কৃত্রিম মেধার তৈরি করা ছবি, গল্প, কবিতা তৈরির নেপথ্য কারিগর হওয়ার জন্য ভালো লিখতে পারা অন্যতম যোগ্যতা। পডকাস্টের জন্য লেখকদের চাহিদা রয়েছে যথেষ্ট। কন্টেন্ট রাইটিং বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে লেখালেখির কাজ সম্পর্কে কমবেশি অনেকেই জানেন। এ কাজের বেশ কিছু ভাগ রয়েছে।
কেউ ওয়েবসাইটের জন্য লেখেন, কেউ স্টাডি মেটেরিয়াল লিখে উপার্জন করেন। এর বাইরেও লেখালিখির কাজে বেশ কিছু পথ খুলে গিয়েছে গত কয়েক বছরে। জেনে নিন কনটেন্ট রাইটিং থেকে আয়ের কিছু উপায়-
এআই কন্টেন্ট স্পেশ্যালিস্ট
কৃত্রিম মেধার তৈরি করা ছবি, গল্প, কবিতা তৈরির নেপথ্য কারিগর হিসাবে একজন লেখকের প্রয়োজন হয়। তাঁদের বলা হয় এআই কন্টেন্ট স্পেশ্যালিস্ট। এ কাজের জন্য বিশেষজ্ঞদের হিসাবে যাঁদের নিয়োগ করা হয়, তাঁদের কৃত্রিম মেধার বিষয়ে জ্ঞান থাকা আবশ্যক। সৃজনশীল ভাবনা এবং লেখার ক্ষমতা থাকলে এ কাজে যোগ দেওয়ার সুযোগ পেতে পারেন কলা বিভাগের পড়ুয়ারাও।
তবে তাঁদের ভাষাতত্ত্ব, তথ্য বিশ্লেষণ, মেশিন লার্নিং, লজিক এবং প্রবেলম সলভিং-এর মতো বিষয়ে জ্ঞান থাকা প্রয়োজন। এ পেশায় নিযুক্তরা শুরুতে বার্ষিক পারিশ্রমিক হিসেবে ৮ লাখ টাকার বেশি পেয়ে থাকেন। পরে তা ১৫ থেকে ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। আন্তর্জাতিক স্তরে ফ্রিল্যান্সিংয়ের চাহিদাও রয়েছে।
পডকাস্ট স্ক্রিপ্টরাইটার
মুখোমুখি কোনও বিশেষ ব্যক্তির সাক্ষাৎকার নেওয়ার ধরন বদলেছে। গুরুগম্ভীর বিষয়ে আলোচনার সঙ্গেই যোগ হয়েছে ব্যক্তিগত বা লঘু-চপল কথোপকথন। এ পদ্ধতিতে নেওয়া ইন্টারভিউকে পডকাস্টও বলা হয়ে থাকে। তবে যাঁর ইন্টারভিউ নেওয়া হচ্ছে, তাঁর বিষয়ে বিশদ পড়াশোনা এবং গবেষণার প্রয়োজন। সে কাজটি পডকাস্ট স্ক্রিপ্টরাইটার করে থাকেন।
তিনি ওই ব্যক্তিকে কী জিজ্ঞেস করা হবে, তা লেখেন। এ কাজের জন্য কলা শাখার পাশাপাশি, বিজ্ঞান ও ইঞ্জিনিয়ারিং শাখার পড়ুয়ারাও সুযোগ পেয়ে থাকেন। ফ্রিল্যান্সিং ছাড়াও চুক্তিভিত্তিক কাজে এমন ব্যক্তিদের বার্ষিক আয় ৬ থেকে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে।
গেম ন্যারেটিভ ডিজ়াইনার
যে কোনও ভিডিও গেমে গল্পই মূল আকর্ষণ। সে কাহিনি লেখার জন্য বিশেষ লেখকদের চাহিদা রয়েছে দেশ ও বিদেশের সংস্থায়। গেম ডিজ়াইনার এবং ডেভেলপারদের সঙ্গে লেখকদের কাজ কাজ করতে হয়। তাই যাঁরা গেমিং ভালবাসেন, এবং লেখার দক্ষতা রয়েছে— তাঁরা এই পেশায় আসতে পারেন।
এ পেশায় নিযুক্তরা শুরুতে বার্ষিক পারিশ্রমিক হিসাবে ৮ লাখ টাকার বেশি উপার্জন করতে পারেন। পরে তা ১৮ থেকে ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। আন্তর্জাতিক স্তরে এ পেশার যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে।
লিগ্যাল কন্টেন্ট রাইটার
সরকারি আইন, বিধি-নিষেধ, অধিকার, আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কিত বিষয় নিয়ে লেখালেখির জন্য বিশেষজ্ঞের প্রয়োজন। বিভিন্ন ল ফার্মের অধীনে লিগ্যাল কন্টেন্ট রাইটার নিয়োগ করা হয়। আইন, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, পাবলিক পলিসি নিয়ে স্নাতকোত্তর স্তরের পড়াশোনা সম্পূর্ণ করেছেন, এমন ব্যক্তিরা এ পেশায় যোগদানের সুযোগ পেতে পারেন।
প্রাথমিকভাবে বছরে ৬ লাখ টাকা, পরে বিশেষজ্ঞ হয়ে উঠলে ২০ লাখ টাকা বেতন হিসেবে পেতে পারেন। ফ্রিল্যান্সার হিসাবেও এ পেশায় চাহিদা রয়েছে যথেষ্ট।
টেকনিক্যাল রাইটার
কোনও সামগ্রী, যন্ত্রের সঙ্গে একটি নির্দেশিকা লেখা বুকলেট পাওয়া যায়। বর্তমানে অনলাইনেও কোনও পরিষেবার সুযোগ পেতে গেলে ব্যবহারের নিয়মাবলি পড়ে নিতে হয়। ডিজিটাল ক্ষেত্রে এমন নির্দেশিকা লেখার জন্যও বিশেষজ্ঞের প্রয়োজন। বিশেষত তাঁদের প্রযুক্তি নির্ভর সামগ্রী বা পরিষেবার ক্ষেত্রে জটিল প্রক্রিয়াকে সহজ ভাষায় লিখতে হয়।
স্নাতক কিংবা স্নাতকোত্তর স্তরে পড়াশোনার পর এই পেশায় পেতে পারেন সুযোগ। এ পেশায় নিযুক্তরা বছরে ৬ লাখ থেকে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করতে পারবেন।
এ ধরনের পেশায় বাড়ি থেকে কাজ করার সুবিধা রয়েছে। ভালো পোর্টফোলিও তৈরি করা, বিষয়ভিত্তিক দক্ষতা থাকলে বেতনকাঠামো এবং পদোন্নতির সম্ভাবনা থাকে। তবে অন্য চাকরির সঙ্গে পার্টটাইম কাজ হিসেবে এ বিভাগের লেখকদের ফ্রিল্যান্সিং-ও যথেষ্ট জনপ্রিয়। খবর: আনন্দবাজার।