Image description

রাজধানী তেহরান ও ইসফাহানসহ ইরানের বিভিন্ন স্থানে নতুন ধরনের হামলা শুরুর কথা জানিয়েছে ইসারয়েল। এক পোস্টে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, ‘ইরানি শাসনব্যবস্থার অবকাঠামো লক্ষ্য করে ব্যাপক আকারের হামলার ঢেউ’ শুরু করা হয়েছে, যার মধ্যে রাজধানী তেহরান ও মধ্যাঞ্চলের ইসফাহান শহর অন্তর্ভুক্ত। অভিযানটিকে সামরিকভাবে ১৫তম বিমান হামলা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে তাদের ওই পোস্টে।

 

যুদ্ধের সপ্তম দিনে রাজধানী তেহরানসহ দেশের বিভিন্ন শহরে জোরালো বিমান হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পেট হেগসেথ বলেছেন, সামনে এই বোমাবর্ষণ আরও ব্যাপক আকার নিতে পারে। একই সঙ্গে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী শুক্রবার (৬ মার্চ) জানিয়েছে, যুদ্ধের নতুন পর্বে তেহরানে আরেক দফা হামলা শুরু করেছে তারা। নতুন এই ধাপে দেশটির শাসনব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোগুলোকে লক্ষ্য করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

 

আলজাজিরার খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র জানায়, তাদের বোমারু বিমান ইরানের মাটির নিচে থাকা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণস্থলে বহু পেনিট্রেটর বোমা নিক্ষেপ করেছে।

 

সংবাদমাধ্যমের খবর ও ঘটনাস্থলে থাকা আল জাজিরার প্রতিবেদকদের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার তেহরানের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় বিস্ফোরণ ঘটে। এসব হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল ইরানের সামরিক ও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এলাকা। তবে আবাসিক এলাকা এবং তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশেও এসব হামলার প্রভাব লক্ষ করা যায়।

 
 

 

সংবাদমাধ্যম জানায়, শুক্রবার একটি ইরানি সামরিক অ্যাকাডেমিতেও হামলা হয়েছে। এ সময় ঘটনাস্থলের কাছ থেকে সরাসরি সম্প্রচার করছিলেন রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের এক সাংবাদিক। আলজাজিরা জানায়, আগের দিনের তুলনায় শুক্রবার রাজধানীতে হামলার তীব্রতা বেশি ছিল। বিস্ফোরণের ফলে সৃষ্ট কম্পন আলজাজিরার কার্যালয়েও অনুভূত হয়েছে বলে জানায় তারা।

 

হামলার লক্ষ্যবস্তুগুলোর মধ্যে ছিল পাস্তুর স্ট্রিটের আশপাশের এলাকা—যেখানে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো অবস্থিত। এই এলাকাতেই সংঘাতের শুরুর দিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নিহত হয়েছিলেন। এখানে ইরানের প্রেসিডেন্টের দপ্তরও অবস্থিত।

 

ইরানের অন্যান্য শহর—যেমন শিরাজ, কোম, ইসফাহান ও কেরমানশাহেও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। এসব অঞ্চলে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি রয়েছে। ইরানের ত্রাণ সংস্থা ইরানিয়ান রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, শনিবার থেকে শুরু হওয়া হামলায় দেশটিতে এখন পর্যন্ত অন্তত এক হাজার ৩৩২ জন নিহত হয়েছে।

 

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, রাতভর হামলায় ইরানের ছয়টি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণস্থল ধ্বংস করা হয়েছে এবং তিনটি উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীও দাবি করেছে, তাদের বাহিনী ইরানের লক্ষ্যবস্তুগুলো ধ্বংস করে দিচ্ছে, যার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী সামরিক হামলা চালিয়ে যাওয়ার পথ আরও সহজ হচ্ছে।

 

এদিকে ব্যাপক এ হামলার পর ইরানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, আগামী দিনগুলোতে তারা তাদের হামলার পরিধি আরও বাড়াবে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। এর একদিন আগে দেশটির কর্মকর্তারা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি স্থল অভিযান চালায়, তবে তারা তা মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সতর্ক করে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের স্থল হামলা ওয়াশিংটনের জন্য বড় বিপর্যয় ডেকে আনবে।’

 

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সকালে ইরানের রাজধানী তেহরানসহ কয়েকটি শহরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। পরমাণু ইস্যুতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনার মধ্যেই এই হামলা চালানো হয়। হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি, প্রতিরক্ষামন্ত্রী আমির নাসিরজাদেহ ও বিপ্লবী গার্ড কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুরসহ অন্তত ৪৮ শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হন।

 

জবাবে ইসরায়েলে এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে ইরান। খামেনিকে হত্যার পর গত রোববার থেকে হামলার তীব্রতা ব্যাপকভাবে বাড়িয়েছে তেহরান। সৌদি আবর, কাতারসহ মধ্যপ্রাচ্যের অন্তত ১০টি দেশে হামলা চালিয়েছে ইরান।

 

গত বছরের ১৩ জুন ইরানের পরমাণু স্থাপনা লক্ষ্য করে ব্যাপক বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল। যুক্তরাষ্ট্রও সেই অভিযানে অংশ নেয়। সে সময় ইরানের তিনটি প্রধান পরমাণু কেন্দ্রে আঘাতের দাবি করে পেন্টাগন। ১২ দিনের সংঘাত শেষে ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি হলেও পারস্পরিক অবিশ্বাস চরমে পৌঁছায়। সেই সংঘাতই ভিত গড়ে দেয় এবারের যুদ্ধের।