Image description

ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো হ্যামস্ট্রিং ইনজুরি থেকে সেরে ওঠার প্রক্রিয়ায় রয়েছেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আল নাসরের হয়ে আল ফাইহার বিপক্ষে ৩–১ গোলের জয়ের ম্যাচে এই চোট পান তিনি। ম্যাচের ৮১তম মিনিটে অস্বস্তি অনুভব করায় তাকে মাঠ থেকে তুলে নেওয়া হয়।

ক্লাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রোনালদো ইতোমধ্যে পুনর্বাসন কার্যক্রম শুরু করেছেন এবং তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি প্রতিদিন পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই চোটের কারণে তাকে প্রায় দুই থেকে চার সপ্তাহ মাঠের বাইরে থাকতে হতে পারে। তবে সবকিছু ঠিক থাকলে জুনে শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপের আগেই তিনি মাঠে ফিরতে পারেন।

হ্যামস্ট্রিং টেন্ডন ইনজুরি কী?

হ্যামস্ট্রিং টেন্ডন ইনজুরি বলতে উরুর পেছনের অংশে থাকা মাংশপেশিতে ক্ষতি বা টান লাগাকে বোঝায়। এই টেন্ডনগুলো হ্যামস্ট্রিং পেশিকে পেলভিস এবং পায়ের নিচের হাড়ের সঙ্গে যুক্ত করে। সাধারণত দ্রুত দৌড়ানো, হঠাৎ দিক পরিবর্তন করা বা লাফানোর মতো শারীরিক কার্যক্রমে এ ধরনের চোট বেশি দেখা যায়।

এই ইনজুরি কখনো হালকা টান হতে পারে, আবার কখনো টেন্ডন আংশিক বা পুরোপুরি ছিঁড়েও যেতে পারে।

 

সাধারণ লক্ষণ

এই চোটের প্রধান লক্ষণ হলো উরুর পেছনে হঠাৎ তীব্র ব্যথা অনুভব করা। অনেক সময় এর সঙ্গে ‘ছিঁড়ে যাওয়ার’ মতো অনুভূতিও হতে পারে। এছাড়া আরও কিছু লক্ষণ দেখা যায়—

  • উরুর পেছনে হঠাৎ তীব্র ব্যথা
  • পপিং বা ছিঁড়ে যাওয়ার মতো অনুভূতি
  • কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ফোলা
  • কালশিটে দাগ পড়া
  • হাঁটু ভাঁজ করতে অসুবিধা বা দুর্বলতা
  • হাঁটা বা দাঁড়ানোর সময় শক্ত ভাব অনুভব করা

কেন হয় এই চোট?

হ্যামস্ট্রিং টেন্ডনের চোট হওয়ার কয়েকটি সাধারণ কারণ রয়েছে। যেমন—

অতিরিক্ত প্রসারণ: দ্রুত দৌড়, হঠাৎ দিক পরিবর্তন বা লাফানোর সময় পেশি অতিরিক্ত প্রসারিত হলে টেন্ডনে টান লাগে।

 

পর্যাপ্ত ওয়ার্মআপ না করা: খেলাধুলার আগে ঠিকভাবে শরীর গরম না করলে পেশিতে চাপ পড়ে।

পেশির ভারসাম্যহীনতা: উরুর সামনের পেশি শক্তিশালী কিন্তু পেছনের পেশি দুর্বল হলে টেন্ডনে চাপ বাড়ে।

অতিরিক্ত ক্লান্তি: দীর্ঘ সময় অনুশীলন বা ম্যাচ খেলার ফলে পেশি ক্লান্ত হয়ে গেলে চোটের ঝুঁকি বাড়ে।

হঠাৎ গতি পরিবর্তন: ফুটবল, বাস্কেটবল বা দৌড়ের মতো খেলায় দ্রুত গতি বাড়ানো বা কমানোর সময় এই চোট দেখা যায়।

আগের চোটের ইতিহাস: আগে হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট থাকলে আবারও সেই জায়গায় আঘাত লাগার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

সেরে উঠতে কত সময় লাগে?

চোটের মাত্রা অনুযায়ী সুস্থ হতে সময় ভিন্ন হতে পারে।

  • হালকা চোট: সাধারণত ১ থেকে ৩ সপ্তাহ
  • মাঝারি চোট: প্রায় ৩ থেকে ৬ সপ্তাহ
  • গুরুতর চোট বা পুরো টেন্ডন ছিঁড়ে গেলে: ৩ থেকে ৪ মাস বা তারও বেশি সময় লাগতে পারে, কখনো অস্ত্রোপচারও প্রয়োজন হতে পারে।

চিকিৎসা ও পুনর্বাসন

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে হালকা বা মাঝারি ধরনের চোটে বিশ্রাম এবং কিছু মৌলিক চিকিৎসা পদ্ধতিই কার্যকর হয়। যেমন—

  • পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া
  • বরফ প্রয়োগ করে ফোলা কমানো
  • ব্যান্ডেজ বা চাপ প্রয়োগ করে ফোলা নিয়ন্ত্রণ করা
  • পা উঁচু করে রাখা

ব্যথা কমে গেলে বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে ফিজিওথেরাপির মাধ্যমে ধীরে ধীরে পেশি শক্তিশালী করার ব্যায়াম শুরু করা হয়। গুরুতর ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে।

দ্রুত সুস্থ হওয়ার কিছু উপায়

  • পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া
  • নিয়মিত বরফ ব্যবহার করা
  • চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পুনর্বাসন কর্মসূচি অনুসরণ করা
  • ব্যথা কমে গেলে হালকা স্ট্রেচিং শুরু করা
  • আশপাশের পেশিগুলো শক্তিশালী করার ব্যায়াম করা
  • সুষম খাদ্য গ্রহণ করা

সঠিক চিকিৎসা ও পুনর্বাসন পরিকল্পনা মেনে চললে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই খেলোয়াড়রা আবার স্বাভাবিকভাবে মাঠে ফিরতে পারেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, রোনালদোর ক্ষেত্রেও সবকিছু ঠিক থাকলে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তিনি মাঠে ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে।