শোয়েব সাম্য সিদ্দিক
সুইস ন্যাশনাল ব্যাংকের ২০২৫ সালের প্রতিবেদন বেরোনোর পর একটা তথ্য চোখে পড়েছিল। বিশ্বজুড়ে সুইস ব্যাংকে আমানত কমেছে, কিন্তু বাংলাদেশিদের জমা বেড়েছে ৪১ শতাংশ। মোট দাঁড়িয়েছে ৮৩ কোটি ৪১ লাখ সুইস ফ্র্যাংক, বাংলাদেশি টাকায় প্রায় সাড়ে ১২ হাজার কোটি। এক বছরে নতুন করে গেছে প্রায় চার হাজার কোটি টাকা। মজার বিষয় হলো, ঠিক এই সময়টায় অন্তর্বর্তী সরকার পাচারের অর্থ ফেরানোর জন্য সবচেয়ে বেশি সরব ছিল। টাস্কফোর্স গঠন হয়েছিল, বিদেশে লবিস্ট নিয়োগ হয়েছিল, কেপিএমজি, ডেলয়েট, ইওয়াইকে তদন্তের ভার দেওয়া হয়েছিল। আর সেই তৎপরতার ভেতরেই চার হাজার কোটি টাকা বাইরে চলে গেছে।
সুইস ব্যাংকে টাকা রাখার টান কোথায়
ফলে প্রশ্ন উঠতেই পারে, এত উদ্যোগের পরও নতুন করে টাকা বাইরে গেল কীভাবে? প্রশ্নটা স্বাভাবিক— অন্তর্বর্তী সরকার যখন পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনা ও অর্থপাচার রোধে এতটা সরব ছিল, তখনও কেন বিপুল পরিমাণ অর্থ সুইস ব্যাংকে জমা পড়লো? শুধু লোভ বললে উত্তরটা অসম্পূর্ণ থাকে। সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকিং গোপনীয়তার শিকড় ১৭১৩ সাল থেকে। যুদ্ধের সময় মানুষ সেখানে টাকা রাখতেন নিরাপত্তার জন্য। সেই সুনাম আজও টিকে আছে। জমা রাখা অর্থের তথ্য তৃতীয় পক্ষকে দেওয়া সুইস আইনে দীর্ঘদিন শাস্তিযোগ্য অপরাধ ছিল। এখন আন্তর্জাতিক চাপে কিছুটা শিথিল হয়েছে—অপরাধের প্রমাণ থাকলে তথ্য দিতে হয়। কিন্তু চুক্তি ছাড়া তথ্যবিনিময় এখনও হয় না। যে দেশের সঙ্গে সুইজারল্যান্ডের দ্বিপাক্ষিক তথ্যবিনিময় চুক্তি নেই, সেই দেশের নাগরিকের অ্যাকাউন্টের খবর বের করা কার্যত অসম্ভব। বাংলাদেশের সঙ্গে এই চুক্তি এখনও হয়নি।
দ্বিতীয় কারণটা মনস্তাত্ত্বিক। দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলে সম্পদ বাজেয়াপ্ত হওয়ার ভয় থাকে। সুইস ব্যাংক সেই ভয় থেকে একটা নিরাপদ দূরত্ব দেয়। বিগত সময়ে ক্ষমতার বলয়ের সঙ্গে যুক্ত অনেকের কাছে সুইস ব্যাংক ছিল সম্পদ সুরক্ষার এক ধরনের নিরাপদ আশ্রয়, যেখানে দেশের ভেতরের তুলনায় অর্থ জব্দ হওয়ার আশঙ্কা কম বলে মনে করা হয়। অনেকের কাছে তাই সুইস ব্যাংক শুধু একটি ব্যাংক নয়, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার বিরুদ্ধে এক ধরনের নিরাপদ আশ্রয়।
তৃতীয় কারণটা কাঠামোগত। সুইস ফ্র্যাংক বিশ্বের অন্যতম স্থিতিশীল মুদ্রা। বাংলাদেশি টাকার বিপরীতে এর মান ক্রমাগত বেড়েছে। যিনি ১০ বছর আগে সুইস ব্যাংকে টাকা রেখেছেন, তিনি শুধু সুদেই নয়, মুদ্রার মানবৃদ্ধিতেও লাভবান হয়েছেন।
অর্থাৎ, সুইস ব্যাংকে টাকা রাখার পেছনে আছে গোপনীয়তার নিশ্চয়তা, রাজনৈতিক ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা এবং মুদ্রামান স্থিতিশীলতা- এই তিনটি টান। এই টান ভাঙতে হলে শুধু ধরার হুমকি দিলে হবে না, ধরার সত্যিকারের ব্যবস্থা করতে হবে। আর সেটার শুরু সুইজারল্যান্ডের সঙ্গে এমওইউ বা তথ্যবিনিময় চুক্তি দিয়ে।
অন্তর্বর্তী সরকার কী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল
