Image description

২০১৬ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের হয়ে বল হাতে আলো ছড়িয়েছিলেন সালেহ আহমেদ শাওন। ছিলেন দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি, টুর্নামেন্টের অন্যতম মিতব্যয়ী বোলার। সেই ক্রিকেটারই এখন শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের প্রধান ফটকে দাঁড়িয়ে বলছেন—ঘরে চাল কেনার টাকাও নেই।

 

প্রথম শ্রেণি ও লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে খেলা এই বাঁহাতি স্পিনারের জায়গা হয়নি চলতি মৌসুমের জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে পটুয়াখালী জেলা দলে। নিজেকে অন্যায়ভাবে বাদ দেওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাবেক টেস্ট ক্রিকেটার সোহাগ গাজীর বিরুদ্ধে (এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি)।

 

চরম আর্থিক সংকটের কথা জানিয়ে শাওন এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘আমি স্বর্ণ বিক্রি করে তারপর খেলতে গেছি ভাই। ভাবছি ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়নশিপ খেলব, কিছু টাকা পাব—ওই টাকা দিয়ে সংসার চালাব। এখন তো আমার এমন অবস্থা, ভাই, পকেটে রিকশা ভাড়াও থাকে না।’

১৬ বছর ধরে ক্রিকেট খেলার কথা তুলে ধরে তার আক্ষেপ, ‘আমি ১৬ বছর ক্রিকেট খেলি। ২০১৬ সালে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ খেলেছি। আমার মতো প্লেয়ার জেলা টিমে খেলতে পারে না? ওদিকে আমি ফার্স্ট ডিভিশন খেলি ডমিনেট করে।’

 

হতাশার চূড়ান্ত পর্যায়ে গিয়ে শাওন আত্মঘাতী ইঙ্গিতও দিয়েছেন।

 

‘আমি ফারুক স্যারের কাছে বলবো, যুবমন্ত্রীর কাছে বলবো। যদি না হয় সমস্যা নেই ভাই। আমি যদি মারা যাই, সব দায়ভার তাদের। আমি আত্মহত্যা করার জন্য প্রস্তুত—কারণ আমি ঘরের চালও কিনতে পারি না।’

 

তার এমন বক্তব্য ক্রীড়াঙ্গনে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে সাফল্যের পর অনেকেরই জাতীয় দলে পথচলা মসৃণ হয়নি—এ বাস্তবতা নতুন নয়। তবে একজন বিশ্বকাপ-খেলা ক্রিকেটারের প্রকাশ্য আর্তি প্রশ্ন তুলছে, প্রতিভা বিকাশ ও পরবর্তী সহায়তার কাঠামো কতটা কার্যকর?