টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ভারতের কাছে নাটকীয় হারের পর ইংল্যান্ড শিবিরে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন ব্রেন্ডন ম্যাককালাম কি কোচ হিসেবে দায়িত্বে থাকবেন? নিজে অবশ্য পরিষ্কার করে জানিয়েছেন, সুযোগ পেলে তিনি দায়িত্ব চালিয়ে যেতে চান। কিন্তু শেষ সিদ্ধান্তটা এখন ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডের (ইসিবি) হাতে।
মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে ভারতের বিপক্ষে সাত রানের হারে ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হয়েছে। ম্যাচ শেষে ড্রেসিংরুমের আবহেই বোঝা যাচ্ছিল, দলটির সামনে বড় একটি পরিবর্তনের সময় হয়তো এসে গেছে। মাঠের ধারে অধিনায়ক হ্যারি ব্রুকের সঙ্গে ম্যাককালামের আবেগঘন আলিঙ্গন যেন সেই অনিশ্চয়তারই ইঙ্গিত দিচ্ছিল।
ম্যাচ শেষে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই ম্যাককালাম বলেন, তিনি সব ফরম্যাটেই দায়িত্ব পালন করতে উপভোগ করছেন।
‘আমি এই ভূমিকাটা খুব উপভোগ করছি। সব ফরম্যাটে দলের সঙ্গে কাজ করতে ভালো লাগছে এবং আমি অবশ্যই এই কাজটা চালিয়ে যেতে চাই,’ বলেন সাবেক নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক।
তবে বিষয়টি এতটা সহজ নয়। ইংল্যান্ডের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স নিয়ে ইতোমধ্যে বোর্ডের ভেতরে মূল্যায়ন শুরু হয়েছে। সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই ম্যাককালামের ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
ইসিবির প্রধান নির্বাহী রিচার্ড গুল্ড এবং চেয়ারম্যান রিচার্ড থম্পসন বর্তমানে এই সিদ্ধান্তের মূল দায়িত্বে আছেন। বিশ্বকাপ চলাকালেই তারা মুম্বাইয়ে উপস্থিত ছিলেন এবং দল নিয়ে পরবর্তী পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেছেন।
ম্যাককালামের চুক্তি অবশ্য ২০২৭ সালের ঘরের মাঠের অ্যাশেজ সিরিজ এবং তার পরের ওয়ানডে বিশ্বকাপ পর্যন্ত কার্যকর। কিন্তু ইংল্যান্ডের সাম্প্রতিক ব্যর্থতার পর সেই মেয়াদ পুরোটা শেষ করার সুযোগ তিনি পাবেন কি না, সেটাই এখন আলোচনার বিষয়।
বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়ায় অ্যাশেজ সিরিজে ইংল্যান্ডের হতাশাজনক পারফরম্যান্স পরিস্থিতিকে জটিল করেছে। সমালোচনার ঝড় উঠেছিল দলের প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা নিয়ে। প্রস্তুতি ম্যাচ ছাড়া সিরিজে নামা কিংবা মাঝপথে দলের নুসা সফর—এসব সিদ্ধান্তের দায় অনেকটাই ম্যাককালামের ওপরই বর্তায় বলে মনে করছেন সমালোচকেরা।
তবে দলের ভেতরে এখনও ম্যাককালামের প্রতি সমর্থন স্পষ্ট। অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক ম্যাচ শেষে তার কোচের প্রশংসা করে বলেন, ম্যাককালাম ইংল্যান্ড ক্রিকেটকে নতুনভাবে বদলে দিয়েছেন।
ব্রুক বলেন, ‘গত চার বছরে তিনি ইংল্যান্ড ক্রিকেটকে বদলে দিয়েছেন। আমার দেখা সেরা কোচদের একজন তিনি।’
এই বিশ্বকাপেও দলের কিছু ইতিবাচক দিক সামনে এসেছে। ফিল্ডিংয়ে উন্নতি হয়েছে, নতুন ভূমিকায় উইল জ্যাকস ভালো করেছেন এবং কৌশলগত কিছু সিদ্ধান্তও সফল হয়েছে।
তবু প্রশ্ন রয়ে গেছে—এগুলো কি ম্যাককালামের দায়িত্ব ধরে রাখার জন্য যথেষ্ট?
ইংল্যান্ডের সামনে এখন তিন মাসের বিরতি। আগামী ৪ জুন ঘরের মাঠে টেস্ট সিরিজ দিয়ে আবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরবে তারা। এর মধ্যেই বোর্ডকে ঠিক করতে হবে—ইংল্যান্ড ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ যাত্রায় ম্যাককালাম থাকবেন কি না।
একদিকে কোচ থাকতে চান, অন্যদিকে খেলোয়াড়রাও তার ওপর আস্থা রাখছেন। এখন দেখার বিষয়, বোর্ড সেই আস্থাকেই গুরুত্ব দেয় কি না।