধু হিসেবে পরিচয় করাতে শুরু করেন। এমনকি কেউ কেউ দাবি করেন, দুজন একসঙ্গে লেখাপড়া করেছেন এবং দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের স্মৃতি তুলে ধরতেই ভিডিওটি করা হয়েছে।
তবে শুক্রবার (১২ জুন) গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলে এ সব দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেন রাজিয়া আক্তার। তিনি জানান, তার সঙ্গে পূর্ণিমার পরিচয় সম্পূর্ণ ভিন্ন কারণে। তিনি কখনোই অভিনেত্রীর সহপাঠী বা ছোটবেলার বান্ধবী ছিলেন না। রাজিয়া বলেন, ‘আমি কখনো কলেজেই যাইনি। তাই পূর্ণিমার সঙ্গে একসঙ্গে লেখাপড়া করার প্রশ্নই আসে না। মানুষ না জেনেই অনেক কিছু বলছে।’
এদিকে ভিডিওটি প্রকাশের মূল উদ্দেশ্য ছিল রাজিয়ার প্রতি পূর্ণিমার ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা প্রকাশ করা। বিশেষ করে তার রান্নার প্রশংসা করতেই এই ভিডিও ধারণ করা হয়েছিল বলে জানা গেছে। তবে সাধারণ একটি ভিডিওকে ঘিরে যে এত আলোচনা তৈরি হবে, তা হয়তো কেউই ভাবেননি।
ভাইরাল এই ঘটনার পর অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তথ্য যাচাই করে মন্তব্য করার আহ্বান জানিয়েছেন। কারণ বাস্তব তথ্য না জেনে কোনো ব্যক্তিকে নিয়ে ভুল ধারণা ছড়িয়ে পড়লে তা বিভ্রান্তির সৃষ্টি করতে পারে।