Image description

অনেকেই প্রস্রাবের সমস্যাকে তেমন গুরুত্ব দেন না। প্রস্রাবে হালকা জ্বালাপোড়া, বারবার বাথরুমে যাওয়া, বা কোমরের নিচে ব্যথা - এসবকে অনেকে পানিশূন্যতা, বয়সের প্রভাব বা সাধারণ সংক্রমণ ভেবে এড়িয়ে যান। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীর অনেক সময় খুব সাধারণ কিছু সংকেতের মাধ্যমেই বড় রোগের ইঙ্গিত দেয়।

 

মূত্রনালির ক্যানসার - যেমন ব্লাডার, কিডনি, প্রোস্টেট বা ইউরেটার ক্যানসার; প্রথম দিকে অনেক সময় নীরবভাবেই শুরু হয়। শুরুতে লক্ষণগুলো এতটাই সাধারণ হতে পারে যে মানুষ বুঝতেই পারেন না ভেতরে গুরুতর কিছু ঘটছে। আর দীর্ঘদিন অবহেলা করলে রোগ ছড়িয়ে পড়তে পারে, তখন চিকিৎসা আরও জটিল হয়ে ওঠে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্লাডার ও কিডনি ক্যানসার শুরুতেই ধরা পড়লে চিকিৎসা অনেক বেশি সফল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

যেসব লক্ষণ অবহেলা করা উচিত নয়

 

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সতর্ক সংকেতগুলোর একটি হলো প্রস্রাবে রক্ত দেখা যাওয়া, এমনকি সেটা যদি একবারই হয় এবং কোনো ব্যথা না থাকে। চিকিৎসকদের মতে, এই লক্ষণ কখনোই হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়।

 

এ ছাড়া আরও কিছু লক্ষণ রয়েছে, যেগুলো দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি

 

  • ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া
  • প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া
  • প্রস্রাব নিয়ন্ত্রণে সমস্যা
  • প্রস্রাবের ধারা দুর্বল হয়ে যাওয়া
  • বিশেষ করে রাতে বারবার প্রস্রাবের চাপ অনুভব করা
  • তলপেট বা কোমরের নিচে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা

 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনেকেই এসব সমস্যাকে বয়সজনিত পরিবর্তন বা সাময়িক সংক্রমণ ভেবে এড়িয়ে যান। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে এমন লক্ষণ থাকলে তা মূত্রনালির ক্যানসারের প্রাথমিক ইঙ্গিত হতে পারে।

 

সমস্যা হলো, এই লক্ষণগুলো অনেক সময় ইউরিন ইনফেকশন বা প্রোস্টেট বড় হওয়ার সমস্যার সঙ্গেও মিলে যায়। তাই আসল কারণ জানতে সঠিক পরীক্ষা জরুরি। প্রয়োজন হলে চিকিৎসক ইউরিন টেস্ট, স্ক্যান বা সিস্টোস্কোপির মতো পরীক্ষা করতে পারেন।

 

দেরিতে ধরা পড়লে কেন ঝুঁকি বাড়ে?

 

বর্তমানে ক্যানসারের চিকিৎসা আগের চেয়ে অনেক উন্নত। তবে চিকিৎসকরা বলছেন, রোগ কত দ্রুত ধরা পড়ছে, সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

 

শুরুতেই ধরা পড়লে অনেক ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচার, রেডিয়েশন থেরাপি বা টার্গেটেড চিকিৎসার মাধ্যমে ভালো ফল পাওয়া সম্ভব। কিন্তু ক্যানসার যদি শরীরের অন্য অংশে ছড়িয়ে পড়ে, তখন চিকিৎসা দীর্ঘমেয়াদি ও কঠিন হয়ে যায়।

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক রেডিয়েশন প্রযুক্তি এখন অনেক বেশি নির্ভুলভাবে টিউমার টার্গেট করতে পারে। তবে রোগ যত আগে শনাক্ত হবে, চিকিৎসার সফলতার সম্ভাবনাও তত বেশি থাকবে।

 

কারা বেশি ঝুঁকিতে?

 

সব মূত্রজনিত সমস্যাই ক্যানসারের লক্ষণ নয়। তবে কিছু মানুষের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি—

 

  • ৫০ বছরের বেশি বয়সী ব্যক্তি
  • ধূমপায়ী
  • রাসায়নিক কারখানা বা শিল্পক্ষেত্রে কাজ করেন যারা
  • পরিবারের কারও মূত্রনালির ক্যানসারের ইতিহাস আছে যাদের
 

 

বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধূমপান ব্লাডার ক্যানসারের অন্যতম বড় ঝুঁকির কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়।

 

এ ছাড়া অনেক মানুষ লজ্জা বা সংকোচের কারণে এসব সমস্যা নিয়ে খোলাখুলি কথা বলতে চান না। ফলে মাসের পর মাস লক্ষণ থাকা সত্ত্বেও চিকিৎসকের কাছে যান না। এই দেরিই অনেক সময় বিপজ্জনক হয়ে দাঁড়ায়।

 

শরীরের সংকেতকে গুরুত্ব দিন

 

শরীর সাধারণত কোনো কারণ ছাড়া বারবার সংকেত দেয় না। কোনো সমস্যা যদি কয়েকদিন ধরে থাকে বা বারবার ফিরে আসে, তাহলে তা অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, ৪০ বা ৫০ বছরের পর নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা অনেক গোপন সমস্যা আগেই শনাক্ত করতে সাহায্য করতে পারে।

 

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো - লজ্জা বা ভয় কখনোই চিকিৎসা নেওয়ার পথে বাধা হওয়া উচিত নয়। আজকের ছোট একটি পরীক্ষা হয়তো ভবিষ্যতের বড় বিপদ এড়াতে সাহায্য করতে পারে।

 

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া