Image description

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক বর্তমানে যোগাযোগ, মতামত প্রকাশ ও তথ্য আদান-প্রদানের অন্যতম প্রধান প্ল্যাটফর্ম। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এখানে বট (Bot) এবং ফেইক (Fake) একাউন্টের সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক নেতাদের পোস্টে সমন্বিতভাবে রিয়েক্ট ও কমেন্টের মাধ্যমে আক্রমণ চালানোর অভিযোগ প্রায়ই উঠছে। এতে জনমত বিভ্রান্ত হওয়া থেকে শুরু করে সামাজিক অস্থিরতাও তৈরি হচ্ছে।

বট ও ফেইক একাউন্ট কী?

বট একাউন্ট সাধারণত স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিচালিত হয়, যা নির্দিষ্ট প্রোগ্রামের মাধ্যমে নির্দিষ্ট ধরনের পোস্ট, কমেন্ট বা রিয়েকশন দিতে সক্ষম। অন্যদিকে, ফেইক একাউন্ট হলো এমন অ্যাকাউন্ট যা ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে তৈরি করা হয় এবং প্রায়শই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অপপ্রচার বা বিভ্রান্তি ছড়াতে ব্যবহৃত হয়।

বট ও ফেইক একাউন্ট চেনার উপায়?

১. প্রোফাইল তথ্য অসম্পূর্ণ বা সন্দেহজনক: প্রোফাইল ছবি অস্পষ্ট, অন্য কারো ছবি বা এআই জেনারেটেড ইমেজ ব্যবহার করা হয়।

২. বন্ধুর সংখ্যা অস্বাভাবিক: খুব কম বা হঠাৎ অনেক বেশি বন্ধু থাকা।

৩. অ্যাক্টিভিটির ধরন: একই ধরনের কমেন্ট বারবার করা, খুব দ্রুত সময়ে অনেক পোস্টে রিয়েক্ট দেওয়া।

৪. নতুন তৈরি অ্যাকাউন্ট: সম্প্রতি তৈরি হয়েছে কিন্তু ইতোমধ্যে প্রচুর পোস্টে সক্রিয়।

৫. ব্যক্তিগত পোস্টের অভাব: ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কিত কোনো পোস্ট বা তথ্য থাকে না।

এসব একাউন্ট বাস্তব কোনো ব্যক্তির নয়। কিছু একাউন্ট স্বয়ংক্রিয় ভাবে পরিচালিত হয়, আবার কিছু তৈরি করা হয় ভুয়া পরিচয়ে। লক্ষ্য একটাই একটি নির্দিষ্ট মত বা পক্ষকে জোরালো ভাবে তুলে ধরা কিংবা অন্য পক্ষকে আক্রমণ করা। বিশেষ করে রাজনৈতিক নেতাদের পোস্টে পরিকল্পিত ভাবে আক্রমণাত্মক মন্তব্য ও রিয়েকশনের মাধ্যমে এক ধরনের কৃত্রিম পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে—যা সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য বিভ্রান্তি কর হয়ে উঠছে।

এই প্রবণতা জনমতকে প্রভাবিত করার একটি কৌশল হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছে। একটি পোস্টে হঠাৎ করে হাজার হাজার একই ধরনের মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়া দেখা গেলে সেটি স্বাভাবিক ব্যবহারকারীদের আচরণ নয় বলেই মনে করা হয়।

এই পরিস্থিতিতে করণীয় কী?

ব্যবহারকারীদের আগে সচেতন হতে হবে। সন্দেহজনক একাউন্ট দেখলে তা এড়িয়ে চলা, প্রয়োজনে রিপোর্ট করা, ব্লক করা জরুরি। একই সঙ্গে যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো তথ্য বা মন্তব্যে প্রভাবিত না হওয়ার উচিত। অপব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া।

এছাড়া ফেসবুক কর্তৃপক্ষের উচিত ভুয়া একাউন্ট শনাক্তে আরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া, সন্দেহজনক কার্যকলাপ দ্রুত সীমিত করা এবং ব্যবহারকারীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

 

লেখক : মহি উদ্দিন মাহি, প্রকৌশলী