Image description

বাংলাদেশের অর্থনীতি কঠিন সংকট পার করছে। বিনিয়োগে স্থবিরতা।

কর্মসংস্থান কমছে। দারিদ্র্য বাড়ছে। জিডিপি প্রবৃদ্ধির গতি শ্লথ। বিদ্যুৎ-জ্বালানি ঘাটতিতে ব্যাহত হচ্ছে উৎপাদন।
 
ব্যাংক খাত ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। রাজস্ব আয়ও বাড়ছে না কাঙ্ক্ষিত হারে। রপ্তানি খাতে পতনের ধাক্কা লেগেছে। সব মিলিয়ে অর্থনীতি ও ব্যবসা-বাণিজ্য অনেকটা ‘মুমূর্ষু’ অবস্থায় চলছে।
 
সদ্য প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বাংলাদেশ নিয়ে এ রকম চিত্রই তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদন ঘিরে এখন সর্বত্র এই আলোচনা। রীতিমতো ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তা ও অর্থনীতিবিদদের ভয় ধরিয়ে দিয়েছে সংস্থাটি। অর্থনীতির প্রধান প্রায় সব সূচকই যদি এত নাজুক অবস্থায় থাকে, তাহলে সামনের পরিস্থিতি কী হতে পারে? কিভাবে এই নাজুক অবস্থা থেকে সরকার ঘুরে দাঁড়াবে? অর্থনীতিকে সামনে এগোনোর ‘বিগ পুশ’ বা বড় ধাক্কা কে দেবে? কোন নীতি নেওয়া হলে ব্যবসাবান্ধব হবে? এমন সব আলোচনা চলছে সবার মধ্যে। ব্যবসায়ী-অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, সহজ-উদার অর্থনৈতিক ও বিনিয়োগ কৌশল দরকার, যাতে ব্যবসায়ীরা আস্থা পান।
 
সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সঙ্গে নিয়ে অর্থনৈতিক পুনর্গঠন করতে হবে। তাহলেই অর্থনীতিতে স্বস্তি ফিরবে। তখন সরকারও স্বস্তিতে থাকতে পারবে। সরকারের সতর্ক হয়ে কার্যকর, সহজ ও উদার ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব নীতি গ্রহণ করা দরকার।

ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক ও বিকেএমইর সাবেক প্রেসিডেন্ট ফজলুল হক বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিশ্বব্যাংকের রিপোর্টের সঙ্গে খুব বেশি দ্বিমত নেই। হয়তো প্রবৃদ্ধির হার নিয়ে বিতর্ক হতে পারে। কিন্তু মোটাদাগে সংস্থাটি দেশের অর্থনীতি ও বিনিয়োগ পরিস্থিতি নিয়ে যে তথ্যগুলো দিয়েছে, সরকার যদি তা আমলে নিয়ে কাজ করে তাহলে দেশের জন্য ভালোই হবে। আমাদের এখন বিনিয়োগ-কর্মসংস্থান বাড়াতে গ্যাস-বিদ্যুতে বিশেষ নজর দেওয়া দরকার। নতুন গ্যাসক্ষেত্রগুলো কাজে লাগাতে হবে। বিনিয়োগ বাড়াতে নীতি-কৌশলের সংস্কার লাগবে। যেখানে গ্যাস-বিদ্যুৎ বেশি জরুরি নয়; ওই সব খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর উৎসাহ দিতে হবে।’

বিশ্বব্যাংক ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রকৃত জিডিপি প্রবৃদ্ধির হতাশাজনক হার তুলে ধরে বলেছে এটি ৩.৪ শতাংশে নেমেছে। একই অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে এ প্রবৃদ্ধি নেমে আসে ২.২ শতাংশের ঘরে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে যা ছিল ৫.৮ শতাংশ। করোনা মহামারির পর কোনো প্রান্তিকে এটিই সর্বনিম্ন প্রবৃদ্ধি। বিশ্বব্যাংক বলছে এই প্রবৃদ্ধি কমার বড় কারণ বিনিয়োগের সংকোচন। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বেসরকারি বিনিয়োগ ০.৫ এবং সরকারি বিনিয়োগ ০.৭ শতাংশ কমেছে। একই সময় পণ্য ও সেবার প্রকৃত রপ্তানি কমেছে ৪.৮ শতাংশ। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি-এডিপির বাস্তবায়নও রেকর্ড নিচু পর্যায়ে নেমেছে। গ্যাস ও বিদ্যুতের ঘাটতিতে অনেক কারখানা সক্ষমতার তুলনায় অনেক কম উৎপাদন করেছে। অনেক প্রতিষ্ঠান কর্মঘণ্টা কমিয়েছে। উৎপাদন বন্ধ রেখেছে। অনেকে কর্মী ছাঁটাই করেছে।

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করেছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ড-এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মজিদ। এ বিষয়ে তিনি গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পরিস্থিতি হতাশাজনক। সবাই আশা করেছিল, রাজনৈতিক সরকার এলে আস্থা ফিরবে। অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে। বেসরকারি খাত চাঙ্গা হবে। এফডিআই আসবে। কিন্তু সাড়া নেই। আসলে পুরো প্রশাসন না সাজিয়ে আর সংস্কার না করে এর সুফল পাওয়া সম্ভব নয়। যে কারণে আস্থা ফেরেনি। শ্রীলঙ্কা-নেপাল পারছে। আমরা পারছি না। সরকারকে সেবা দিতে হবে। ব্যবসায় খরচ কমাতে হবে। খরচ আসলে কমেনি। বরং তা যদি আরো বেড়ে যায় তাহলে কেন সবাই বিনিয়োগ করবে? দুর্নীতি-ঘুষ বেড়ে গেলে বিনিয়োগ হবে না। এখন এমন অবস্থা, যে লাউ সেই কদু। তার পরও আশা করি সুযোগ আছে।’

আমেরিকান চেম্বার অ্যামচেমের সাবেক প্রেসিডেন্ট সৈয়দ এরশাদ আহমেদ গতকাল বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন বিশ্লেষণে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমি বলব ইনভেস্টমন্টে ক্লাইমেট একেবারেই অনুকূলে নেই। আগে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি আর রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আনতে হবে। আপনি যদি আবারও আন্দোলনের হুমকি দেন, তাহলে অর্থনীতির কী হবে? আগে অর্থনীতিটাকে দাঁড়াতে দেন। সবাই মিলে অর্থনীতি টিকিয়ে রাখেন। সবকিছু স্বাভাবিক থাকতে দিন। আগে অর্থনীতি ঠিক করেন, পরে মারামারি-কাটাকাটি যা ইচ্ছা করেন। অর্থনীতি যদি ঠিক না হয়, তাহলে এসব করে কী লাভ হবে?  ব্যবসা না থাকলে আপনি কার কাছ থেকে ট্যাক্স নেবেন? তাই ঠাণ্ডা মাথায় সরকারকে পরিকল্পনা নিতে হবে। বিনিয়োগকারীদের গ্যারান্টি দিতে হবে, সবকিছু স্মোথ চলছে। সব স্বাভাবিক আছে। বিশেষ করে বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে অবকাঠামো ঠিক রাখতে হবে, বিদ্যুৎ জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে হবে। বন্দরকে কার্যকর রাখতে হবে, যাতে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ে। বিদেশি বিনিয়োগ শুধু পুঁজি আনে না। এটি প্রযুক্তি, আধুনিক ব্যবস্থাপনা, দক্ষতা ও কর্মসংস্থান বাড়ায়। এগুলো ঠিক করতে হবে সবার আগে।’

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ২ শতাংশ। তৃতীয় প্রান্তিকে শিল্প উৎপাদন ০.৩ শতাংশ কমেছে। করোনা মহামারির পর কোনো প্রান্তিকে শিল্প খাতেরও এটি প্রথম সংকোচন। গ্যাসসংকট এখন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। মোট চাহিদার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ আমদানির মাধ্যমে মেটাতে হচ্ছে। কয়েকটি বড় গ্যাসক্ষেত্র ও মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের ওপর বাড়তি নির্ভরতার কারণে কোনো একটি স্থাপনায় সমস্যা হলেই সরবরাহ কমে যায়।

