দীর্ঘ সময় জাতীয় দলের বাইরে থাকার পর আবারও আলোচনায় এসেছেন সাকিব আল হাসান। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) তাকে ভবিষ্যৎ দলে বিবেচনার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন এই অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার। তবে আপাতত বিষয়টি নিয়ে খুবই সতর্ক অবস্থানেই রয়েছেন তিনি।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) বিসিবির বোর্ড সভায় সাকিবকে সম্ভাব্য স্কোয়াডে ফেরানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। পরে একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল থেকে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে সাকিব সংক্ষেপে জানান, এ বিষয়ে তিনি ধীরে-সুস্থে কথা বলতে চান।
প্রায় দেড় বছর ধরে জাতীয় দলের বাইরে থাকা সাকিব আগে দেশে ফিরে ঘরের মাঠে খেলে ক্যারিয়ারের শেষটা টানার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের কারণে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হয়নি। জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে তিনি আর দেশে ফেরেননি।
বোর্ড সভা শেষে বিসিবির মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান ও পরিচালক আমজাদ হোসেন জানান, সাকিবকে দলে ফেরানোর বিষয়ে বোর্ডে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হয়েছে। তিনি বলেন, সময়মতো সাকিবকে পাওয়া গেলে, তার ফিটনেস ও খেলার প্রস্তুতি ঠিক থাকলে এবং সংশ্লিষ্ট ভেন্যুতে উপস্থিত থাকার সুযোগ থাকলে নির্বাচকেরা তাকে দলে রাখার কথা ভাববেন। প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ার জন্য বিসিবি এনওসি দিতেও প্রস্তুত।
এছাড়া সাকিবকে আবার কেন্দ্রীয় চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। তার বিরুদ্ধে থাকা মামলা ও আইনি বিষয়গুলো নিয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনার কথাও উল্লেখ করেন আমজাদ হোসেন।
বিসিবির পরিচালক আসিফ আকবর জানান, ক্রিকেট অপারেশন্স সংক্রান্ত আলোচনার সময় চুক্তিবদ্ধ খেলোয়াড়দের তালিকা ও গ্রেডিং নিয়ে কথা বলতে গিয়েই সাকিবের প্রসঙ্গ উঠে আসে। একপর্যায়ে একজন পরিচালক জানান, সাকিব খেলতে আগ্রহী এবং বোর্ডের সঙ্গে তার যোগাযোগ হয়েছে। বিষয়টি সভাপতিকে অবহিত করা হয়, যাতে প্রয়োজনীয় সরকারি যোগাযোগ করা যায়।
আসিফ আকবর আরও বলেন, সাকিবের ব্যক্তিগত ও আইনি বিষয় সরকারের এখতিয়ারভুক্ত। বোর্ডের দৃষ্টিতে তাকে আবার দলে পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, সাকিব আল হাসান একজন ব্যতিক্রমী ক্রিকেটার ও বড় ব্র্যান্ড—এমন খেলোয়াড় ভবিষ্যতে পাওয়া কঠিন।
সবকিছু মিলিয়ে বিসিবির এই সিদ্ধান্তে জাতীয় দলে সাকিব আল হাসানের প্রত্যাবর্তন নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এখন ফিটনেস, প্রাপ্যতা ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষ হলে কবে তিনি আবার লাল-সবুজ জার্সিতে মাঠে নামবেন, সেটিই দেখার অপেক্ষা।