ফোলারিন বেলোগানকে দেখানো লাল কার্ড পুনর্বিবেচনার জন্য ফিফাপ্রধান জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে ফোন করে অনুরোধ জানান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যার ফলে বেলোগানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয় ফিফা। এ ঘটনাই বিশ্বকাপে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের প্রথম নজির নয়। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এমন আরও কিছু ঘটনা রয়েছে।
ফ্যাসিবাদী ইতালি আয়োজন করেছিল বিশ্বকাপের দ্বিতীয় আসর। আর 'ইল দুচে' মুসোলিনি এই আয়োজনকে নিজের রাজনৈতিক শাসনব্যবস্থার মহিমা প্রচারের এক আদর্শ সুযোগ হিসেবে দেখেছিলেন। মুসোলিন সব ম্যাচেই উপস্থিত থেকেছেন, এমনকি ড্রেসিংরুম পর্যন্ত গিয়েছেন। রেফারিং এতটাই স্বাগতিক দলের পক্ষে গিয়েছিল যে, ইতালি শেষ পর্যন্ত শিরোপাও জিতে নেয়। পরে ফিফা দুজন রেফারিকে চিরতরে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের এক বছর আগে, নাৎসি জার্মানির সদ্য সংযুক্ত অস্ট্রিয়া টুর্নামেন্ট থেকে সরে দাঁড়ায়। তাদের বেশ কয়েকজন খেলোয়াড়কে বাধ্য করা হয় জার্মানির হয়ে খেলতে। পার্ক দে প্রাঁস স্টেডিয়ামে তাদের নাৎসি স্যালুট দিতেও বাধ্য করা হয়। অন্যদিকে ইতালি শিরোপা ধরে রাখে, খেলোয়াড়েরা পরেছিলেন কালো জার্সি, যা মনে করিয়ে দিত ইতালিয়ান ফ্যাসিস্ট বাহিনীর পোশাকের কথা। ফাইনালের আগে মুসোলিনি তাদের পাঠিয়েছিলেন এক সংক্ষিপ্ত কিন্তু গা শিউরে ওঠা বার্তা: ‘জেতো, নয়তো মরো।‘
১৯৭৮ সালে জেনারেল হোর্হে রাফায়েল ভিদেলার সামরিক শাসনামলে বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয়েছিল আর্জেন্টিনায়। সেই আসরে আর্জেন্টিনা তাদের প্রথম শিরোপা জেতে প্রবল দুর্নীতির সন্দেহের মধ্য দিয়ে। ফাইনালে যেতে হলে আলবিসেলেস্তেদের পেরুর বিপক্ষে অন্তত চার গোলের ব্যবধানে জিততে হতো। টুর্নামেন্টের শুরুতে মজবুত রক্ষণ দেখানো পেরু সেই ম্যাচে হেরে যায় ৬-০ গোলে। বিভিন্ন বিবরণে ইঙ্গিত করা হয়েছে যে ম্যাচের আগে পেরুর ড্রেসিংরুমে গিয়ে খেলোয়াড়দের হুমকি দিয়েছিলেন ভিদেলা।
১৯৮২ সালে ভায়াদোলিদে ফ্রান্স বনাম কুয়েত ম্যাচে ফরাসিদের চতুর্থ গোলটি নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। কুয়েতিরা এই গোলের প্রতিবাদ জানায়, কারণ তারা গ্যালারি থেকে একটি হুইসেলের শব্দ শুনে ভেবেছিল সেটি অফসাইডের সংকেত। রেফারি গোলটি বৈধ ঘোষণা করার পরও, কুয়েত ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এবং আমিরের কনিষ্ঠ ভাই শেখ ফাহাদ আল-আহমাদ আল-জাবের আল-সাবাহ গ্যালারি থেকে নেমে সরাসরি মাঠে চলে আসেন। সবাইকে হতবাক করে দিয়ে সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন তারা। চারদিকে বিশাল বিভ্রান্তির মধ্যে রেফারি গোলটি বাতিল করে দেন। পরে ফিফা তাকে আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ করে।
এবারের আসরে শেষ বত্রিশে বসনিয়া-হার্জেগোভিনার বিপক্ষে জয়ের ম্যাচে ফোলারিন বেলোগানকে দেখানো লাল কার্ডে অসন্তুষ্ট হন। এই শাস্তি পর্যালোচনার অনুরোধ জানিয়ে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে ফোন করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। চার দিন পর ফিফা বাধ্যতামূলক সেই এক ম্যাচ নিষেধাজ্ঞাকে বাতিল করে। যার ফলে ফুটবলবিশ্বে অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করে।