২০২৪ সালের আগস্টে দায়িত্ব নেওয়ার পর অন্তর্বর্তী সরকার পাচারকৃত অর্থ উদ্ধারের বিষয়টিকে অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে ঘোষণা করে। বিদেশে পাচার হওয়া সম্পদ শনাক্ত ও ফেরত আনার জন্য একাধিক সময়সীমা নির্ধারণ করা হয় এবং আশাবাদী প্রত্যাশার কথাও জানানো হয়। এ লক্ষ্যে আন্তসংস্থা টাস্কফোর্স পুনর্গঠন, বিদেশি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ, বিভিন্ন দেশে আইনি সহায়তা চেয়ে চিঠি পাঠানোসহ বেশ কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়। একই সময়ে প্রকাশিত এক শ্বেতপত্রে গত দেড় দশকে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার হওয়ার তথ্য সামনে আসে, যা বিষয়টির গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দেয়।
সে সময় সরকারি বক্তব্যে স্পষ্ট ইঙ্গিত ছিল, অতীতের তুলনায় এবার অর্থ উদ্ধারে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যাবে। তবে এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত ফলাফল সেই প্রত্যাশার সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বিভিন্ন দেশ থেকে তথ্য সংগ্রহের কাজ এগোলেও পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফেরানোর ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্য এখনও দেখা যায়নি। অর্থাৎ অনুসন্ধান ও প্রস্তুতির প্রক্রিয়া চললেও মূল লক্ষ্য অর্জনের পথ এখনো দীর্ঘ।
অর্থ ফেরানোর পাঁচ ধাপ এবং কোথায় আটকে আছে বাংলাদেশ
অর্থ ফেরানোর পথ মোটেও সহজ নয়। আন্তর্জাতিকভাবে পাচারকৃত অর্থ ফেরাতে কয়েকটি ধাপ পার হতে হয়। অভিযুক্ত শনাক্ত করা, সম্পদ জব্দ করা, তদন্ত, আদালতের রায় এবং শেষ পর্যন্ত গন্তব্য দেশের সহযোগিতা। বাংলাদেশ কিছু অগ্রগতি করলেও সবচেয়ে কঠিন ধাপগুলো এখনও বাকি। আরেকটি বড় সমস্যা তথ্য সংগ্রহ। পাচার হওয়া অর্থের পথ সাধারণত সরল নয়। বাংলাদেশ থেকে অর্থ প্রথমে দুবাই, সিঙ্গাপুর বা হংকংয়ে গিয়ে পরে সুইজারল্যান্ড, কানাডা, যুক্তরাজ্য কিংবা কেইম্যান আইল্যান্ডসের মতো গন্তব্যে পৌঁছায়। ফলে অর্থের পুরো গতিপথ শনাক্ত করা এবং আদালতে তা প্রমাণ করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। সেই মানের আইনি নথি তৈরিতে বাংলাদেশের সক্ষমতা এখনও সীমিত।
এ কারণেই পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা দীর্ঘ ও জটিল প্রক্রিয়া। বাংলাদেশের একমাত্র সফল উদাহরণ ফেয়ারহিল মামলায়ও প্রায় তিন বছর সময় লেগেছিল। টিআইবির তথ্য অনুযায়ী, উন্নয়নশীল দেশগুলো গড়ে পাচার হওয়া অর্থের মাত্র এক শতাংশ ফেরত পায়, তাও সাত-আট বছর পর। সেই বাস্তবতায় ছয় মাসে বড় সাফল্যের প্রত্যাশা শুরু থেকেই বেশ আশাবাদী ছিল।
প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা যেখানে
পাচার প্রতিরোধ আর পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধার— এই দুটোর দায়িত্ব মূলত বিএফআইইউর ওপর। সংস্থাটির কাজ হলো পাচারকৃত অর্থের গতিপথ নথিভুক্ত করা, তারপর দুদক, এনবিআর বা সিআইডি তদন্ত করে মামলা করবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে, অনেক মানি লন্ডারিং মামলায় এনবিআর, কাস্টমস, বিএফআইইউ —এই সংস্থাগুলোকে সাক্ষীই রাখা হয়নি। যে প্রতিষ্ঠানের স্বাক্ষর ছাড়া পণ্য আমদানি-রফতানি হয় না, তাকে বাদ দিয়ে আমদানিতে ওভার ইনভয়েসিংয়ের মামলা করা হয়েছে। এই মামলা আদালতে কতদূর যাবে, সেটা আন্দাজ করা কঠিন নয়।
একটু সহজ উদাহরণ দেওয়া যাক। একটা গার্মেন্টস রফতানিকারক যদি পণ্যের দাম কম দেখিয়ে বিদেশে পাঠায়, তাহলে বাকি টাকাটা বাইরেই থেকে যায়। এই ওভার বা আন্ডার ইনভয়েসিং ঠেকাতে কাস্টমস আর ব্যাংকের সমন্বয় জোরদার না করলে পাচার চলতেই থাকবে। অথচ শুল্ক গোয়েন্দার সক্ষমতা বাড়ানো হয়নি, হুন্ডি নেটওয়ার্ক আগের মতোই সক্রিয়।
সুইস ব্যাংকের সঙ্গে তথ্যবিনিময়ের চুক্তির প্রসঙ্গটাও এখানে বলা দরকার। ভারত এই চুক্তি করেছে অনেক আগে। বাংলাদেশ ব্যাংক আর দুদকের মধ্যে বছরখানেক চিঠি চালাচালি হয়েছে। ফল শূন্য। কারা কত টাকা পাঠিয়েছে, সেটা না জানলে মামলা করা যায় না, মামলা না করলে অর্থ ফেরানোর কথা ভাবা যায় না।
বিএফআইইউকে শক্তিশালী করার কথা সব সরকারের আমলেই বলা হয়। কিন্তু বাস্তবে বিভিন্ন সময়ে সংস্থাটির কিছু কর্মকর্তার যোগসাজশেই পাচার হয়েছে বলে অভিযোগ আছে। এই প্রতিষ্ঠানকে কার্যত ঢেলে না সাজালে বাকি উদ্যোগ কোথাও না কোথাও আটকে যাবেই।
অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে সমালোচনা কতটা ন্যায্য
অন্তর্বর্তী সরকার ১৮ মাসে এক ডলারও ফেরাতে পারেনি। এই ব্যর্থতাকে কেউ কেউ কৌশলগত জটিলতার ফল বলে সাফাই দেন। কিন্তু এই সাফাই আংশিক সত্য হলেও সম্পূর্ণ সত্য নয়।
হ্যাঁ, আন্তর্জাতিক অর্থ উদ্ধারের প্রক্রিয়া দীর্ঘ। সিঙ্গাপুরের আদালতে বাংলাদেশের একমাত্র সফল মামলায় মাত্র এক মিলিয়ন ডলার ফেরাতে তিন বছর লেগেছিল। সুইজারল্যান্ড বা কানাডার মতো জায়গায় এই সময়সীমা আরও দীর্ঘ হওয়াটাই স্বাভাবিক। কিন্তু এই যুক্তি দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারকে নিরঙ্কুশ ছাড় দেওয়া যায় না।
কারণ আসল ব্যর্থতা অন্য জায়গায়। সুইস ব্যাংকে ২০২৫ সালে বাংলাদেশিদের আমানত ৪১ শতাংশ বেড়েছে, ঠিক সেই সময়ে যখন এই সরকার পাচার রোধের কথা বলছিল। পুরোনো পাচারকারীদের বিচারের আয়োজন চলছে, অথচ নতুন পাচারের দরজা খোলাই রয়ে গেছে। ট্রেড ইনভয়েস ম্যানিপুলেশন মোটামুটি অবাধ, রিয়েল এস্টেট খাতে কালো টাকার প্রবেশ ঠেকাতে কোনও কার্যকর পদক্ষেপ নেই।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে অতীতের পাচারকাণ্ড তদন্তে সক্রিয়তা দেখা গেলেও নতুন অর্থপাচারের পথগুলো কার্যকরভাবে বন্ধ করা যায়নি। এই দ্বিচারিতাই সমালোচনার সবচেয়ে বড় ভিত্তি।
বর্তমান বিএনপি সরকারের সামনে করণীয়
ক্ষমতার পালাবদল হয়েছে ফেব্রুয়ারিতে, কিন্তু আসল চ্যালেঞ্জ শুরু হয়েছে তারপরই। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংসদে জানিয়েছেন, ১১টি অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত মামলায় আইনি প্রক্রিয়া এগোচ্ছে। মালয়েশিয়া, হংকং ও সংযুক্ত আরব আমিরাত চুক্তিতে রাজি হয়েছে, বাকি সাতটি দেশের সঙ্গে আলোচনা চলছে। কাগজে-কলমে এটাকে অগ্রগতি বলা যায়। কিন্তু সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের আমানত যেভাবে বাড়ছে, তাতে বোঝা যায়, অর্থপাচারের উৎসমুখ এখনও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।
এখানেই তিনটি বাস্তবতা সামনে আসে। প্রথমত, ধারাবাহিকতা। আন্তর্জাতিক মামলা বছরের পর বছর ধরে চলে। সরকার বদলালে এর দায়িত্ব কারা বহন করবেন, আর বিএনপি-ঘনিষ্ঠ সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধে সরকার কতটা সক্রিয় থাকবে, সেটাই বড় প্রশ্ন। দ্বিতীয়ত, নতুন পাচার ঠেকানো। বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা বলে, ক্ষমতা বদলের সঙ্গে নতুন সুবিধাভোগী গোষ্ঠীও তৈরি হয়। সুইস ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য সেই আশঙ্কাকেই উসকে দেয়। তৃতীয়ত, আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা। পাচারের অর্থ ফেরাতে যেসব দেশের সহযোগিতা দরকার, তারা সাধারণত রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বিবেচনা করে। নির্বাচন বা জনসমর্থন নিয়ে বিতর্ক তৈরি হলে সেই সহযোগিতা পাওয়াও কঠিন হয়ে যেতে পারে।