মূল্যস্ফীতি কয়েক বছর ধরেই লাগামহীন। আর এই তাতানো অবস্থায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানির কয়েক দফা মূল্যবৃদ্ধি মূল্যস্ফীতিকে এখনো উঁচুতে ধরে রেখেছে। গড় মূল্যস্ফীতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের ১০ শতাংশ থেকে গত অর্থবছর ৮.৭ শতাংশে নেমেছে। গত আগস্টে পয়েন্ট টু পয়েন্ট মূল্যস্ফীতি ছিল ৮.৩ শতাংশ। গত অর্থবছরে সরকারের ব্যাংকঋণ, ভর্তুকি ও সুদসহ চলতি ব্যয়, প্রবাস আয় বাড়লেও বেসরকারি ঋণ ও উৎপাদন খাতে বিনিয়োগ বাড়েনি। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন বলছে, দারিদ্র্যের হার টানা চতুর্থ বছরের মতো বেড়েছে। ২০২২ সালে এই হার ছিল ১৮.৭ শতাংশ। গত অর্থবছরে তা আনুমানিক ২২.৫ শতাংশে উঠেছে। এক বছরে প্রায় ২১ লাখ মানুষ নতুন করে এই দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমেছে।

বিশ্বব্যাংক প্রকাশিত পর্যবেক্ষণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের স্টেস ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্কের অধ্যাপক ড. বিরূপাক্ষ পাল গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রবৃদ্ধির যে তথ্য দিয়েছে বিশ্বব্যাংক, এটি কভিডের সময়ের চেয়েও খারাপ। একটি স্বাভাবিক সময়ে এটি মহামারির সময়ের চেয়েও নিচে নেমে যাওয়া ভেরি ডিসগ্রেসফুল। আসলে প্রবৃদ্ধি তো হাওয়া থেকে আসবে না। প্রবৃদ্ধ আসবে বিনিয়োগ বৃদ্ধি থেকে। এই সরকার অনেক কিছুতে ইউনূস আমলকে কপিকেট করেছে। ওই স্টাইলটায় তারা কনফিউজ বিটুইন পলিটিক্স অ্যান্ড ইকোনমি। কিন্তু পলিটিকস ঠিক না করলে ইকোনমিকস ঠিক হবে না। কারণ পলিটিকস ইজ নট ইনক্লুসিভ। অবশ্যই আওয়ামী লীগ অর্থনীতিতে একটা সমস্যা করে গেছে। কিন্তু এরপর যেভাবে অর্থনীতিতে এমপ্লয়মেন্ট জেনারেট করার কথা, সেটি হয়নি। ক্লোজড ফ্যাক্টরি যেগুলোর জন্য ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা রাখা হয়েছে, সেটি এখনো কাজে লাগেনি। কারণ এখানে পলিটিক্যাল বায়াস রয়েছে। অর্থনীতিতে ব্যবসায়ীদের মধ্যে পারস্পরিক নির্ভরতা থাকে, সেটি এখন ঠিক নেই। এটাকে আমরা অর্থনীতিতে বলি ফরোয়ার্ড অ্যান্ড ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ। যেমন—এখন তুমি বিএনপির হাতে চালের কল দিছো। আর ওই দিক দিয়ে কৃষক লীগের নেতার হাতেও চাল। সেটি আসছে না কারণ সে দৌড়ের ওপর আছে। চালের কল থেকে চালটা যে ডিস্ট্রিবিউশন হবে এই সাপ্লাই চেইনটাকে ডিসরাপ্ট করে রেখেছে পলিটিক্যাল ইমম্যাচিউরিটি।’

বিশ্বব্যাংক বলছে, ব্যাংক খাতের ভঙ্গুরতা কাটেনি। বরং ঝুঁকি এখনো অটুট। সংস্থাটি এই খাতের দুর্বলতাকে বাংলাদেশের অর্থনীতির সবচেয়ে গুরুতর ঝুঁকিগুলোর একটি বলে উল্লেখ করেছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর শেষে খেলাপি ঋণের হার ছিল ২০.২ শতাংশ। ২০২৬ সালের জুনে তা বেড়ে ৩৩.২ শতাংশ হয়েছে। ইসলামী ব্যাংকগুলোয় এই হার ৫৮.৯ এবং রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোয় ৪৩.২ শতাংশ। ব্যাংকগুলোর সামগ্রিক মূলধন ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ঋণাত্মক ২.৬ শতাংশে নেমেছে। অথচ ন্যূনতম নিয়ন্ত্রক হারই ১০ শতাংশ থাকার কথা।

ব্যক্তি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ঋণ প্রবৃদ্ধি জুনে ৪.৫ শতাংশে নেমেছে, যা ৩৩ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। বিপরীতে সরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩০.৪ শতাংশ। অর্থাৎ ব্যাংকের টাকা সরকার নিয়ে চলছে, কিন্তু বেসরকারি খাতে টাকা যাচ্ছে না। ফলে বিনিয়োগ হচ্ছে না। মানুষের কাজের সুযোগ হচ্ছে না। অর্থনীতিতে গতি ফিরছে না। সরকারও এ থেকে রাজস্ব পাচ্ছে না। আর তহবিল ঘাটতি মেটাতে ওই ব্যাংক বা ঋণই সরকারের ভরসার স্থল রয়ে যাচ্ছে।

