নওগাঁয় চলতি বোরো মৌসুমে ধান-চাল সংগ্রহে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কোথাও উৎপাদন বন্ধ থাকা মিলের সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছে, আবার কোথাও উৎপাদনে যাওয়ার আগেই সাধারণ ‘হাস্কিং মিল’কে কাগজ-কলমে ‘অটোমেটিক রাইস মিল’ দেখিয়ে দেয়া হয়েছে বরাদ্দ। এ ছাড়া বেশ কিছু মিলের উৎপাদন ক্ষমতার চেয়েও বেশি বরাদ্দ দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
খাদ্য বিভাগ এই অনিয়মের বিষয়ে সুস্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দিতে না পারলেও, তদন্তে ত্রুটি পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ‘আল-হেরা অটোমেটিক রাইস মিল’ নামের একটি বড় প্রতিষ্ঠানে ২০২০ সাল থেকে উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ। বিশাল এই মিলটির ভেতরে এখন এক ভুতুড়ে পরিবেশ বিরাজ করছে। সরকারের ধান-চাল সংগ্রহ নীতিমালা অনুযায়ী, চুক্তিবদ্ধ মিল মালিককে অবশ্যই তার নিজ মিল থেকে উৎপাদিত চাল সরবরাহ করতে হবে। অথচ এই বন্ধ মিলটির নামেই চালের বরাদ্দ বিভাজন করেছে খাদ্য বিভাগ।
এই বিষয়ে মিল মালিক জাহেদুজ্জামান বলেন, ব্যাংক লোনের (ঋণের) ওপর ভিত্তি করে যখন টানাটানি করে ধান কিনতে যাই, তখন দেখা যায় লাভের চেয়ে লোকসানই বেশি হয়। এই লোকসানের কারণেই মিলটি বন্ধ রয়েছে। আর এখন এখানে কাজ করার মতো লোকজনও বলতে গেলে নেই। তবে মিলটি এখনও চালু করার সুযোগ আছে বলে দাবি করেন তিনি। অন্যদিকে, চাল উৎপাদন হয় কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে মুঠোফোনে অপর এক মিল মালিক জানান, করলেই হয়, সবকিছু ওকে আছে।
অনিয়মের আরেকটি চিত্র দেখা গেছে শহরের বাইপাস এলাকার ‘আল-আলী এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ রাইস মিল’। মাত্র তিন মাস আগের আমন মৌসুমেও মিলটি ‘হাস্কিং মিল’ হিসেবে সরকারি বরাদ্দ পেয়েছিল। অথচ চলতি বোরো মৌসুমে রহস্যজনকভাবে সেটিকে ‘অটোমেটিক মিল’ হিসেবে দেখানো হয়েছে। যদিও শর্ত অনুযায়ী মিলটিতে বয়েলিং মেশিনসহ প্রয়োজনীয় কোনো যন্ত্রপাতি দেখাতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। উল্টো এই অনিয়মের সংবাদ প্রচার বন্ধ করতে গণমাধ্যমকর্মীদের ঘুষ দেয়ার চেষ্টা করেন মিল মালিক।
এদিকে মাত্র এক মৌসুমের ব্যবধানে কিছু কিছু মিলের উৎপাদন সক্ষমতা কাগজের কলমে বাড়িয়ে অতিরিক্ত বরাদ্দ বন্টন করার অভিযোগ উঠেছে। অবশ্য মিল মালিকদের দাবি, মিলগুলোতে ভারী যন্ত্রাংশ সংযোজন করা হয়েছে এবং সবকিছু নিয়ম মেনেই করা হয়েছে।
এই অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে নওগাঁ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ফরহাদ খন্দকার বলেন, শত শত মিল আমার একার পক্ষেও দেখা সম্ভব না। মাঠপর্যায় থেকে হয়তো রিপোর্ট আসছে যে না মিল ঠিক আছে। ওরা (মিল মালিকরা) হাতে-পায়ে ধরে, দিয়ে দিছে রিপোর্ট। পরে দেখা যাচ্ছে যে আসলে মিলটা অপারেট করতে পারতেছে না। তবে তিনি দাবি করেন, এর আগেও বরাদ্দ দেয়ার পর অনিয়ম ধরা পড়ায় তারা বরাদ্দ বাতিল করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছেন।
উল্লেখ্য, চলতি মৌসুমে নওগাঁ জেলায় সেদ্ধ ও আতপ মিলিয়ে মোট ৫৬ হাজার ৭৪৯ মেট্রিকটন চাল কেনার বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এই বরাদ্দের বিপরীতে বিভাজন তালিকায় চার শতাধিক মিলারের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।