গরমকাল মানেই রসালো আমের মৌসুম। দেশে এখন তীব্র গরমের সঙ্গে সুস্বাদু মৌসুমী ফলের আগমন ঘটেছে। হিমসাগর, ল্যাংড়া, আম্রপালি কিংবা ফজলি, পছন্দের আম সামনে থাকলে লোভ সামলানো কঠিন। তবে ডায়াবিটিসে আক্রান্ত অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে, ‘সুগার থাকলে কি আম খাওয়া যাবে?’ মিষ্টি এই ফল খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় অনেকে আম খাওয়া একেবারেই বন্ধ করে দেন।
চিকিৎসকদের মতে, ডায়াবিটিস থাকলেই আম খাওয়া ক্ষতিকর নয়। বরং সঠিক পরিমাণ, সময় ও নিয়ম মেনে খেলে আমের স্বাদও উপভোগ করা যায়, আবার রক্তে সুগারের মাত্রাও নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক আশিস মিত্র জানিয়েছেন, আমের গ্লাইসেমিক ইন্ডেক্স মাঝারি পর্যায়ের। তাই পরিমিত পরিমাণে এবং কিছু সতর্কতা মেনে খেলে ডায়াবিটিস রোগীদের জন্যও এটি নিরাপদ হতে পারে।
১. অল্প পরিমাণ খাওয়া
আম খাওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পরিমাণ। চিকিৎসকদের মতে, একবারে একটি পুরো আম না খেয়ে তার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ খাওয়াই ভালো। অতিরিক্ত ডায়াবেটিস আক্রান্তদের দৈনিক ৫০ থেকে ৬০ গ্রামের বেশি আম না খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। প্রতিদিন না খেয়ে মাঝেমধ্যে খেলে ঝুঁকির সম্ভাবনা কম।
২. অন্য ফলের সঙ্গে খাওয়া
শুধু আম না খেয়ে কম গ্লাইসেমিক ইন্ডেক্সযুক্ত ফলের সঙ্গে মিশিয়ে খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়ার আশঙ্কা কমে। আমের সঙ্গে জাম, জামরুল, পেয়ারা, আপেল, নাশপাতি কিংবা শসা খেতে পারেন। এতে ফলের পুষ্টিগুণও বাড়বে এবং সুগারের ভারসাম্যও বজায় থাকবে।
৩. রাতে নয়, দিনে খাওয়া
অনেকেই রাতে খাবারের পর আম খাওয়ার অভ্যাস রাখেন। তবে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য এটি ভালো নয়। চিকিৎসকদের মতে, সন্ধ্যার পর শরীরে ইনসুলিন ও জিএলপি-১ হরমোনের কার্যকারিতা কিছুটা কমে যায়। ফলে রাতে আম খেলে রক্তে শর্করা বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই সকালের নাশতা ও দুপুরের খাবারের মাঝামাঝি সময়ে কিংবা দুপুরের খাবারের কিছুক্ষণ পরে আম খাওয়াই উত্তম।
৪. বেশি খেলে হাঁটতে হবে
নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে বেশি আম খেয়ে ফেললে বসে না থেকে কিছুটা শারীরিক পরিশ্রম করা প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞরা অন্তত ১৫ থেকে ২০ মিনিট হাঁটার পরামর্শ দেন। এতে শরীর অতিরিক্ত গ্লুকোজ ব্যবহার করতে পারে এবং রক্তে সুগারের মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমে।
৫. টক দইয়ের সঙ্গে সালাদ তৈরি করা
আমসহ বিভিন্ন ফল দিয়ে সালাদ তৈরি করে তার সঙ্গে টক দই মিশিয়ে খেতে পারেন। টক দইয়ে থাকা প্রোটিন ও উপকারী ব্যাকটেরিয়া খাবারের গ্লুকোজ শোষণের গতি কিছুটা কমিয়ে দিতে সাহায্য করে। ফলে রক্তে শর্করা দ্রুত বাড়ার সম্ভাবনাও কমে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডায়াবিটিস রোগীদের জন্য আম পুরোপুরি নিষিদ্ধ নয়। তবে পরিমাণ, সময় এবং খাদ্যাভ্যাসের পদ্ধতি বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। নিজের রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খাদ্যতালিকা অনুসরণ করাই সবচেয়ে নিরাপদ। (সূত্র: আনন্দবাজার)