ফাইনাল থেকে দূরত্ব ছিল মাত্র এক ম্যাচ। কিন্তু সেই শেষ বাধাটাই পেরোতে পারল না বাংলাদেশ। ভারতের ১৪৯ রানের জবাবে ব্যাটিংয়ে প্রয়োজনীয় গতি তুলতে না পেরে ৪০ রানে হেরেছে নিগার সুলতানার দল। সেমিফাইনালেই তাই শেষ হলো বাংলাদেশের নারী এশিয়া কাপ অভিযান।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রথম সেমিফাইনালে আগে ব্যাট করে ৬ উইকেটে ১৪৯ রান তোলে ভারত। জবাবে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১০৯ রানেই থামে বাংলাদেশের ইনিংস। এই জয়ে ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে ভারত।
১৫০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা একেবারে খারাপ ছিল না বাংলাদেশের। প্রথম চার ওভারে কোনো উইকেট না হারিয়ে আসে ২২ রান। তবে প্রয়োজনীয় রানরেটের তুলনায় সেই গতি যথেষ্ট ছিল না।
পঞ্চম ওভারে ১৪ রান করে জুয়াইরিয়া ফেরদৌসের বিদায়ে ভাঙে উদ্বোধনী জুটি। এরপর ২১ রান করে আউট হন দিলারা আক্তার। মাঝের ওভারগুলোতেও রান তোলার গতি বাড়াতে পারেনি বাংলাদেশ।
শোবহানা মোস্তারি ১৮ এবং অধিনায়ক নিগার সুলতানা করেন ১৯ রান। দ্রুত রান তুলতে না পারায় শেষ দিকে লক্ষ্য ক্রমেই নাগালের বাইরে চলে যায়। ১৬ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ৫ উইকেটে ৮৪ রান, তখন শেষ ২৪ বলে প্রয়োজন ছিল ৬৬ রান।
শেষ দিকে কিছুটা আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেন স্বর্ণা আক্তার। ১৮ বলে ২২ রান করেন তিনি। ফাহিমা খাতুনের ব্যাট থেকে আসে ১৪ রান। তবে ততক্ষণে ম্যাচ চলে গেছে ভারতের নিয়ন্ত্রণে। শেষ ওভারে ফাহিমা ও রাবেয়া খান ফিরে গেলে ১০৯ রানেই শেষ হয় বাংলাদেশের ইনিংস।
ভারতের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল দীপ্তি শর্মা। বাংলাদেশের মিডল অর্ডারে আঘাত হেনে নেন ৩ উইকেট। নন্দনী শর্মা নেন ২টি, শ্রী চারণী ও প্রেমা রাওয়াত পান একটি করে উইকেট।
এর আগে টস জিতে ভারতকে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়েছিল বাংলাদেশ। শুরুতেই স্মৃতি মান্ধানাকে মাত্র ২ রানে ফিরিয়ে দেন সুলতানা খাতুন। কিন্তু অন্য প্রান্তে দ্রুত রান তুলতে থাকেন শেফালি ভার্মা।
মাত্র ৪০ বলে ৬৪ রানের ইনিংসে বাংলাদেশের বোলারদের ওপর চাপ বাড়ান ভারতীয় ওপেনার। তার ইনিংসের ওপর ভর করেই বড় সংগ্রহের ভিত পায় ভারত। প্রতিকা রাওয়াল করেন ২০ রান।
মাঝে কিছুটা নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেলেও শেষ দিকে ভারতের রান আটকে রাখতে পারেনি বাংলাদেশ। রিচা ঘোষ ২১, অধিনায়ক হারমানপ্রীত কৌর ২৪ এবং দীপ্তি শর্মা ১৩ রান করলে ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৪৯ রানে পৌঁছে যায় ভারত।
বাংলাদেশের হয়ে সুলতানা খাতুন নেন ২ উইকেট। একটি করে উইকেট পান মারুফা আক্তার, নাহিদা আক্তার ও রাবেয়া খান।
গ্রুপ পর্বে দুই জয়ে সেমিফাইনালে উঠেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে ভারতের সামনে ব্যাটিংয়ের পুরোনো দুর্বলতাই আবার বড় হয়ে দেখা দিল। ফলে ২০১৮ সালের পর আবার এশিয়া কাপের শিরোপা জয়ের স্বপ্ন শেষ হলো শেষ চারেই।