Image description

ইসরায়েলের বিভিন্ন কারাগারে বর্তমানে প্রায় ৩৭০ জন ফিলিস্তিনি শিশু বন্দি রয়েছে। বন্দি শিশুদের একটি বড় অংশই কোনো সুনির্দিষ্ট অপরাধে দণ্ডিত বা অভিযুক্ত নয়। ফিলিস্তিনি ও ইসরায়েলি বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য তুলে ধরেছে রুশ সংবাদমাধ্যম আরটি।

 

ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ‘গড়ে ওঠা’ ইসরায়েলের কারা কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, ‘প্রশাসনিক আটকাদেশ’-এর আওতায় বন্দি থাকা শিশুদের সংখ্যা গত এক বছরের সামান্য কিছু সময়ের প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ওই আটকাদেশে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র বা বিচার ছাড়াই অনির্দিষ্টকালের জন্য মানুষকে বন্দি রাখা যায়।

 

বন্দি শিশুদের প্রায় ৯০ শতাংশকে নিরাপত্তার কারণে আটক রাখা হয়েছে বলে দাবি ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের। এসব শিশুদের বিরুদ্ধে বিচারকার্যও চলছে না; এনমকি তাদের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধ এখনও প্রমাণিত হয়নি।

 

প্রতিবেদন অনুসারে, এসব ক্ষেত্রে সাধারণত দুই থেকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হলেও ক্ষেত্রবিশেষে কিছু নাবালককে ১০ থেকে ২০ বছরের দীর্ঘ কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ইসরায়েলি পুলিশের হিসাব অনুযায়ী, বৈধ অনুমতিপত্র ছাড়া সীমান্ত অতিক্রমের দায়ে প্রতি মাসে গড়ে আরও প্রায় ১০০ জন ফিলিস্তিনি নাবালককে আটক করা হয়।

 

 

 

কারাগারের ভেতরে শিশু ও বন্দিদের প্রতি চরম দুর্ব্যবহারের অভিযোগ দিন দিন প্রকট হচ্ছে। সাবেক বন্দি ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো ইসরায়েলি হেফাজতে থাকা অবস্থায় নির্যাতন, শারীরিক ও মানসিক নিপীড়ন, অনাহার, যৌন সহিংসতা এবং জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা প্রদানে অস্বীকৃতির কথা জানিয়েছে।

 

পাশাপাশি আরটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, বন্দিদশায় মারা যাওয়া শতাধিক ফিলিস্তিনির মরদেহ ইসরায়েল এখনও স্বজনদের কাছে হস্তান্তর না করে আটকে রেখেছে।

 

গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর সর্বাত্মক সামরিক অভিযানের ধ্বংসযজ্ঞ ও প্রাণহানির মধ্যে অধিকৃত পশ্চিম তীরের এই সংকট আন্তর্জাতিক মহলের নজর থেকে কিছুটা অন্তরালে থেকে যাচ্ছে।

 

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে ফিলিস্তিনি নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭৩ হাজার ৩৮৬ জন এবং আহতের সংখ্যা ১ লাখ ৭৪ হাজার ২৫০ জনে দাঁড়িয়েছে।

 

তবে একইসঙ্গে পশ্চিম তীরজুড়ে টানা গ্রেপ্তার অভিযান অব্যাহত থাকায় ইসরায়েলি কারাগারে ফিলিস্তিনি শিশুদের দীর্ঘায়িত বন্দিদশা ও মানবিক বিপর্যয় ক্রমেই ঘনীভূত হচ্ছে।