Image description

উগ্র ডানপন্থি আদর্শ, অ্যালগরিদমের তৈরি ঘৃণা আর ডিজিটাল কোন্দলে ভরা এক চরম অশান্ত সময়ে বড় হচ্ছে আজকের তরুণ প্রজন্ম বা ‘জেন-জি’। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম যেখানে শান্তির বার্তা ছড়ানোর কথা ছিল, সেখানে তা এখন পরিণত হয়েছে একে অপরের প্রতি বিদ্বেষ প্রকাশের হাতিয়ারে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কট্টরপন্থার ছড়াছড়ি দেখা গেছে গত কয়েক বছরে। পূর্ব থেকে পশ্চিম, সবখানেই আজ বিভাজনের রাজনীতি। এমন এক বৈরী ও খণ্ডবিখণ্ড বাস্তবতায় টিকে থাকতে এই প্রজন্মের তরুণেরা বেছে নিচ্ছে এক অভিনব পথ, যাকে বলা হচ্ছে ‘কিডাল্টিং’।

সহজ কথায়, প্রাপ্তবয়স্ক হয়েও অবিকল শিশুদের মতো আচরণ বা জীবনযাপনে স্বস্তি খোঁজা। জেন-জি তরুণেরা এখন নরম তুলতুলে খেলনা জমিয়ে রাখছে, শৈশবের কার্টুনগুলো বারবার দেখছে, লেগো দিয়ে স্মৃতিস্তম্ভ বানাচ্ছে কিংবা ডিআইওয়াই পেইন্টিং করছে। এই আচরণ কেবল বাস্তবতা থেকে পালিয়ে বেড়ানো বা পলায়নপরতা নয়; বরং মানসিকভাবে টিকে থাকার এক লড়াকু কৌশল। এর মাধ্যমে তারা নিজেদের ভেতরের ক্ষতগুলো সারিয়ে তোলার চেষ্টা করছে।

যেমন লন্ডনের বিখ্যাত ব্র্যান্ড ‘জেলিকেট’ এমন এক ভালোবাসার জগত তৈরি করেছে, যেখানে খেলনা পুতুলেরা যেন সত্যি সত্যি শ্বাস নেয়, বাঁচে এবং তাদের যত্ন নেওয়া হয়। তরুণরা এসব খেলনার জন্মনিবন্ধন সনদ বানাচ্ছে, নাম দিচ্ছে। যেমন এক ১৯ বছর বয়সী তরুণ তার প্লাশ টয় অক্টোপাসের নাম দিয়েছেন ‘টোটো’। এই অস্থির অর্থনীতি ও বৈরী সময়ে এই টোটোই হয়ে উঠেছে তার মানসিক আশ্রয়।

শুধু খেলনাই নয়; মার্ডার মিস্ট্রি গেম, এস্কেপ রুম বা লেগো ব্লগের মতো কাল্পনিক দুনিয়ায় ডুবে থাকছে তারা। এই খেলায় কোনও পাসপোর্ট লাগে না, কোনও ভেদাভেদ থাকে না। যখন দুজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ কোনও খেলনা পুতুলের অস্তিত্বকে মনেপ্রাণে মেনে নেয়, তখন একে অপরকে ‘শত্রু’ বা ‘আলাদা’ ভাবা কঠিন হয়ে পড়ে।

তবে এই ‘কিডাল্টিং’ বা শৈশবের নস্টালজিয়ায় ফেরার আন্দোলনের মধ্যেও একটি বড় বৈষম্য রয়েছে। এই আবেগীয় বিপ্লব তখনই সফল হবে, যখন সবার শৈশবের স্মৃতিগুলো সমান বা অন্তর্ভুক্তিমূলক হবে। এক শিশু যখন ট্রাম্পোলিনে খেলবে আর অন্য শিশু শুধু পাথর আর লাঠি নিয়ে পড়ে থাকবে, তখন এই স্মৃতি দিয়ে বিভেদ দূর করা সম্ভব নয়।

 

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস অবলম্বনে।