Image description

পাল্লেকেল্লেতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইংল্যান্ড-পাকিস্তান ম্যাচের শুরুটা ছিল ঝড়ের মতো শেষটাও হলো সেই ঝড়ের মতোই। মাঝখানে শুধু দাঁড়িয়ে ছিলেন একজন—হ্যারি ব্রুক। আর তার ব্যাট থেকেই জন্ম নিল সেই ইনিংস, যা ইংল্যান্ডকে তুলে দিল সেমিফাইনালে, আর পাকিস্তানকে ঠেলে দিল অনিশ্চয়তার দিকে।

 

১৬৫ রান—টি-টোয়েন্টিতে খুব বড় লক্ষ্য নয়, আবার ছোটও নয়। কিন্তু ম্যাচের চাপ, সেমিফাইনালের সমীকরণ, আর শাহীনের আগুনঝরা স্পেল—সব মিলিয়ে লক্ষ্যটা হঠাৎই পাহাড় মনে হচ্ছিল।

 

ইংল্যান্ডের ইনিংসের শুরুতে রীতিমতো আগুণ ঝড়ান শাহীন শাহ আফ্রিদি। সমালোচনায় থাকা এই পেসার যখন নতুন বলে আগুন ছড়াচ্ছিলেন, তখন ইংলিশ স্কোরবোর্ডে রান মাত্র ৩৫, আর ড্রেসিংরুমে তিন ইংলিশ ব্যাটার। ফিল সল্ট, জস বাটলার, জ্যাকব বেটেল—সবাই ফিরেছেন পাঁচ ওভারের আগেই। পাল্লেকেলের গ্যালারিতে পাকিস্তানি সমর্থকদের গর্জন তখন তুঙ্গে।

 

কিন্তু এক প্রান্তে দাঁড়িয়ে ছিলেন ব্রুক। মুখে তাড়াহুড়ো নেই, শরীরী ভাষায় অস্থিরতা নেই। সিঙ্গেল নিচ্ছেন, গ্যাপ খুঁজছেন, খেলা গভীরে টানছেন। টম ব্যান্টন এলেন-গেলেন, স্যাম কারান এলেন-গেলেন। ব্রুক রইলেন।

 

 

উইল জ্যাকসকে পাশে পেয়ে ম্যাচটা আস্তে আস্তে হাতের মুঠোয় আনলেন। ষষ্ঠ উইকেটে ৫২ রানের জুটি—যেখানে চাপটা বদলে গেল দিক। পাকিস্তান বুঝতে পারছিল, ম্যাচ তাদের হাত ফসকে যাচ্ছে।

 

৫১ বলে সেঞ্চুরি—১০টি চার, ৪টি ছক্কা। যখন তিনি আউট হলেন, কাজ প্রায় শেষ। কিন্তু ক্রিকেট তো শেষ বল পর্যন্ত নাটক চায়। তাই ব্রুক আউটের পর হঠাৎ ম্যাচে উত্তেজনা শেষ ওভারে ইংলিশদের দরকার তিন রান, হাতে দুই উইকেট। প্রথম বলেই বাউন্ডারি হাঁকিয়ে সব উত্তেজনা শেষ করলেন আর্চার।

 

এর আগে ব্যাট করতে নেমে পাকিস্তানের শুরুটা ছিল কাঁপা কাঁপা। সাঈম আইয়ুব, সালমান আগা দ্রুত ফিরলে আবারও ভরসা ছিলেন বাবর ও সাহিবজাদা ফারহান। বাবর ২৫ করে থামলেও ফারহান লড়লেন শেষ পর্যন্ত। ৪৫ বলে ৬৩—দেখালেন দায়িত্বশীল ব্যাটিং। ফখর জামান দ্রুত ২৫ রান যোগ করলেন। শেষদিকে শাদাব খানের ২৩ রানের ঝলক স্কোরকে ১৬৪ পর্যন্ত টেনে নেয়।

 

কিন্তু টি-টোয়েন্টির গল্পে ১৬৪ অনেক সময় যথেষ্ট হয় না, যদি প্রতিপক্ষে এমন এক ব্যাটার থাকেন, যিনি ম্যাচের গতি বুঝে খেলতে পারেন।

 

এই জয়ে টানা দুই ম্যাচ জিতে সেমিফাইনালে পৌঁছে গেল ইংল্যান্ড। গ্রুপে চার পয়েন্ট নিয়ে তারা এখন সবার ওপরে। আর পাকিস্তান? তাদের সামনে এখন কঠিন অঙ্ক—জিততে হবে, অন্য ফলের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে।