চাহিদা অনুযায়ী গ্রাহকদের মেয়াদি আমানতের টাকা ফেরত দিচ্ছে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক। অর্থ ফেরত দেওয়ার চলমান প্রক্রিয়াকে স্বাগত জানিয়েছেন গ্রাহকরা। আর অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংক খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ উদ্যোগ গ্রাহক পর্যায়ে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রশমনে বড় ভূমিকা রাখছে ঠিকই, তবে তাদের আস্থা ফিরিয়ে দীর্ঘমেয়াদি লাভজনক ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং তা ধরে রাখাটাই এখন ব্যাংকটির জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস পর্যন্ত চার দিনে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক থেকে প্রায় ১ হাজার ৪৩১ কোটি টাকা তুলেছেন গ্রাহকরা। ৭ সেপ্টেম্বর এই কার্যক্রম শুরু হয়। গ্রাহকদের অর্থ ফেরত দিতে ৬ সেপ্টেম্বর ব্যাংকটিকে প্রথম দফায় ৫ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বিপরীতে এ পর্যন্ত প্রায় ৩ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা তুলে নেওয়ার আবেদন জমা পড়েছে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, যেকোনো ব্যাংকের ব্যবসার মূল ভিত্তি হলো গ্রাহকের আস্থা। আমানতের টাকা নিরাপদে থাকবে—এমন আস্থা থেকেই ব্যাংকে টাকা জমা রাখেন গ্রাহকরা। কিন্তু শরিয়াহভিত্তিক সাবেক পাঁচ ব্যাংকের বিপুল পরিমাণ খেলাপি ঋণ, দীর্ঘমেয়াদি তারল্য সংকট ও দীর্ঘ সময় ধরে আমানতের টাকা ফেরত দিতে না পারার বিষয়টি গ্রাহকদের আস্থায় বড় ধরনের চিড় ধরিয়েছে। এ আস্থা পুনরুদ্ধারে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের যথাযথ পদক্ষেপের পাশাপাশি সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে আদর্শ ব্যাংকিং চর্চা প্রতিষ্ঠাও জরুরি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ সহায়তার ভিত্তিতে মেয়াদি আমানতের অর্থ ফেরত দিতে পারলেও এর বিপরীতে জমা হওয়া মুনাফা বা লভ্যাংশের অর্থ দিতে পারছে না সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক। এ বিষয়টিও গ্রাহকের আস্থার সংকটকে আরো বাড়িয়ে তুলছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক মূখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হাসান এ প্রসঙ্গে স্ট্রিমকে বলেন, ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ গ্রাহকদের আস্থা ফিরিয়ে আনা। একীভূত পাঁচটি দুর্বল ব্যাংকই গভীর সংকটে ছিল। ফলে নতুন ব্যাংক গঠন করলেই রাতারাতি আস্থা ফিরে আসবে, এমনটা ভাবার সুযোগ নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘একাধিক দুর্বল ব্যাংক একীভূত করে এভাবে নতুন ব্যাংক গঠনের নজির আগে দেখা যায়নি। বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, তাদের ধারণার তুলনায় আমানতকারীরা টাকা তুলছেন কম। তবে এটিকে গ্রাহকদের আস্থা ফিরে আসার প্রমাণ হিসেবে দেখার আগে আরও কিছুদিন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। কত টাকা উত্তোলন হয়েছে, অর্থ পরিশোধের সক্ষমতা কতটা এবং ব্যাংকটি সচল রাখতে ভবিষ্যতে আরও কত অর্থের প্রয়োজন হবে, এসব বিষয়ও স্পষ্ট হওয়া জরুরি।’
ড. জাহিদ হাসান বলেন, ‘আমানতকারীদের সামনে এখন মূলত দুটি বিকল্প রয়েছে। এখন টাকা তুললে গ্রাহকরা প্রত্যাশিত অর্থের চেয়ে কম (মুনাফা ছাড়া) পাবেন। অথবা অপেক্ষা করে ব্যাংক ঘুরে দাঁড়ানোর পর ভবিষ্যতে পুরো অর্থ (মুনাফাসহ) পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গ্রাহকরা দ্বিতীয় বিকল্পও বেছে নিতে পারেন। তাই তুলনামূলক কম টাকা উত্তোলনকে এখনই আস্থার সংকট কমে যাওয়ার চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে দেখা ঠিক হবে না।’
আমানতের টাকা ফেরত দেওয়ার বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে স্বস্তি দিলেও গ্রাহকদের আস্থা ফেরানোর জন্য আদর্শ ব্যাংকিং চর্চা ও সুশাসন ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদ ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগসের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. ফাহমিদা খাতুন। পাশাপাশি সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের যথাযথ নীতিগত সহায়তাও প্রয়োজন বলে মনে করছেন তিনি।
স্ট্রিমকে তিনি বলেন, ‘মেয়াদি আমানতের অর্থ ফেরত শুরু হওয়া ইতিবাচক। এতে তাৎক্ষণিক স্বস্তি মিলবে। তবে টেকসই আস্থা ফিরবে নিয়মিত অর্থ পরিশোধ, স্বচ্ছ তথ্য প্রকাশ ও বিশ্বাসযোগ্য পুনর্গঠন পরিকল্পনার মাধ্যমে। গ্রাহকরা টাকা তুলে নতুন আমানত না রাখলে ব্যাংকটি তারল্যসংকট, ঋণ বিতরণে সীমাবদ্ধতা ও আয় কমার চাপে পড়বে। এজন্য পর্যাপ্ত মূলধন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সময়মত সহায়তা, পেশাদার ব্যবস্থাপনা ও আমানত সংগ্রহ জরুরি। সংকটের স্থায়ী সমাধানের জন্য পুরোনো খেলাপি ঋণ উদ্ধার, সম্পদের মান যাচাই এবং দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।’
অর্থ ফেরত পাওয়ার পর আপাতত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে নতুন করে আমানত রাখার কথা ভাবছেন না বলে জানিয়েছেন অনেক গ্রাহক। সাইদুল ইসলাম (ছদ্মনাম) তাদের একজন। টাকা ফেরত দেওয়া শুরুর পর সাবেক সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকে খোলা একটি মেয়াদি আমানতের অর্থ তুলে নিয়েছেন তিনি। একীভূত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে নতুন করে অর্থ রাখার কোনো আগ্রহ নেই বলে জানিয়েছেন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের এই চাকরিজীবী। স্ট্রিমকে তিনি বলেন, ‘আমার আমানতের মেয়াদ পূরণ হয়েছে তিনবার। যদিও ব্যাংক থেকে কোনো মুনাফা পাইনি। মুনাফা না পেলেও সমস্যা নেই। টাকা ফেরত পেয়েছি, এতেই আমি খুশি। এখানে টাকা রাখাই আমার বড় ভুল হয়েছিল। এরপর আর এখানে নতুন করে টাকা রাখার কোনো অর্থ হয় না।’
ভবিষ্যতে ব্যাংকের পরিস্থিতি কেমন হলে আবার টাকা জমা রাখার কথা বিবেচনা করবেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘দেখুন, আস্থা ও বিশ্বাসে একবার চিড় ধরলে তা ফেরত আনা মুশকিল। পাঁচ ধুঁকতে থাকা ব্যাংককে একীভূত করে সবচেয়ে বড় শরিয়াহভিত্তিক রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক গঠন করা হয়েছে ঠিকই। কিন্তু এর ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে গুড ব্যাংকিং প্র্যাকটিস এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের যথাযথ পদক্ষেপ ও দিকনির্দেশনার ওপর। সবচেয়ে বেশি জরুরি প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপ ও খেলাপি ঋণের সংস্কৃতি নির্মূল করা। আমরা অতীতে জনতা ব্যাংকের মতো ভালো ব্যাংককেও খেলাপি ঋণে জর্জরিত হয়ে মারাত্মক সংকটে পড়তে দেখেছি। যদি সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক সে পথে না গিয়ে ভালো ব্যাংক হিসেবে সুনাম প্রতিষ্ঠা করতে পারে, তাহলে হাতে টাকা থাকলে এখানে আমানত রাখতে তো আপত্তির কিছু নেই।’
পাঁচ ব্যাংক মিলে এক
মূলধন সংকট ও খেলাপি ঋণে জর্জরিত ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও এক্সিম ব্যাংক একীভূত করে ২০২৫ সালের নভেম্বরে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করে বিগত অন্তর্বর্তী সরকার।
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের অনুমোদিত মূলধন ৪০ হাজার কোটি টাকা। পরিশোধিত মূলধন ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ২০ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে সরকার, যার মধ্যে ১০ হাজার কোটি টাকা নগদ। বাকিটা সুকুক বন্ডের মাধ্যমে জোগান দেওয়ার কথা। বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকা আসবে আমানতকে শেয়ারে রূপান্তরের মাধ্যমে।
বিপুল খেলাপি ঋণে তারল্য সংকট ও সাময়িক সমাধানের চেষ্টা
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এস আলম গ্রুপসহ ক্ষমতাঘনিষ্ঠদের অনেকেই শরিয়াহভিত্তিক পাঁচ ব্যাংক থেকে নামে-বেনামে বিপুল অর্থ ঋণ নিয়েছেন। সে টাকার সিংহভাগই আর ব্যাংকে ফেরত দেননি তারা। এতে মারাত্মক তারল্য সংকটে পড়ে যায় ব্যাংকগুলো।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, একীভূত ব্যাংকগুলোর মধ্যে খেলাপি ঋণের হারে শীর্ষে ছিল ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক। ব্যাংকটির বিতরণকৃত ঋণের ৯৭ শতাংশের বেশি খেলাপি হয়ে পড়েছিল। গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকেরও ৯৭ শতাংশের বেশি ঋণ খেলাপি হয়। ইউনিয়ন ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হারও কাছাকাছি—প্রায় ৯৭ শতাংশ। এছাড়া এক্সিম ব্যাংকের প্রায় ৭১ শতাংশ ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের ৭৮ শতাংশের বেশি ঋণ খেলাপি হয়।
পরবর্তীতে এসব ব্যাংকের নিয়মিত কার্যক্রম চলছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে নিয়মিত তারল্য সহায়তার ভিত্তিতে। যথাযথ পদক্ষেপের পরিবর্তে সাময়িক এ সমাধান ভবিষ্যৎ পরিস্থিতিকে আরও সংকটময় করে তুলতে পারে বলে সে সময় আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন অর্থনীতিবিদ ও খাতসংশ্লিষ্টরা।
গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে নিয়মিত তারল্য সহায়তা বন্ধ হয়ে গেলে ব্যাংকগুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রমে বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটে। এমনকি অনেক শাখায় লেনদেন পুরোপুরি বন্ধও হয়ে পড়ে। পরে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে টাকা ছাপিয়ে সরবরাহ করা হলে কিছুদিনের জন্য ব্যাংকিং কার্যক্রম চালাতে সক্ষম হয় ব্যাংকগুলো।
সে সময় টাকা ফেরত দিতে না পারায় ব্যাংক পাঁচটির গ্রাহকদের মধ্যে বড় ধরনের অসন্তোষ ও উৎকণ্ঠা দেখা দেয়। এমন প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন শাখায় অপ্রীতিকর ঘটনার নজিরও রয়েছে।
সে সময় ব্যাংকগুলোর প্রকৃত আর্থিক পরিস্থিতি নিরূপণে শুরু করা হয় বিশেষ নিরীক্ষা। এরপর পাঁচটি ব্যাংককে একীভূত করে নতুন ব্যাংক গঠন এবং আর টাকা ছাপিয়ে সরবরাহ না করার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। ওই সময়ের পর থেকে ব্যাংকগুলোর শাখা থেকে টাকা তুলতে পারছিলেন না গ্রাহকরা।
জ্যেষ্ঠ ব্যাংকারদের ভাষ্যমতে, বিপুল পরিমাণ খেলাপি ঋণ ব্যাংকগুলোকে তারল্য সংকটে ফেলে দিয়েছিল। খেলাপি ঋণ পুনরুদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি সুশাসন ও আদর্শ ব্যাংকিং চর্চা পুনঃপ্রতিষ্ঠা সবচেয়ে জরুরি ছিল। এর জন্য ব্যাংকগুলোর কর্তৃপক্ষ ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সম্মিলিত উদ্যোগ নেওয়া লাগত। কিন্তু সে পথে না হেঁটে ব্যাংকগুলোর তারল্য সংকট মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে নতুন টাকা ছাপিয়ে সরবরাহের ওপর মনযোগ দেওয়া হয় বেশি। ফলে গণঅভ্যুত্থানের পর কেন্দ্রীয় ব্যাংকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে যে প্রশাসনিক সংকট দেখা দেয়, তার ধাক্কা সামলাতে পারেনি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলো।
ব্যাংকাররা কী বলছেন
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নির্বিঘ্নে টাকা ফেরত দেওয়া, স্বচ্ছতা বজায় রাখা, গ্রাহকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ এবং উদ্ভাবনী ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ধীরে ধীরে আস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব। এজন্য ব্যাংকটিকে স্বচ্ছতা বাড়াতে হবে, নিয়মিত আর্থিক তথ্য প্রকাশ করতে হবে, ঋণ আদায়ে কঠোর হতে হবে এবং ভবিষ্যতে বড় অংকের ঋণ বিতরণে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করতে হবে। বিষয়টি অনেকাংশেই সরকারের সক্ষমতা ও প্রতিশ্রুতির ওপর নির্ভরশীল।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘আমরা আশাবাদী যে, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ওপর গ্রাহকের আস্থা ফিরে আসবে। কারণ আমরা যতটা ধারণা করেছিলাম, গ্রাহকরা তার চেয়ে অনেক কম টাকা তুলছেন। সুতরাং এই ব্যাংকের ভবিষ্যৎ ভালোই মনে হচ্ছে।’
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তারা অবশ্য গ্রাহকদের আস্থা ফেরার দাবিই করেছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা বলেন, ‘এখনো অনেক গ্রাহক আমাদের ওপর আস্থা রাখছেন। যারা টাকা পাচ্ছেন, তারা কেউ কেউ আবার নতুন আমানত খুলছেন। আবার যেমনটা ভাবা হয়েছিল, অর্থ উত্তোলনের আবেদন এসেছে তার চেয়ে কম।’
ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. আবেদুর রহমান সিকদারেরও একই কথা। স্ট্রিমকে তিনি বলেন, ‘একটি ব্যাংক যতটা খারাপ অবস্থায় যেতে পারে, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক ততটাই খারাপ অবস্থার মধ্য দিয়ে গেছে। সেখান থেকে ব্যাংকটি ঘুরে দাঁড়িয়ে এখন এগিয়ে যাচ্ছে। একটি ব্যাংক যখন অত্যন্ত খারাপ অবস্থা থেকে ঘুরে দাঁড়ায়, তখন তার ওপর আস্থা রাখার যথেষ্ট কারণ থাকে। প্রতিদিনই সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে নতুন আমানত আসছে এবং নতুন হিসাব খোলা হচ্ছে। আবেদনের তুলনায় বাস্তবে টাকা ফিরিয়ে নিচ্ছেন অনেক কম গ্রাহক। অনেকে টাকা উত্তোলনের পর আবার তা ব্যাংকে জমাও দিচ্ছেন। ব্যাংক থেকে অনেক গ্রাহকের সঙ্গে যোগাযোগ করে আবেদন অনুযায়ী টাকা নিয়ে যেতে বলা হলেও তারা জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে টাকার প্রয়োজন নেই। প্রয়োজন হলে পরে নেবেন। এগুলো গ্রাহকদের আস্থা ফিরে আসারই প্রমাণ।’
তিনি আরও বলেন, ‘এটি একটি সরকারি ব্যাংক। সরকার থেকে যথেষ্ট সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। সরকার চায়, ব্যাংকের অবস্থা স্থিতিশীল হোক, শৃঙ্খলা ফিরে আসুক এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হোক। সরকারের এই আন্তরিকতা ও সহযোগিতার কারণেই ব্যাংক কর্তৃপক্ষ সাহসী পদক্ষেপ নিতে পেরেছে এবং ব্যাংককে সঠিক ধারায় ফিরিয়ে আনার কাজ এগিয়ে নিতে পারছে।’