Image description

জেনেভা ক্যাম্পে মাদক কারবার ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অন্যতম নিয়ন্ত্রক হিসেবে পরিচিত চুয়া সেলিম এবার অস্ত্র ও হেরোইনসহ র‌্যাবের হাতে ধরা পড়েছে। শুধু তিনি নন, একই অভিযানে মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যান এলাকার কিশোর গ্যাং ‘মাহী গ্রুপ’-এর সেকেন্ড ইন কমান্ড জয় এবং তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী রতন ওরফে ‘বোমা রতন’কেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। র‌্যাবের দাবি, তিনজনই নিজ নিজ এলাকায় অপরাধী চক্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। তাদের বিরুদ্ধে হত্যা, মাদক, ডাকাতি, ছিনতাই, অস্ত্রসহ বিভিন্ন অভিযোগে বহু মামলা রয়েছে।

র‌্যাব-২-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি নয়মুল হাসান শুক্রবার (২১ আগস্ট) বছিলায় র‌্যাব-২ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে গ্রেপ্তারের তথ্য জানান। র‌্যাব জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি তাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অপরাধচক্রের অন্য সদস্যদেরও আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

গ্রেপ্তার চুয়া সেলিমের পুরো নাম মো. সেলিম আশরাফী। বয়স প্রায় ৪৪-৪৫ বছর। তিনি চুয়া সেলিম ওরফে চোরা সেলিম নামে পরিচিত। র‌্যাবের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে হত্যা, হত্যাচেষ্টা, মাদক, বিস্ফোরক ও বিশেষ ক্ষমতা আইনসহ বিভিন্ন অভিযোগে মোট ৩৬টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে হত্যা ও মাদক মামলায় তিনি ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি ছিলেন।

র‌্যাব-২ জানায়, বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তারা জানতে পারে, চুয়া সেলিম জেনেভা ক্যাম্পের একটি গোপন আস্তানায় অবস্থান করছেন। পরে সেখানে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। অভিযানের সময় তার কাছ থেকে একটি বিদেশি ৭.৬৫ এমএম পিস্তল, দুই রাউন্ড তাজা গুলি এবং ১১০ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়েছে। র‌্যাবের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে জেনেভা ক্যাম্প ও আশপাশের এলাকায় মাদক ব্যবসা, ছিনতাই, খুন ও মারামারিসহ বিভিন্ন অপরাধে চুয়া সেলিমের প্রভাব ছিল। তার নেতৃত্বে একটি অপরাধী গ্রুপ সক্রিয় ছিল বলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে। চুয়া সেলিমকে এর আগেও গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। ২০২৫ সালের ৮ জানুয়ারি রাতে ধানমন্ডির একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার অবস্থান শনাক্ত করে র‌্যাব। তখনও তাকে জেনেভা ক্যাম্পের শীর্ষ মাদক কারবারিদের একজন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।

অন্যদিকে, চাঁদ উদ্যান এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয় কিশোর গ্যাং ‘মাহী গ্রুপ’-এর সেকেন্ড ইন কমান্ড জয়কে। র‌্যাবের তথ্যমতে, তার বিরুদ্ধে ডাকাতি, ছিনতাই ও মাদকসহ ১০টি মামলা রয়েছে। র‌্যাব বলছে, জয় ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা উদ্যান, চাঁদ উদ্যান ও নবীনগর এলাকায় ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও মারামারির সঙ্গে জড়িত ছিল। স্থানীয় ব্যবসায়ী, ভাড়াটিয়া এবং নির্মাণকাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। চলতি বছরের ২৪ এপ্রিলও জয়কে মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। 

TravelGuides & Travelogues

 

মোহাম্মদপুরের বিজলী মহল্লায় পৃথক অভিযান চালিয়ে র‌্যাব-২ গ্রেপ্তার করে তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী মো. রতন ওরফে ‘বোমা রতন’কে। র‌্যাব জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে দস্যুতা, ডাকাতির প্রস্তুতি, অস্ত্র, ছিনতাই ও সিঁধেল চুরিসহ মোট ২০টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে গুরুতর অপরাধসংক্রান্ত ১০টি এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে আরও ১০টি মামলা রয়েছে। র‌্যাবের দাবি, বোমা রতন দীর্ঘদিন ধরে গজনবী রোড, বছিলা ও জেনেভা ক্যাম্প এলাকায় ডাকাতি, ছিনতাই ও অস্ত্রধারী চক্রের সঙ্গে যুক্ত ছিল। ২০২২ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি গজনবী রোড এলাকা থেকেও তাকে ধারালো অস্ত্রসহ আটক করা হয়েছিল।