Image description
ডারউইনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয়ের আত্মবিশ্বাস সঙ্গে নিয়েই দ্বিতীয় টেস্টে নামছে বাংলাদেশ। তবে সেই জয় নিয়ে পড়ে না থেকে ম্যাকাইতে নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় মনোযোগী অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। তার বিশ্বাস, প্রথম টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার বোলিং আক্রমণের বিপক্ষে রান করার অভিজ্ঞতা দলের ব্যাটারদের আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বাড়িয়েছে।
 
প্রথম টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়ে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে আছে বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এটাই বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট জয়। ২০০৩ সালের পর প্রথমবার অস্ট্রেলিয়া সফরে গিয়েই এমন কীর্তি গড়েছে তারা।
 
শনিবার (২২ আগস্ট) ম্যাকাইতে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া। তার আগে সংবাদ সম্মেরনে শান্ত জানান, অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী বোলিং আক্রমণের বিপক্ষে সফল হওয়া ব্যাটারদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে।
 
বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে আমি এমন বোলিং আক্রমণের বিপক্ষে খেলতে চেয়েছিলাম। কারণ আমি সবসময় বিশ্বাস করি, এমন বোলিংয়ের বিপক্ষে রান করতে পারলে যেকোনো আক্রমণের বিপক্ষেই রান করা সম্ভব। তাই এটি আমার জন্য একটি সুযোগ এবং ব্যাটিং ইউনিট হিসেবে বড় চ্যালেঞ্জ। এমন দলের বিপক্ষে রান করতে পারলে ভবিষ্যতে একই ধরনের কন্ডিশন বা বোলিং আক্রমণের মুখোমুখি হলে আত্মবিশ্বাস অনেক বেড়ে যায়।’
 
ডারউইন টেস্টে ব্যাট হাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল শান্তরও। প্রথম ইনিংসে ৮৪ রান করার পাশাপাশি দুটি গুরুত্বপূর্ণ জুটিতে ভূমিকা রাখেন তিনি। এবার ম্যাকাই’র উইকেটে ডারউইনের চেয়ে বেশি বাউন্স পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সেটি মোকাবিলার প্রস্তুতি বাংলাদেশ আগেই নিয়েছে বলে জানান শান্ত।
 
তিনি বলেন, ‘এখানে ডারউইনের তুলনায় কিছুটা বেশি বাউন্স থাকবে। আমরা এখানে আসার আগেই এমন বাউন্সি উইকেটে খেলার প্রস্তুতি নিয়েছি। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজেও প্রায় একই ধরনের উইকেট পেয়েছিলাম। ফলে কীভাবে খেলতে হবে, সে সম্পর্কে আমাদের ধারণা আছে। গত কয়েক দিনের নেট সেশনে ব্যাটাররা নিজেদের দক্ষতা নিয়ে কাজ করেছে। আশা করি, তারা বাড়তি বাউন্স ভালোভাবেই সামলাতে পারবে।’
 
ডারউইনে বাংলাদেশের ব্যাটিং ছিল দীর্ঘ সময় ধরে ধৈর্যের পরীক্ষা। প্রথম ইনিংসে ১৩৮ ওভার ব্যাট করে দলটি। তানজিদ হাসান পান ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি, শান্ত ও মেহেদী হাসান মিরাজ করেন ফিফটি। গুরুত্বপূর্ণ ৪৯ রানের ইনিংস খেলেন মুমিনুল হকও। অফ স্টাম্পের বাইরের বল ছেড়ে দেয়ার ক্ষেত্রে ব্যাটারদের ধৈর্যও ছিল চোখে পড়ার মতো। পরিস্থিতি অনুযায়ী পরিকল্পনা বদলের ওপরও জোর দিয়েছেন শান্ত। তার মতে, সব টেস্টে একই কৌশলে খেলার সুযোগ নেই।
 
শান্ত বলেন, ‘বিভিন্ন কন্ডিশনের জন্য আমাদের আলাদা পরিকল্পনা থাকে। প্রতিটি টেস্টে আমরা একইভাবে খেলব না। কন্ডিশন বুঝে নিজেদের মানিয়ে নেয়ার চেষ্টা করি। প্রতিপক্ষ কীভাবে আক্রমণ করবে, সেটি বিবেচনায় নিয়ে প্রস্তুতি নিই। উপমহাদেশে আমাদের পরিকল্পনা একরকম, আবার উইকেট, কন্ডিশন ও বোলিং আক্রমণের ওপর ভিত্তি করে সেটি বদলাতে হয়। আগের টেস্টে আমাদের পরিকল্পনা ছিল যথেষ্ট ধৈর্য ধরার। আমরা খুব বেশি অভিজ্ঞ দল নই, তাই অনেক সময় ধৈর্য ধরাটাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।’
 
ডারউইনের ঐতিহাসিক জয় নিয়ে বাংলাদেশে উচ্ছ্বাস থাকলেও সেটি এখন অতীত বলে মনে করছেন শান্ত। কোচ ফিল সিমন্সও দলকে আবেগ নিয়ন্ত্রণে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। অধিনায়কের বিশ্বাস, পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে নতুন চ্যালেঞ্জে দ্রুত মনোযোগ ফেরাতে পারবেন দলের খেলোয়াড়েরা।
 
তিনি বলেন, ‘প্রথম টেস্টের পর অনেক আবেগ তৈরি হয়েছে। তবে পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে নতুন কন্ডিশন ও নতুন চ্যালেঞ্জের সামনে আমাদের বারবার ফিরে আসতে হবে। গত কয়েক দিন আমরা খুব ভালোভাবে প্রস্তুতি নিয়েছি। খেলোয়াড়রা যথেষ্ট পেশাদার।’
 
অভিজ্ঞ ক্রিকেটাররা তরুণদেরও বাস্তবতায় ফিরিয়ে এনে নিয়মিত অনুশীলন ও সঠিক প্রক্রিয়া অনুসরণের কথা বলছেন বলে জানান শান্ত। তার ভাষায়, ‘এখানে কয়েকজন অভিজ্ঞ খেলোয়াড় আছেন। তারা তরুণদের বলছেন, আমাদের আবার ফিরে আসতে হবে এবং অনুশীলনে সঠিক কাজগুলো বারবার করতে হবে। ড্রেসিংরুম ও অনুশীলনে আমরা সেটিই করার চেষ্টা করেছি। ছেলেরা আবারও দলের জন্য ভালো করতে প্রস্তুত।’
 
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টেস্টের জয়কে দেশের ক্রিকেটের জন্য গর্বের মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করলেও সেটি নিয়ে আর পড়ে থাকতে চান না শান্ত। টাইগার অধিনায়ক বলেন, ‘এটি সব খেলোয়াড়ের জন্য, এমনকি বাংলাদেশের সাবেক ক্রিকেটারদের জন্যও গর্বের মুহূর্ত। কিন্তু সেটি হয়ে গেছে। এখন আমাদের আবারও পাঁচ দিন ভালো ক্রিকেট খেলতে হবে। এই টেস্টটি আমাদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। ডারউইনে আমরা দারুণ কাজ করেছি, কিন্তু এখন এই টেস্টেই মনোযোগ দিতে হবে। গত কয়েক দিনে আমরা নিজেদের ভালোভাবেই প্রস্তুত করেছি।’