সংযুক্ত আরব আমিরাতের কন্ডিশন আফগানিস্তানের পরিচিত। সেখানে নিয়মিত ক্রিকেট খেলার অভিজ্ঞতাও তাদের অন্য দুই প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশের ও জিম্বাবুয়ের চেয়ে বেশি। সেই সুবিধা কাজে লাগিয়ে আসন্ন ত্রিদেশীয় সিরিজে নিজেদের ফেভারিট মনে করছেন আফগান অধিনায়ক রহমত শাহ। জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক সিকান্দার রাজাও মানছেন, পরিচিত কন্ডিশনে খেলার কারণে বাড়তি সুবিধা পাবে আফগানিস্তান।
আজ আবুধাবিতে শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ, জিম্বাবুয়ে ও আফগানিস্তানকে নিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজ। এর আগে বাংলাদেশের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে কঠিন পরিস্থিতি থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে ড্র করার আত্মবিশ্বাসও কাজে লাগাতে চান রহমত।
আবুধাবিতে সিরিজ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে রহমত বলেছেন, ‘আমার মনে হয়, আফগানিস্তানই এখানে ফেভারিট। কারণ, আমরা আমাদের বেশির ভাগ ম্যাচ সংযুক্ত আরব আমিরাতে খেলেছি, বিশেষ করে আবুধাবি ও শারজায়। তাই এখানকার কন্ডিশনের সঙ্গে পরিচিত হওয়ায় আমরা বাড়তি সুবিধা পাব।’
তবে অন্য দলগুলোকে খাটো করে দেখছেন না আফগান অধিনায়ক। তার ভাষায়, ‘আমি বলব না যে অন্য দলগুলো ভালো নয়। সব দলই এই টুর্নামেন্টের জন্য ভালো প্রস্তুতি নিয়েছে। আমার মনে হয়, দারুণ একটি টুর্নামেন্ট হতে যাচ্ছে।’
বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্টে ঘুরে দাঁড়িয়ে ড্র করাকে আফগানিস্তানের জন্য ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে দেখছেন রহমত। ম্যাচের শেষ দেড় দিনে ব্যাটারদের লড়াইয়ের প্রশংসা করেছেন তিনি।
রহমত বলেন, ‘টেস্ট ম্যাচটির কথা বলতে গেলে, আমার মনে হয় এটি আমাদের জন্য ঐতিহাসিক ম্যাচ ছিল। আমরা সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়েছি। মাঝপথে আমরা বেশ চাপে ছিলাম। কিন্তু শেষ দেড় দিনে ব্যাটাররা যেভাবে ব্যাটিং করেছে, তার কৃতিত্ব পুরো দলের। বিশেষ করে ব্যাটাররা পুরো সময় ভালো ব্যাটিং করেছে, প্রচণ্ড গরমের মধ্যেও নিজেদের সামলেছে। বাংলাদেশ যখন ম্যাচে এগিয়ে ছিল, তখন সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে ড্র করা দারুণ অর্জন।’
ওয়ানডে সিরিজে নামার আগে এই ফল দলকে বাড়তি আত্মবিশ্বাস জোগাবে বলে মনে করেন আফগান অধিনায়ক। তার কথায়, ‘টেস্টে ড্র আমাদের ওয়ানডে ম্যাচগুলোর জন্য অবশ্যই ভালো আত্মবিশ্বাস জোগাবে।’
আফগানিস্তানের জন্য আরেকটি স্বস্তির খবর, ওয়ানডে সিরিজে ফিরছেন রশিদ খান ও মোহাম্মদ নবী। বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্টে খেলেননি রশিদ, তাকে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছিল। দুই অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের ফেরাকে দলের জন্য বড় সুবিধা হিসেবে দেখছেন রহমত।
রহমতের পর সংবাদ সম্মেলনে আসা জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক সিকান্দার রাজাও আফগানিস্তানের কন্ডিশন-সুবিধার কথা স্বীকার করেছেন। তার মতে,‘আমি সব সময় মনে করি, স্বাগতিক দল বাড়তি সুবিধা পায়। আর সেটাই স্বাভাবিক। কারণ, আফগানিস্তান এই কন্ডিশনে অনেক ক্রিকেট খেলেছে।’
রাজা যোগ করেন, ‘তাই আমি বলব না যে এককভাবে কোনো দল ফেভারিট। তবে আফগানিস্তানের জন্য এটি ঘরের মাঠের মতো কন্ডিশন, ফলে তারা অবশ্যই বাড়তি সুবিধা পাবে।’
বাংলাদেশ অধিনায়ক লিটন কুমার দাস অবশ্য ত্রিদেশীয় সিরিজের চাপের দিকটি তুলে ধরেছেন। তিন অধিনায়কের মধ্যে সবার আগে সংবাদ সম্মেলনে আসা লিটন জানান, এমন টুর্নামেন্টে শুরু থেকেই ভুলের সুযোগ কম।
লিটন বলেন, ‘আমি অনেক দিন ধরে খেলছি, কিন্তু ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলার অভিজ্ঞতা আমার খুব বেশি নয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘ত্রিদেশীয় সিরিজে বাড়তি চাপ থাকে, কারণ তিনটি দলের লক্ষ্যই এক ফাইনাল। দ্বিপক্ষীয় সিরিজে প্রথম ম্যাচ হারলেও সিরিজে সমতা ফেরানোর সুযোগ থাকে। কিন্তু ত্রিদেশীয় সিরিজে প্রথম ম্যাচ হারলে শুরুতেই পিছিয়ে পড়তে হয়। তখন নেট রান রেটও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।’