এফবিসিআিইয়ের প্রশাসক ফজলুল হক আরো বলেন, ‘বিনিয়োগ বাড়াতে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি দরকার। পুলিশকে আরো সক্রিয় করতে হবে। চাঁদাবাজ-জুলুমবাজদের বিরত রাখতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক শিল্প-কারখানা চালু করতে প্রণোদনার উদ্যোগ নিয়েছে। এটা ভালো পদক্ষেপ। তবে তার সুফল পুরোপুরি বেসরকারি খাত পাচ্ছে না। বিশেষ করে বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো সহযোগিতা করছে না। তাদের রক্ষণশীল মনোভাব পরিবর্তন করতে হবে।’

অর্থনীতি ও ব্যবসা-বাণিজ্য ভালো না চললে সরকারও ভালো চলে না—এটাই স্বাভাবিক। বিশ্বব্যাংকও তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের রাজস্ব আদায় ছিল জিডিপির মাত্র ৮.৩ শতাংশ, যা বিশ্বের অন্যতম সর্বনিম্ন। এর ফলে বাজেট ঘাটতি বেড়ে জিডিপির ৩.৯ শতাংশে উন্নীত হয়েছে এবং সরকারের পক্ষে উন্নয়ন খাতে ব্যয় করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

উচ্চ সুদের হার এবং জ্বালানি সংকটের কারণে বেসরকারি বিনিয়োগ টানা দ্বিতীয় বছরের মতো সংকুচিত হয়েছে। সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ ১৫ শতাংশ কমে মাত্র ১.৫ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে এবং নতুন ইকুইটি বিনিয়োগ কমেছে ৭০.৩ শতাংশ।

অর্থনীতিবিদ ড. বিরূপাক্ষ পাল আরো বলেন, ‘এই জায়গাগুলোতে কোনো সমাধান হয়নি বলে জিডিপি মুখ থুবড়ে পড়েছে। ইউনূসের আমলের জিডিপিটা যে কম হবে এটা আমরা জানি। কারণ সেই সময় মব সভ্যতা, অগ্নি সভ্যতার বিকাশ ঘটেছিল। আর সেটা তারা প্যাট্রোনাইজ করেছে। কিন্তু বিএনপি সরকারের কাছে আমরা আশা করেছিলাম একটা ইনক্লুসিভ ইকোনমি। ওই জায়গায় তারা স্ট্র্যাটেজিক মিস্টেক করেছে। সুতরাং উন্নতির উপায় হলো—তিনটি কাজ করতে হবে। প্রথমত, রিভিশন মানে কী করতে হবে—এর একটা হোমওয়ার্ক করতে হবে। দ্বিতীয়ত, রিফর্ম বা সংস্কার করতে হবে। আর তৃতীয়ত, বিজনেস কমিউনিটির সবাইকে রিঅ্যাংগেইজমেন্ট বা সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে হবে।’

বিশ্বব্যাংক বলছে, অর্থনীতির সব সূচক যখন নাজুক অবস্থায়, তখন একমাত্র প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স এখনো অর্থনীতিকে আশা দেখাচ্ছে। চরম সংকটের মধ্যেও গত অর্থবছরে রেকর্ড ৩৫.৬ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ বাড়াতে সহায়তা করেছে।

এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মজিদ আরো বলেন, ‘রেমিট্যান্স প্রবাহ ভালো। কিন্তু খুঁজলে এর পেছনেও কারসাজি পাওয়া যাবে। যেমন—অনেকে আড়াই শতাংশ প্রণোদনা পেতে পাচারের টাকাও এখানে নিয়ে আসছে। তবে টাকাটা যদি বিনিয়োগে লাগে তবেই এর সফলতা। বিনিয়োগ হচ্ছে কি না—এই নজরদারি প্রয়োজন। এখন সিন্ডিকেটের সাইনবোর্ড বদল হয়েছে, কিন্তু কাজের কাজ কিছু হয়নি। তাই দরকার ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ। না হলে বিনিয়োগ আসবে না। কর্মসংস্থানও হবে না।’