মামলা চালানো বা চুক্তি স্বাক্ষর করা কেবল শুরু। শেষ পর্যন্ত সফলতা নির্ভর করবে সরকার এই তিনটি ক্ষেত্র কতটা ধারাবাহিকতা, নিরপেক্ষতা ও ধৈর্যের সঙ্গে সামলাতে পারে তার ওপর।
আসলে যেটা করা দরকার
পাচার ঠেকানো এবং পুরনো পাচারের অর্থ ফেরানো — এই দুটোকে আলাদা কৌশলে দেখতে হবে। পাচার ঠেকানোর জন্য সুইজারল্যান্ডের সঙ্গে তথ্যবিনিময়ের চুক্তি সই করতে হবে। আমদানি-রফতানি চালানের যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করতে হবে। কাস্টমসে বিশেষায়িত মানি লন্ডারিং ইউনিট করতে হবে। হুন্ডি চ্যানেল বন্ধে ব্যাংকিং নজরদারি বাড়াতে হবে এবং সবচেয়ে জরুরি, বিএফআইইউকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করে সত্যিকারের স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
পুরোনো অর্থ ফেরাতে হলে প্রথমে দেশের আদালতে মামলার গতি বাড়াতে হবে। বাংলাদেশে একটা মামলা শেষ হতে ১৬-১৭ বছর লাগে। সেই গতিতে বিদেশ থেকে অর্থ আনার স্বপ্ন দেখা যাবে না। বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে মানি লন্ডারিং মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি, দশটি অগ্রাধিকার দেশে দ্বিপাক্ষিক আইনি সহায়তা চুক্তি স্বাক্ষর শেষ করতে হবে। আন্তর্জাতিক লিগ্যাল ফার্ম নিয়োগেও সতর্কতা জরুরি— টিআইবি এই বিষয়ে সতর্ক করেছে যে যেসব ফার্ম পাচারে সহায়তা করে, তারাই আবার পাচারের অর্থ উদ্ধারের কাজও করে। এবং সবচেয়ে কঠিন কাজটা হলো, যে দেশগুলো পাচারকৃত অর্থ রেখে নিজেদের বিনিয়োগ বলে দেখাচ্ছে, তাদের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা করে একটা বোঝাপড়ায় পৌঁছানো। মালয়েশিয়ার ‘সেকেন্ড হোম’ প্রকল্পে পাচারের টাকায় বিনিয়োগ করা হয়েছে, যেটা মালয়েশিয়ার আইনে বৈধ। সেই দেশ কেন নিজের অর্থনীতিতে আসা বিনিয়োগ ফেরত দিতে উৎসাহী হবে? এই প্রশ্নের উত্তর কূটনৈতিক দরকষাকষিতে, আইনি চিঠিতে নয়।
শেষ কথা
পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা দীর্ঘ ও জটিল প্রক্রিয়া। আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা বলছে, উন্নয়নশীল দেশগুলো গড়ে পাচার হওয়া অর্থের খুব সামান্য অংশই ফেরত পায়, আর তাতেও কয়েক বছর সময় লাগে। ফলে দ্রুত ফলের চেয়ে দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতিই এখানে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও সবচেয়ে বড় প্রয়োজন শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, দক্ষ তদন্ত এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা। সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে যেন তদন্ত বা আইনি প্রক্রিয়া থেমে না যায়, সে ব্যবস্থাও নিশ্চিত করতে হবে। একইসঙ্গে রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে অর্থপাচারের বিরুদ্ধে সমান অবস্থান নেওয়া জরুরি।
এখন পর্যন্ত পাচার হওয়া অর্থ ফেরানোর ক্ষেত্রে বড় কোনও সাফল্য আসেনি, এটি বাস্তবতা। তবে নতুন করে অর্থপাচার বন্ধ না করতে পারলে ভবিষ্যতেও কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া কঠিন হবে। তাই বিদেশে চলে যাওয়া অর্থ উদ্ধারের পাশাপাশি অর্থপাচারের পথগুলো বন্ধ করাও সমান গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে। তাহলেই এই লড়াইয়ে টেকসই অগ্রগতি সম্ভব।
লেখক: অর্থনৈতিক বিশ্লেষক