Image description

২০২৬ বিশ্বকাপে গোটা ফুটবল দুনিয়াকে চমকে দিয়েছিলেন কেপ ভার্গের গোলরক্ষক ভোজিনহা। এরপর যে কয়েকজন ফুটবলারের জীবন আমূল বদলে দিয়েছিল, ভোজিনহা তাদের অন্যতম। কেপ ভার্দের ৪০ বছর বয়সী গোলকিপার রাতারাতি তারকা বনে যান। কিন্তু বিখ্যাত হয়েই যেন খ্যাতির বিড়ম্বনায় পড়েছেন ভোজিনহা। এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, তার জীবনের সুখ-শান্তি সব হারিয়ে গেছে। সুযোগ পেলে আবার আগের জীবনটাই বেছে নিতে চান ভোজিনিয়া।

বিশ্বকাপের আগে পতুর্গিজ দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব শ্যাভেসে খেলতেন ভোজিনিয়া। বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে স্পেনের বিপক্ষে সাতটি দুর্দান্ত সেভ করে আলোচনায় আসেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভোজিনিয়াকে নিয়ে রীতিমতো উন্মাদনা শুরু হয়। এতে বাড়তে থাকে তার ইনস্টাগ্রাম ফলোয়ার।

মাত্র ৫০ হাজার ফলোয়ার থেকে কয়েকঘণ্টার মধ্যে ১০ লাখ ছাড়িয়ে যায়। বর্তমানে তার ফলোয়ার সংখ্যা ২ কোটি ৮০ লাখেরও বেশি। বিশ্বকাপের পর চিলির ক্লাব কোলো কোলোতে নাম লেখিয়েছেন ভোজিনহা। এতটাই আলোচিত হয়েছেন যে, নিজের নামের জার্সি গায়ে দিতে লিগের নিয়মই বদলে গেছে। কিন্তু খ্যাতির যে বিড়ম্বনার আছে, সেটা ভালোভাবেই বুঝতে পারছেন তিনি। দ্য অবজার্ভারকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ভোজিনহা জানিয়েছেন, তার জীবনে শান্তি বলে আর কিছু নেই।

 
 
 

ওই সাক্ষাৎকারে ভোজিনহা বলেন, ‘আমার জীবন পুরোপুরি বদলে গেছে, তবে বেশিরভাগটাই নেতিবাচক।’ কেপ ভার্দের গোলরক্ষক যোগ করেন, ‘জীবন থেকে শান্তি ও স্বস্তি হারিয়ে ফেলেছি। এখন আর ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বলতে কিছু নেই। অন্তত আগের তুলনায় অনেকটা কমে গেছে।’

 
 

কী ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে, সেটার ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, ‘এখন বাইরে বের হলে বা কোনো রেস্তোরাঁয় গেলে সব সময় কেউ না কেউ ছবি বা অটোগ্রাফ চায়। কখনো কখনো এর চেয়েও খারাপ কিছু হয়। আবার কেউ আমাকে গোপনে ভিডিও করতে থাকে।’

 

ভোজিনহার এমন পরিচিতি ব্যবহার করতে চায় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোও। তবে এক্ষেত্রেও একটা সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছেন তিনি। ভোজিনিহার ভাষায়, ‘বিশ্বকাপ চলাকালে অনেক কোম্পানি ও ব্র্যান্ড আমার সঙ্গে কাজ করতে চেয়েছিল। কিন্তু আমরা যখন প্রতিযোগিতায় ছিলাম, তখন আমি শুধু ইউএফএল মোবাইলের সঙ্গে একটি প্রচারণামূলক কাজে অংশ নিয়েছি। এই মুহূর্তে আমি তামাক, অ্যালকোহল বা বেটিংয়ের কোনো ব্র্যান্ডের সঙ্গে কাজ করতে চাই না।’

সাক্ষাৎকারের শেষ দিকে ভোজিনহাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, তারকা হওয়ার আগের জীবন আর বর্তমান জীবনের মধ্যে কোনটাকে বেছে নেবেন, এমন প্রশ্নের জবাবে ভোজিনহা বলেছেন, ‘সত্যি বলতে, আমাকে যদি আজকের জীবন আর আগের জীবনের মধ্যে একটি বেছে নিতে বলা হয়, তাহলে আমি আগের জীবনটাই বেছে নেব।’