জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেতা শামস সুমন হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে না-ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটের দিকে কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে তিনি রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
মৃত্যুর আগে হাসপাতালে কী ঘটেছিল তা জানালেন মাসুদ রানা মিঠু। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, “আমি এসে দেখলাম সুমন ভাইকে এমআরআই কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এমআরআই শেষে আস্তে আস্তে হেঁটে বের হয়ে আসলেন। আমাদের দিকে তাকিয়ে একটু হাসলেন। বললাম, ‘ভাই আছি’। এরপর জামাকাপড় পরিবর্তন করতে গিয়ে পড়ে যান। পড়ে যাওয়া দেখে আমরা কয়েকজন মিলে ধরে তুললাম। তখন ‘ও আল্লাহ, ও মা’ করতে করতে জরুরি বিভাগে আসলেন। সেখানে দীর্ঘ ৪০ মিনিট ধরে সুমন ভাইকে বাঁচানোর চেষ্টা করা হলো। কিন্তু তিনি আর ফিরলেন না।”
শামস সুমনের জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার (১৮ মার্চ) সকাল ১১টায় তাঁর মরদেহ চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে নেওয়া হয়, যেখানে জানাজায় অংশ নেন সহশিল্পী, নির্মাতা ও কলাকুশলীরা। লন্ডন থেকে পরিবারের আগমনের পর তাঁর দাফন সম্পন্ন হবে।
শামস সুমন দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। সম্প্রতি শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং নিবিড় পর্যবেক্ষণের সময় তাঁর মৃত্যু ঘটে।
শামস সুমনের ক্যারিয়ার শুরু হয়েছিল মঞ্চ নাটকের মাধ্যমে। পরে তিনি টিভি নাটকে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। তাঁর ঝুলিতে অসংখ্য জনপ্রিয় নাটক রয়েছে। তিনি সুপরিচিত অভিনেতা হিসেবে ‘রেডিও ভূমি’তে স্টেশন চিফ হিসেবেও কাজ করেছেন।
২০০৮ সালে ‘স্বপ্নপূরণ’ চলচ্চিত্রে পার্শ্বচরিত্রে শ্রেষ্ঠ অভিনেতা হিসেবে শামস সুমন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন।