বর্তমানে ইন্টারনেটনির্ভর দুনিয়ায় সন্তান কার সাথে কথা বলছে, কাদের সাথে মেসেজিং গ্রুপে যুক্ত হচ্ছে কিংবা অ্যাপে কী ধরনের বিষয়বস্তু দেখছে- তা নিয়ে চিন্তিত থাকেন প্রায় সব অভিভাবকই। তবে সন্তানকে নিরাপদ রাখতে গিয়ে তাদের চ্যাটের ওপর সরাসরি নজরদারি করা বা ব্যক্তিগত মেসেজ পড়া অনেক সময়ই ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি করে।
অভিভাবকদের এই দুশ্চিন্তা কমাতে এবং কিশোরদের গোপনীয়তা বজায় রেখে সুরক্ষা দিতে নতুন ফিচার এনেছে জনপ্রিয় মেসেজিং অ্যাপ হোয়াটসঅ্যাপ। নতুন এই ব্যবস্থার নাম দেওয়া হয়েছে ‘প্যারেন্টাল কন্ট্রোলস’ বা অভিভাবকীয় নিয়ন্ত্রণ সুবিধা।
সম্প্রতি হোয়াটসঅ্যাপ তাদের এক অফিশিয়াল ব্লগ পোস্টে জানায়, এই সুবিধার মাধ্যমে অভিভাবক ও সন্তান দুজন মিলে অ্যাপের কিছু জরুরি সেটিংস নির্ধারণ করতে পারবেন। ফলে সন্তানের ব্যক্তিগত মেসেজ ও কলের গোপনীয়তা পুরোপুরি অটুট রেখেই নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
অভিভাবকরা কী কী নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন?
প্রোফাইল ছবি ও স্ট্যাটাসের গোপনীয়তা: সন্তানের হোয়াটসঅ্যাপ প্রোফাইল ছবি এবং স্ট্যাটাস কারা দেখতে পারবে, তা অভিভাবক ঠিক করে দিতে পারবেন।
গ্রুপে যুক্ত করার ক্ষমতা: অচেনা কেউ বা যেকোনো ব্যক্তি চাইলেই কিশোর সন্তানকে কোনো নতুন গ্রুপে যোগ করতে পারবে কি না, তা নিয়ন্ত্রণ করা যাবে।
হোয়াটসঅ্যাপ স্পষ্ট জানিয়েছে, ব্যবহারকারীদের প্রতিটি ব্যক্তিগত মেসেজ ও কল আগের মতোই ‘এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপ্টেড’ থাকবে। অর্থাৎ বার্তা পাঠানো ও গ্রহণকারী এই দুজন ছাড়া তৃতীয় কোনো ব্যক্তি এমনকি হোয়াটসঅ্যাপ কর্তৃপক্ষও তা দেখতে বা জানতে পারবে না।
গ্রুপ পরিবর্তনের আপডেট: সন্তান নতুন কোনো হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হলে কিংবা কোনো গ্রুপ থেকে বের হয়ে গেলে অভিভাবকের কাছে নোটিফিকেশন বা বার্তা যাবে। এমনকি কোনো গ্রুপের সদস্য সংখ্যা হুট করে অনেক বেড়ে গেলেও সতর্কবার্তা পাবেন অভিভাবক।
হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল ব্যবহার: সন্তান অ্যাপটিতে কোন ধরনের চ্যানেল অনুসরণ করতে পারবে বা দেখবে, তা অভিভাবকরা নির্ধারণ করতে পারবেন।
মেটা এআই ব্যবহারে কড়াকড়ি: হোয়াটসঅ্যাপের এআই সুবিধা ব্যবহারে সীমা নির্ধারণের সুযোগ থাকছে। সাধারণত ১৩ বছরের বেশি বয়সীদের জন্য নির্ধারিত স্ট্যান্ডার্ড অপশনের পাশাপাশি আরও নিয়ন্ত্রিত মোড ব্যবহারের সুযোগ থাকবে।
সিকিউরিটি পিন কীভাবে কাজ করবে?
পুরো প্রক্রিয়াটি সুরক্ষিত রাখতে অভিভাবক একটি গোপন পিন কোড সেট করে রাখবেন। পরবর্তীতে কিশোর সন্তান যদি অভিভাবকের সেট করা কোনো গোপনীয়তা বা সিকিউরিটি সেটিংস শিথিল করতে চায়, তবে সেই পিন কোডটির প্রয়োজন হবে। অভিভাবক নিজে পিন দিয়ে অনুমতি না দিলে কিশোর একা সেটিংস বদলাতে পারবে না।
সন্তানের ব্যক্তিগত মেসেজ কি পড়া যাবে?
না। আর এটাই এই নতুন ফিচারের সবচেয়ে বড় বৈচিত্র্য। অভিভাবকত্ব নিয়ন্ত্রণ চালু থাকলেও সন্তান কার সাথে কী মেসেজ আদান-প্রদান করছে বা কার সাথে ফোনে কথা বলছে, তা অভিভাবক দেখতে বা শুনতে পারবেন না।
হোয়াটসঅ্যাপ স্পষ্ট জানিয়েছে, ব্যবহারকারীদের প্রতিটি ব্যক্তিগত মেসেজ ও কল আগের মতোই ‘এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপ্টেড’ থাকবে। অর্থাৎ বার্তা পাঠানো ও গ্রহণকারী এই দুজন ছাড়া তৃতীয় কোনো ব্যক্তি এমনকি হোয়াটসঅ্যাপ কর্তৃপক্ষও তা দেখতে বা জানতে পারবে না।
কীভাবে ফিচারটি চালু করবেন?
এই সুবিধা ব্যবহার করতে অভিভাবক ও সন্তান উভয়ের ফোনেই হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাপটি সর্বশেষ সংস্করণে আপডেট থাকতে হবে।
১. সন্তানের ফোন থেকে হোয়াটসঅ্যাপের Settings > Parental controls অপশনে গিয়ে বয়স নিশ্চিত করতে হবে। এরপর স্ক্রিনে একটি কিউআর কোড দেখা যাবে।
২. অভিভাবক নিজের ফোন থেকে সেই কিউআর কোডটি স্ক্যান করে সংযোগ তৈরি করবেন এবং ৬ ডিজিটের একটি গোপন পিন সেট করবেন।
৩. এরপর সেই পিন ব্যবহার করে সন্তানের প্রোফাইল ছবি, গ্রুপে যুক্ত হওয়া বা মেটা এআই ব্যবহারের কড়াকড়ি নিজের পছন্দমতো নির্ধারণ করে দেবেন।
পরবর্তীতে সন্তান যদি অভিভাবকের ঠিক করে দেওয়া কোনো গোপনীয়তা সেটিংস শিথিল করতে চায়, তবে অভিভাবকের এই পিন কোডটির প্রয়োজন হবে।
এই সুবিধা ব্যবহার করা কি বাধ্যতামূলক?
এটি সম্পূর্ণ একটি ঐচ্ছিক সুবিধা। যেকোনো পরিবার তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী এই ফিচার চালু করা বা না করার সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।
হোয়াটসঅ্যাপের মতে, এই ফিচারের মূল উদ্দেশ্য সন্তানদের ওপর অযাচিত নজরদারি করা নয়; বরং অভিভাবকদের সাথে কিশোরদের একটি ভালো বোঝাপড়া বজায় রেখে প্রযুক্তি ব্যবহারের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা।