Image description
রাতের নীরবতায় হঠাৎ ফোনে এল অচেনা একটি লগইন নোটিফিকেশন। আপনি তো তখন ঘুমাচ্ছেন, অথচ আপনার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে অন্য একটি ডিভাইস থেকে প্রবেশের চেষ্টা হয়েছে। এমন ঘটনা এখন আর কল্পকাহিনি নয়। অনেক সময় অ্যাকাউন্ট পুরোপুরি হাতছাড়া হওয়ার আগেই কিছু ছোট ছোট সংকেত দেখা যায়। সেগুলো সময়মতো চিনতে পারলে বিপদ অনেকটাই ঠেকানো সম্ভব।
 
ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সতর্ক সংকেতগুলোর একটি হলো অচেনা ডিভাইস বা স্থান থেকে লগইন নোটিফিকেশন পাওয়া। আপনি নিজে লগইন না করেও যদি নতুন লগইন, পাসওয়ার্ড পরিবর্তন বা নিরাপত্তা যাচাইয়ের বার্তা পান, বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে।
 
যে লক্ষণগুলো দেখলে সতর্ক হবেন
 
১. অচেনা লগইন নোটিফিকেশন
ফেসবুক অ্যাকাউন্টে অপরিচিত ডিভাইস বা স্থান থেকে লগইনের সতর্কবার্তা এলে দ্রুত অ্যাকাউন্টের লগইন হিস্ট্রি পরীক্ষা করুন।
 
২. নিজে না করেও পাসওয়ার্ড পরিবর্তনের বার্তা
আপনি কোনো পরিবর্তন না করেও পাসওয়ার্ড পরিবর্তন, ই-মেইল বা ফোন নম্বর পরিবর্তনের নোটিফিকেশন পেলে কেউ অ্যাকাউন্টে ঢোকার চেষ্টা করছে— এমন আশঙ্কা থাকে।
 
৩. অচেনা পোস্ট, মেসেজ বা কমেন্ট
আপনার অজান্তে পোস্ট, কমেন্ট, মেসেজ বা বন্ধুত্বের অনুরোধ পাঠানো হলে অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ অন্য কারও হাতে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
 
৪. অচেনা অ্যাপ বা ওয়েবসাইটের অনুমতি
ফেসবুকের সঙ্গে যুক্ত অ্যাপ ও ওয়েবসাইটের তালিকায় অপরিচিত কিছু দেখতে পেলে সেটি সরিয়ে দিন। কোনো ক্ষতিকর অ্যাপ আপনার অ্যাকাউন্টের তথ্য ব্যবহারের অনুমতি পেয়ে থাকতে পারে।
 
৫. বন্ধুদের অদ্ভুত মেসেজ
বন্ধুরা যদি জানায় আপনার অ্যাকাউন্ট থেকে অস্বাভাবিক লিংক বা টাকা চাওয়ার বার্তা যাচ্ছে, বিষয়টি হালকাভাবে নেয়া যাবে না।
 
৬. ই-মেইল বা ফোন নম্বর বদলে যাওয়ার চেষ্টা
অ্যাকাউন্টের যোগাযোগের তথ্য পরিবর্তনের নোটিফিকেশন পাওয়া বিশেষ সতর্কতার বিষয়। কারণ এগুলো বদলে ফেলতে পারলে হ্যাকার অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধারের পথও বন্ধ করার চেষ্টা করতে পারে।
 
বিপদ বুঝলে কী করবেন?
প্রথমেই অন্য একটি নিরাপদ ডিভাইস থেকে ফেসবুকের পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করুন। একই পাসওয়ার্ড অন্য কোনো অ্যাকাউন্টে ব্যবহার করলে সেগুলোও বদলে ফেলুন। এরপর টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন চালু করুন এবং অচেনা ডিভাইসগুলো থেকে লগআউট করে দিন।
 
ফিশিং লিংকে ক্লিক করা, অচেনা অ্যাপ ডাউনলোড করা কিংবা সন্দেহজনক ওয়েবসাইটে ফেসবুকের পাসওয়ার্ড দেয়া থেকেও বিরত থাকতে হবে। বিশেষ করে ‘আপনার অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে যাবে’ বা ‘আপনার ছবি ভাইরাল হয়েছে’—এ ধরনের ভয় বা কৌতূহল তৈরি করা লিংকে ক্লিক করার আগে দুবার ভাবুন।
 
মনে রাখবেন, হ্যাক হওয়ার পর আফসোস করার চেয়ে আগে সংকেত চিনে সতর্ক হওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। আপনার ফেসবুক অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তার সবচেয়ে বড় প্রহরী শেষ পর্যন্ত আপনিই।
 
 
সূত্র: রিডার্স ডাইজেস্ট, সাইবার নিরাপত্তাবিষয়ক প্রকাশিত তথ্য।