Image description

সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ সামনে রেখে তৃতীয় দিনের মতো অনুশীলন করেছে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। বুধবার জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুশীলন শুরুর আগে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন প্রধান কোচ টমাস ডুলি। দলের কোচিং স্টাফ, অনুশীলনের পরিবেশ, নতুন খেলোয়াড় সংযোজন এবং সাফে ভুটানের বিপক্ষে ম্যাচ নিয়ে কথা বলেছেন তিনি।

কোচিং স্টাফ নিয়ে সন্তুষ্টির কথা জানিয়ে ডুলি বলেন, ‘শুরু থেকেই আমাদের যে কোচিং স্টাফ রয়েছে, আমি তাদের নিয়ে খুবই সন্তুষ্ট। হাসান আল মামুন পদত্যাগ করেছিলেন, এরপর যেভাবে ফিরে এসেছেন, তাতে আমরা সবাই খুব খুশি। এখন আমরা সামনের দিকে এবং পরবর্তী ম্যাচের দিকে নজর দিচ্ছি।’

জাতীয় স্টেডিয়ামের ফ্লাডলাইট নিয়ে কোনও সমস্যা দেখছেন না ডুলি। বরং আগের দিনের অনুশীলনে আলো জ্বালিয়ে অনুশীলন করাকে ইতিবাচক অভিজ্ঞতা হিসেবে দেখছেন তিনি। ডুলির ভাষায়, ‘গতকাল আমাদের দারুণ ট্রেনিং সেশন হয়েছে। ফ্লাডলাইট চালু থাকলে বিষয়টি দেখতে কেমন লাগে, তা আমরা বুঝতে চেয়েছিলাম। সবকিছু যে প্রস্তুত, তা দেখে খুব ভালো লেগেছে। এটি একদম নিখুঁত ছিল।’

দলের সঙ্গে তাজউদ্দীন ও আবদুল্লাহ ওমর সাজিবকে যোগ করার কারণও ব্যাখ্যা করেছেন বাংলাদেশ কোচ। তিনি জানান, ইনজুরি পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই বিকল্প খেলোয়াড় প্রস্তুত রাখা হচ্ছে।

ডুলি বলেন, ‘আমাদের কাছে সীমিত সংখ্যক খেলোয়াড় রয়েছে, কিছু ইনজুরি সমস্যা ছিল। কেউ কেউ ফিরে আসছে। যেমন বিশ্বনাথের কিছুটা সমস্যা রয়েছে। সে ট্রেনিং ও ম্যাচে নিজের সেরাটা দিচ্ছে এবং আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।’

 

বিশ্বনাথ আবার হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পেলে সমস্যা তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক ডুলি। তাই কোনো অঘটন ঘটলে যাতে দ্রুত বিকল্প পাওয়া যায়, সে জন্যই নতুন দুজনকে অনুশীলনে নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। তবে ভালো পারফর্ম করলে তারা চূড়ান্ত স্কোয়াডেও সুযোগ পেতে পারেন- এমন ইঙ্গিতও দিয়েছেন কোচ।

সাফে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্নের জবাবে ডুলি স্পষ্ট করে বলেছেন, নিজের খেলোয়াড়দের ওপর তার পূর্ণ আস্থা রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইন্দোনেশিয়া কিংবা মালয়েশিয়ার মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে ভালো খেললেও ভুটান বা ভারতের মতো দলের বিপক্ষে কেন একই রকম পারফরম্যান্স হচ্ছে না-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি আমার খেলোয়াড়দের ওপর পূর্ণ বিশ্বাস রাখি।’

কোচের ভাষ্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে, ‘গত রাতে একটি ইন্টারভিউতে দেখেছিলাম এবং খবরে এসেছে- আমি নাকি খেলোয়াড়দের বিশ্বাস করি না। সে কিসের ভিত্তিতে এটি বললো আর কীভাবে এই কথা বের করলো, বুঝি না। যে প্রশ্নটি করা হয়েছিল তা ছিল হামজাকে ছাড়া কি আমরা ভুটানের বিপক্ষে জিততে পারব? আপনারা কী মনে করেন? আমাদের তো পরবর্তী পর্বে যেতে হলে ভুটানকে হারাতেই হবে। আমরা কি তাদের হারাতে পারব? অবশ্যই পারব। এবং আমি আমার খেলোয়াড়দের ওপর পূর্ণ বিশ্বাস রাখি।’

তবে ফুটবলারদের মানুষ হিসেবে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন ডুলি। তার মতে, ম্যাচে চাপের কারণে ভুল হওয়া স্বাভাবিক,‘তারা কেউ রোবট নয় যে প্রোগ্রাম সেট করে দিলাম আর খেলে ফেলল। তাদের ওপরও চাপ বা মানসিক ধকল থাকে। ম্যাচের মধ্যে চাপে পড়ে যদি তারা ভুল করে, বল বেশি দূরে ড্রপ করে আর প্রতিপক্ষ গোল দিয়ে দেয়, তাতে কি আমার দোষ? এটাই আমি বলছিলাম।’

খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাসী রাখার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। ডুলি বলেন, ‘খেলোয়াড়রা যেভাবে খেলার কথা, সেভাবে যাতে খেলতে পারে সেই আস্থা তাদের দিতে হবে। চাপ থাকলে মাঝেমধ্যে এমন ভুল হয়ে যায়। যেকোনও দলই এ ধরনের সমস্যার মুখে পড়তে পারে।’

সাফে কোনও প্রতিপক্ষকেই সহজভাবে নেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ কোচ, ‘ইন্দোনেশিয়া হোক বা পাকিস্তান- সব প্রতিপক্ষকেই আমরা গুরুত্ব দিই। ভুটানের বিপক্ষে ম্যাচ সহজ হবে, এমন ভেবে মাঠে নামার সুযোগ নেই। প্রতিটি ম্যাচেই আমাদের নিজেদের সেরাটা দিতে হবে এবং জিততে হবে।’

ডুলির কাছে দলের ইতিবাচক মানসিকতাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তার কথায়, ‘প্রথম থেকে শেষ ম্যাচ পর্যন্ত এই ইতিবাচক মানসিকতা বজায় রাখাই আমাদের মূল লক্ষ্য। সে কারণেই আমি খেলোয়াড় ও স্টাফদের বলেছি, আমরা কেবল ইতিবাচক বিষয়গুলো নিয়েই কথা বলব। নেতিবাচক আলোচনা, যেমন আলোর সমস্যা বা অন্য কিছু- এগুলো নিয়ে কথা বলে লাভ নেই।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সমালোচনা খেলোয়াড়দের ওপর প্রভাব ফেলে বলেও স্বীকার করেছেন ডুলি। তবে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ইতিবাচক পরিবেশ ধরে রাখার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি, ‘অবশ্যই (প্রভাব ফেলে)। যারা দলকে জেতাতে চায়, তাদের এই দলের অংশ হতে হবে, ফুটবল এমনই। আমরা সবাই জিততে চাই। আমরা সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করি, মানুষ মাত্র ভুল হতে পারে। দলে ইতিবাচক পরিবেশ বজায় রাখা সবচেয়ে জরুরি, যেন খেলোয়াড়রা তাদের পরিবার, ভক্ত এবং দেশের জন্য সেরাটা দিতে পারে। আমরা সবাই একসঙ্গে কাজ করলে অবশ্যই সাফল্য আসবে।’