পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে টানা সাত দিনের সরকারি ছুটি শেষে আজ থেকে খুলছে সরকারি-বেসরকারি অফিস-আদালত। কর্মস্থলে যোগ দিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে গতকাল থেকেই রাজধানী ঢাকায় ফিরতে শুরু করেছেন কর্মজীবী মানুষ। ছুটি শেষে আজ সোমবারও মানুষ ঢাকায় ফিরছে। ফলে বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন ও লঞ্চঘাটে দেখা গেছে ফিরতি যাত্রীদের ব্যাপক উপস্থিতি।
রাজধানীর সায়েদাবাদ, গাবতলী ও মহাখালী বাস টার্মিনাল, কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন এবং সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা যাত্রীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। সড়ক ও নৌপথে যাত্রা তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক হলেও ট্রেনে যাতায়াতকারী অনেক যাত্রী বিলম্ব ও অতিরিক্ত ভিড়ের কথা জানিয়েছেন।
ফিরতি যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অফিসে সময়মতো যোগদান এবং অতিরিক্ত চাপ এড়াতে অনেকেই নির্ধারিত সময়ের আগেই ঢাকায় ফিরেছেন। জামালপুর থেকে আসা আরিফুল ইসলাম জানান, ঈদের ছুটিতে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটিয়ে এবং কোরবানির আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে তিনি আবার কর্মস্থলে ফিরেছেন।
নোয়াখালী থেকে সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে পৌঁছানো আবদুর রহিম বলেন, তিনি ঢাকার একটি মার্কেটে কাজ করেন। কয়েক দিনের মধ্যেই দোকানপাট চালু হবে। তাই সম্ভাব্য ভিড়ের আগে পরিবারসহ ঢাকায় ফিরে এসেছেন।
ফিরতি যাত্রীর সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রাজধানীর সড়কেও যানবাহনের চাপ বাড়তে শুরু করেছে। বিভিন্ন এলাকায় ধীরে ধীরে কর্মব্যস্ত পরিবেশ ফিরে আসছে। যদিও অনেক জায়গায় এখনো ঈদের আমেজ রয়েছে, তবে কর্মজীবী মানুষের উপস্থিতিতে নগরী আবার স্বাভাবিক গতিতে ফিরছে।
সায়েদাবাদ এলাকায় কর্মরত বাইক রাইডার হাবিব রহমান বলেন, “সকাল থেকেই যাত্রী আসতে শুরু করেছে। তবে এখনো বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়নি। তার ধারণা, চলতি সপ্তাহজুড়ে ঢাকামুখী মানুষের সংখ্যা বাড়বে এবং আগামী সপ্তাহে রাজধানী পুরোপুরি স্বাভাবিক কর্মচাঞ্চল্যে ফিরে আসবে।”
অন্যদিকে, ঈদে বাড়ি ফেরার সময়ের মতো ফিরতি যাত্রাতেও উত্তরাঞ্চলের অনেক যাত্রীকে ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়েছে। রংপুর, বুড়িমারী ও নীলসাগরসহ কয়েকটি ট্রেন নির্ধারিত সময়ের তুলনায় দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা দেরিতে ঢাকায় পৌঁছায়।
রংপুর এক্সপ্রেসের যাত্রী মো. আকতারুজ্জামান বলেন, “ছুটি শেষ হওয়ায় কর্মস্থলের তাগিদে দ্রুত ঢাকায় ফিরতে হয়েছে। তবে ট্রেনে অতিরিক্ত যাত্রীর কারণে বিশেষ করে নারী ও শিশুদের বেশ অসুবিধার মধ্যে পড়তে হয়েছে। পাশাপাশি যাত্রার সময়ও স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি লেগেছে।”
এ বিষয়ে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের ব্যবস্থাপক জানান, ঈদ-পরবর্তী সময়ে যাত্রীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় ট্রেন চলাচলে কিছুটা ধীরগতি দেখা দিয়েছে। তবে শিডিউল স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
শীর্ষনিউজ