ডারউইনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ দিয়ে ক্যারিয়ারের নতুন এক অধ্যায়ে পা রাখতে যাচ্ছেন তাসকিন আহমেদ। ছোটবেলায় অস্ট্রেলিয়ার তারকা ক্রিকেটারদের খেলা দেখে মুগ্ধ হতেন তিনি। ২৩ বছর পর সেই দলের বিপক্ষেই তাদের ঘরের মাঠে সাদা পোশাকে নামবেন বাংলাদেশের এই পেসার।
২০০৩ সালে বাংলাদেশ প্রথমবার অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট খেলেছিল। তখন তাসকিনের বয়স মাত্র আট বছর। ক্রিকেটার হিসেবে তখনো পরিচিতি তৈরি হয়নি তার। তবে বাবার সঙ্গে আবাহনী মাঠে গিয়ে ক্রিকেটের সঙ্গে তার পরিচয়টা ঠিকই হয়ে গিয়েছিল। সেই শিশুই এখন বাংলাদেশের পেস আক্রমণের অন্যতম ভরসা।
অস্ট্রেলিয়ার পরিবেশ অবশ্য তাসকিনের কাছে অপরিচিত নয়। ২০১২ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ, ২০১৫ ওয়ানডে বিশ্বকাপ এবং ২০২২ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দেশটির মাটিতে খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। পেসারদের জন্য সহায়ক অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনও বেশ উপভোগ করেন তিনি।
আগামী ১৩ আগস্ট ডারউইনে শুরু হবে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ। এর আগে সোমবার সংবাদ সম্মেলনে অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটের প্রতি নিজের পুরোনো ভালোবাসার কথা জানান তাসকিন।
তাসকিন জানিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তি পেসারদের খেলা দেখে বড় হয়েছেন তিনি, ‘আমি সব সময় অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেটের বড় ভক্ত ছিলাম। ছোটবেলা থেকেই তাদের খেলোয়াড়দের পছন্দ করতাম। তাদের অনেক দুর্দান্ত ফাস্ট বোলার ও কিংবদন্তি ক্রিকেটারকে দেখে বড় হয়েছি। এখন তাদের বিপক্ষেই খেলার সুযোগ পেয়েছি। এটা সত্যিই রোমাঞ্চকর।’
বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়ার বর্তমান পেস আক্রমণের প্রতি নিজের মুগ্ধতার কথাও জানিয়েছেন তাসকিন। মিচেল স্টার্ককে নিজের পছন্দের পেসার উল্লেখ করে বাংলাদেশের এই গতি তারকা বলেন, হ্যাজলউড, কামিন্স ও স্কট বোল্যান্ডের বোলিংও তার ভালো লাগে। সুযোগ পেলে তাদের সঙ্গে কথা বলার ইচ্ছাও রয়েছে তার।
তবে এবার অস্ট্রেলিয়ায় আসার উদ্দেশ্য শুধু তারকা ক্রিকেটারদের কাছ থেকে শেখা নয় বরং তাদের বিপক্ষে নিজের সামর্থ্য প্রমাণ করা। ২০০৩ সালের সেই দুই টেস্টে বাংলাদেশকে ইনিংস ব্যবধানে হারিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। দুই যুগেরও বেশি সময় পর আবারও তাদের মাঠে টেস্ট খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ।
তাসকিনের চোখ তাই অতীতের দিকে নয় নতুন কিছুর অপেক্ষায়,‘তখন আমি ক্রিকেট খেলাই শুরু করিনি। সেটি অনেক আগের কথা। ২৩ বছর পর এখানে টেস্ট সিরিজ খেলার সুযোগ পেয়েছি এজন্য নিজেকে ভাগ্যবান মনে করছি। আশা করি আমরা এই সিরিজটাকে স্মরণীয় করে তুলতে পারব।’