Image description

অনলাইনে হয়রানি, ভীতি প্রদর্শন এবং অনুমতি ছাড়া ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে রাজপথে সক্রিয় অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। এক ব্যক্তির হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজের স্ক্রিনশট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করে এসব অভিযোগ করেন ‘রেহানা মরিয়ম নূর’খ্যাত এই অভিনেত্রী।

 

বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে বাঁধন অভিযোগ করেন, একটি ফেসবুক আইডি থেকে তার ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরও ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। বাঁধন লেখেন, কোনো রাজনৈতিক দল সরকারে থাকলে নারীরা নিরাপদ থাকবে, এমন দাবি করলেও একই সময়ে সেই দলের সমর্থকদের কেউ অনলাইনে নারীদের হয়রানি করলে তা ‘বড় পরিহাস’।

 

বাঁধনের ভাষায়, ‘যখন কোনো দল বলে, তারা সরকারে থাকলে নারীরা নিরাপদ থাকবে, অথচ একই সময়ে তাদেরই সমর্থকেরা অনলাইনে নারীদের ওপর এভাবে হামলে পড়ে, হয়রানি করে, এমনকি এখন এই ফেসবুক আইডি থেকে আমার ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরও ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, তখন এর চেয়ে বড় পরিহাস আর কী হতে পারে!’ ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর অনুমতি ছাড়া প্রকাশ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে বাঁধন বলেন, এটি শুধু হয়রানি নয়, এর আইনগত পরিণতিও হতে পারে।

 

তিনি বলেন, ‘কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর তার অনুমতি ছাড়া প্রকাশ্যে ছড়িয়ে দেওয়া শুধু হয়রানি নয়, এটি একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তাই ভয় দেখানো, আতঙ্ক তৈরি করা কিংবা আমাকে চুপ করিয়ে দেওয়ার এই চেষ্টা তোমাদের জন্যও যে পরিণতি ডেকে আনতে পারে, সেটা মনে রাখা ভালো।’ হয়রানি ও হুমকির মাধ্যমে তাকে থামানো সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন এই অভিনেত্রী।

 

বাঁধন বলেন, ‘আমাকে এত সহজে ভয় দেখিয়ে বা আতঙ্কিত করে ফেলা সম্ভব নয়। আমাকে সেখানে নিয়ে যেতে হলে তোমাদের আরও অনেক দূর যেতে হবে।’

 

পোস্টের শেষাংশে নিজের মানসিক অবস্থার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন বাঁধন। তিনি বলেন, ক্ষমতা কিংবা প্রতিহিংসা যেন তাকে ‘দানবে’ পরিণত না করে, সে জন্য তিনি থেরাপি নিয়েছেন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাও নিয়েছেন।

 

তার ভাষায়, ‘আমি প্রায় হাসিনা হয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু থেরাপি নিয়েছি, এখনও নিচ্ছি, প্রয়োজনীয় ওষুধও নিয়েছি নিজেকে মানুষ হিসেবে ধরে রাখার জন্য, ক্ষমতা বা প্রতিহিংসা আমাকে যেন দানবে পরিণত না করে।’ এরপর হুমকিদাতাদের উদ্দেশে তিনি লেখেন, ‘তাই আমাকে ভয় দেখিয়ে খুব একটা লাভ হবে না। আর হ্যাঁ, আমি ডাইনি। মনে রেখো।’

 

বাঁধনের প্রকাশ করা স্ক্রিনশট ও তার উল্লেখ করা ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ঘেঁটে দেখা যায়, অভিযুক্ত ব্যক্তি যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন বলে নিজের প্রোফাইলে উল্লেখ করেছেন। তার প্রোফাইলে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ও যুক্তরাজ্য ছাত্রলীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার তথ্যও দেখা যায়। এ ছাড়া তার প্রোফাইলে নিজেকে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সিলেট-৫ সংসদীয় আসনের সমন্বয়ক টিমের সঙ্গে যুক্ত থাকার দাবিও দেখা যায়। ওই ব্যক্তির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে বাঁধনসহ জুলাই গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে বিভিন্ন আপত্তিকর মন্তব্য দেখা গেছে।