বৈরী আবহাওয়ার কারণে টানা চার দিন ধরে নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার ফেরি চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। তবে এই বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেই ঝুঁকি নিয়ে সি-ট্রাক এমভি খিজির ও কয়েকটি ট্রলার কোনোমতে চলাচল করছে। কিন্তু ফেরি বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন পণ্যবাহী যানবাহনের চালক ও শ্রমিকেরা। ঘাটে আটকে থাকা শত শত ট্রাকের কাঁচামাল পচে নষ্ট হচ্ছে।
স্থানীয় ও ঘাট কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, চার দিন ধরে সাগর ও মেঘনা নদী উত্তাল থাকায় এবং বৈরী আবহাওয়ার কারণে দুর্ঘটনা এড়াতে ফেরি চলাচল স্থগিত রাখা হয়েছে। এর ফলে নোয়াখালীর মূল ভূখণ্ডের চেয়ারম্যান ঘাট এবং হাতিয়ার নলচিরা ঘাটে আটকা পড়েছে দুই শতাধিকের বেশি পণ্যবাহী ট্রাক, কাভার্ডভ্যানসহ অন্যান্য যানবাহন।
চার দিন ধরে ঘাটে অপেক্ষা করতে গিয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে চালক ও সহকারীদের। ঘাটে পর্যাপ্ত আবাসন, খাবার ও পয়োনিষ্কাশন সুবিধা না থাকায় তাদের দিন কাটছে চরম দুর্ভোগে। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন কাঁচামাল, ফলমূল ও পচনশীল দ্রব্য পরিবহণকারী গাড়ির চালক ও ব্যবসায়ীরা।
আটকে থাকা ট্রাকচালক আবদুল লতিফ বলেন, চার দিন ধরে ট্রাকে আলু নিয়ে ঘাটে বসে আছি। ফেরি ছাড়ার কোনো লক্ষণ নেই। গরমে আর বাতাসে অর্ধেকের বেশি মাল ট্রাকে পচে গেছে।
ব্যবসায়ী হেদায়েত উল্যাহ আশঙ্কা করে বলেন, আবহাওয়ার দ্রুত উন্নতি না হলে এবং ফেরি চলাচল স্বাভাবিক না হলে কোটি টাকার কাঁচামাল সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যাবে, যার বড় মাশুল দিতে হবে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ ক্রেতাদের।
হাতিয়ার চর নলচিরার বাসিন্দা প্রবাসী আনোয়ার শাহরাজ বলেন, চিকিৎসা করাতে জেলা শহরে এসেছিলেন, এখন এপারে আটকা পড়েছেন। ফেরি চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকলেও জীবন ও জীবিকার তাগিদে সাধারণ মানুষ ঝুঁকি নিয়ে সি-ট্রাক ও ট্রলারে করে নদী পারাপার হচ্ছেন। ট্রলার চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হলেও বাধ্য হয়েই যাত্রীরা এই উত্তাল পথ বেছে নিচ্ছেন।
ঘাট কর্তৃপক্ষ জানায়, নদী অতিরিক্ত উত্তাল থাকায় এবং জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ফেরির পন্টুন ডুবে গেছে এবং ল্যান্ডিং করতে সমস্যা হচ্ছে। যাত্রীদের নিরাপত্তা ও জানমালের সুরক্ষার স্বার্থেই ফেরি চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি হওয়া মাত্রই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পণ্যবাহী গাড়িগুলো পারাপারের ব্যবস্থা করা হবে।
নোয়াখালী জেলা আবহাওয়া অধিদপ্তরের পর্যবেক্ষক রফিকুল ইসলাম বলেন, গতকাল মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকাল থেকে বুধবার (৮ জুলাই) সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৫৭ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এ সপ্তাহে হাতিয়াতে সর্বোচ্চ ১০৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়।
হাতিয়া উপকূলীয় নৌ বন্দরের সহকারী পরিচালক মাসুম বিল্লাহ বলেন, লঘুচাপের কারণে নদী প্রচণ্ড উত্তাল রয়েছে। দুর্ঘটনা এড়াতেই আমরা ফেরি চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছি। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে ফেরি চলাচল আবার শুরু হবে।