বিশ্বকাপে ন্যায়বিচার পাননি বলে অভিযোগ করেছেন মিশরের প্রধান কোচ হোসাম হাসান। তিনি বলেছেন, সবকিছুই টাকার খেলা। তারা চায় মেসি টুর্নামেন্টে থাকুক। বিভিন্ন স্বার্থের কারণে ফুটবলে মাঠের বাইরেও অনেক কিছু ঘটে। মঙ্গলবার যা হয়েছে, তা অন্যায়। মিশরেরই পরের রাউন্ডে ওঠা উচিত ছিল। আমরাই ভালো দল ছিলাম।
উল্লেখ্য, এদিন নাটকীয়তায় ভরা এক ম্যাচে মিশরকে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা ৩-২ গোলের ব্যবধানে হারায়। এর মধ্য দিয়ে তারা উঠে গেছে কোয়ার্টার ফাইনালে। এরপর হোসাম হাসান ঘোষণা দেন, আর্জেন্টিনার বিপক্ষে তার দল ‘অন্যায়ের শিকার’ হয়েছে। তাই তিনি বিশ্বকাপের আর একটি ম্যাচও দেখবেন না। দুই গোলে পিছিয়ে থেকেও লিওনেল মেসির অনুপ্রেরণায় অবিশ্বাস্যভাবে ম্যাচে ফিরে জয় তুলে নেয় আর্জেন্টিনা। এ খবর দিয়েছে অনলাইন গার্ডিয়ান।
ম্যাচের শুরুতেই ইয়াসের ইব্রাহিমের গোলে এগিয়ে যায় মিশর। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে তারা ব্যবধান দ্বিগুণ করেছে বলেই মনে হচ্ছিল। কিন্তু বিল্ডআপে মারওয়ান আতিয়ার ফাউলের অভিযোগে মোস্তাফা জিকোর গোলটি বাতিল করেন রেফারি। এরপর অবশ্য জিকো আবার গোল করে মিশরকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। এরপর আর্জেন্টিনার হয়ে ক্রিস্টিয়ান রোমেরো একটি গোল শোধ করেন এবং লিওনেল মেসি সমতাসূচক গোল করেন। এর মাধ্যমে চলতি বিশ্বকাপে নিজের অষ্টম এবং বিশ্বকাপ ইতিহাসে ২১তম গোল করেন মেসি। এনজো ফার্নান্দেজের জয়সূচক গোলের ঠিক কয়েক সেকেন্ড আগে ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ে মিশরের পক্ষে স্পষ্ট একটি ফাউল না দেয়ায়ও ক্ষুব্ধ ছিল মিশর। হোসাম হাসান জানান, ম্যাচের আগেই তারা লেতেক্সিয়েকে রেফারি হিসেবে নিয়োগ দেয়ার বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন।
তবে সাবেক এই স্ট্রাইকার তার সবচেয়ে বড় ক্ষোভ প্রকাশ করেন ফিফার বিরুদ্ধে। তার অভিযোগ, যেকোনো মূল্যে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে টুর্নামেন্টে টিকিয়ে রাখতে চেয়েছে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। মোহাম্মদ সালাহর চেয়ে এক গোল বেশি করেছেন মিশরের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা ও কোচ হোসাম হাসান। তিনি বলেন, খেলাধুলায় ন্যায়বিচার কোথায়? সুন্দর সুন্দর ভাষা ব্যবহার করে বিষয়টি ঢেকে রাখতে চাই না। আজ আমাদের সঙ্গে অন্যায় করা হয়েছে। আমরা অবিচারের শিকার হয়েছি। এটাই আমার প্রতিবাদের ভাষা। আমি এই টুর্নামেন্টের আর একটি ম্যাচও দেখব না।
মোস্তাফা জিকোও ম্যাচ পরিচালনাকারী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনাকে সুবিধা দেয়ার অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, আমরা ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পর সবকিছুই আমাদের বিপক্ষে যেতে শুরু করে। আমার দ্বিতীয় গোলটি কেন বাতিল করা হলো, আমি জানি না। অন্যদিকে, আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ায় ম্যাচ-পরবর্তী সাক্ষাৎকার সংক্ষিপ্ত করতে বাধ্য হন। প্রথমার্ধে মোস্তাফা শোবেইরের দুর্দান্ত সেভে পেনাল্টি মিস করার পরও ঘুরে দাঁড়ানো ৩৯ বছর বয়সী মেসির ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি।
স্কালোনি বলেন, মেসি একটি পেনাল্টি মিস করেছে। কিন্তু এরপরও সে আবার বল চেয়েছে। আবার আক্রমণে গেছে। বারবার চেষ্টা করেছে। সত্যি বলতে, আমার শরীরে কাঁটা দেয়। এটাই আমরা, এটাই আর্জেন্টাইনদের মানসিকতা। আমরা হৃদয় উজাড় করে খেলি। হুলিয়ান আলভারেজও মেসিকে ‘বিশ্বের সেরা ফুটবলার’ বলে আখ্যা দেন। তিনি বলেন, তাকে বর্ণনা করার মতো ভাষা আমার নেই। যখনই আমাদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হয়, তখনই সে আমাদের সাহায্য করে। সে সত্যিই এক দানব।