২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট খেলতে গিযে স্বপ্নের মতো শুরু পেয়েছে বাংলাদেশ। স্বাগতিকদের প্রথম দিনেই দুইশর নিচে অল-আউট করে ব্যাটিংয়েও ভালো করছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। প্রথম দিনের বিতর্ক হয়ে রইল আলট্রা এজের সৌজন্যে স্টিভেন স্মিথের বেঁচে যাওয়া। দিনের খেলা শেষে স্মিথ নিজেও স্বীকার করেছেন, প্রযুক্তিই তাকে বাঁচিয়ে দিয়েছে।
ব্যক্তিগত ২ রানে জীবন পেয়েছিলেন স্মিথ। স্লিপে তার ক্যাচ ছাড়েন তানজিদ। এরপর চরম নাটকীয়তার তৈরি হয় ২১তম ওভারে। এবাদত হোসেনের করা বলটি স্মিথের ব্যাটের কানায় লেগে সরাসরি উইকেটকিপারের হাতে জমা হয়। ফিল্ডারদের জোরালো আবেদনের মুখে আম্পায়ার কুমার ধর্মসেনা আউট না দিলে বাংলাদেশ দল সঙ্গে সঙ্গে রিভিউ নেয়। রিভিউ প্রক্রিয়া শুরু হতে স্মিথ নিজে থেকেই ক্রিজ ছেড়ে সাজঘরের দিকে হাঁটা দেন।
স্মিথের আচরণে স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল যে, বল যে তার ব্যাটের কানায় লেগেছে সেটা তিনি নিজেও বুঝতে পেরেছেন। কিন্তু সবাইকে অবাক করে আলট্রাএজে কোনো স্পাইক দেখা যায়নি! আম্পায়ার তাকে নট-আউট ঘোষণা করেন। ৭ রানে আবারও বেঁচে যাওয়া স্মিথ পরে দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৭১ রানের ইনিংস খেলেন। তবে মাঠে স্মিথের এমন আচরণ নিয়ে ধারাভাষ্যকার কক্ষে শুরু হয় তুমুল আলোচনা।
চ্যানেল সেভেনের ধারাভাষ্যকার টিম লেন বলেন, ‘স্মিথ মিড-উইকেটের দিকে হেঁটে প্রায় ২০ মিটার চলে গিয়েছিল। এরপর সে ফিরে আসে। কারণ সে হয়তো বুঝতে পেরেছিল, বেঁচে যাওয়ার একটা সুযোগ থাকতে পারে। স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল সে জানে যে, বল ব্যাটে লেগেছে। তবুও সে বেঁচে গেল! একজন ব্যাটার যদি নিজের আচরণ দিয়ে বুঝিয়ে দেয় যে, বল তার ব্যাটে লেগেছে; তবে আম্পায়াররা কেন সেটা বিবেচনায় নেবেন না? এটি অনেকটা মাঠ ছাড়ার সমতুল্য ছিল। কিন্তু আম্পায়ারিং টিম বিষয়টি সেভাবে দেখেনি।’
অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ওপেনার ম্যাথু হেইডেন প্রযুক্তির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘কেন এই প্রযুক্তি? এর কাজটা আসলে কী? আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি এটি খেলায় অনেক বিভ্রান্তি তৈরি করেছে। তবে আমাদের এখানে বিশ্বমানের দুই আম্পায়ার রিচার্ড ইলিংওয়ার্থ ও ধর্মসেনা রয়েছেন, যারা নিজেরাও একসময়ের দুর্দান্ত খেলোয়াড় ছিলেন। স্মিথের প্রতিক্রিয়া সত্যিই বেশ অবাক করার মতো। এমনকি বল খুব কাছাকাছি গেলেও কেউ নিজের জায়গা ছেড়ে যাবে না। প্রথম হাতে অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, যখন আপনি উইকেটে দাঁড়িয়ে শট খেলার কথা ভাবেন, তখন ব্যাটে লাগার বিষয়টি অনেক সময় বোঝা যায় না। তবে স্মিথ কেন হেঁটে ডাগআউটের দিকে যাচ্ছিল?’
অস্ট্রেলিয়ার আরেক সাবেক ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নারও ভীষণ অবাক হয়েছেন স্মিথের কাণ্ড দেখে, ‘অদ্ভুত ব্যাপার! কারণ সে ড্রেসিংরুমের পথে হাঁটা শুরু করে দিয়েছিল।’ তবে দিনের খেলা শেষে স্মিথ স্বীকার করে নেন, প্রযুক্তির জন্যই তিনি বেঁচে গেছেন, ‘হয়তো বলটা ব্যাটে লাগেনি, কিন্তু আমি কিছু একটা অনুভব করেছিলাম। তাই আমি চলে যাচ্ছিলাম। হ্যাঁ, আমার মনে হচ্ছে, প্রযুক্তিই আজ আমাকে বাঁচিয়ে দিয়েছে।’