সাভারে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমাবেশস্থলে বোমা বিস্ফোরণের জন্য প্রশাসনকে দায়ী করেছেন দলটির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, স্পষ্টভাবে আজকের এই বোমা বিস্ফোরণ প্রশাসনের সহায়তায় হয়েছে। কেন বিদ্যুৎ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল? আমাদের খুন করার পরিকল্পনায় এখানে বোমা বিস্ফোরণ করা হয়েছে।
সোমবার (৬ জুলাই) রাতে সাভার থানা স্ট্যান্ড-সংলগ্ন ঈদগাহ মাঠে এনসিপির সমাবেশ চলাকালে বোমা বিস্ফোরণের পরে এসব কথা বলেন নাহিদ ইসলাম।
এর আগে রাত পৌনে ১০টার দিকে সাভারে এনসিপি আয়োজিত ‘দেশ গড়তে জুলাই জাগরণ’ কর্মসূচির সমাবেশস্থলে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এতে অন্তত চারজন আহতের তথ্য পাওয়া গেছে।
সমাবেশে ওই সময় ঢাকা জেলা এনসিপির আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার নাবিলা তাসনিদ বক্তব্য দিচ্ছিলেন। বিস্ফোরণের পর আতঙ্কে নেতাকর্মীরা দিগ্বিদিক ছোটাছুটি করেন। এ সময় নাবিলা তাসনিদ মাইকে তাদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত ৯টা ২৬ মিনিটের দিকে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা সাভারের তারাপুর মাঠে পৌঁছান। তারা মঞ্চে ওঠার ঠিক আগ মুহূর্তে বিদ্যুৎ চলে যায়। ওই সময় অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করছিলেন এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। স্থানীয় দুই নেতার স্বল্প বক্তব্য শেষে রাত পৌনে ১০টার দিকে মঞ্চের দর্শক গ্যালারিতে একটি বিস্ফোরণ হয়।
আহত শাহীন খন্দকার বলেন, ‘আমি এনসিপির কর্মী। মঞ্চের ঠিক সামনে দর্শক গ্যালারিতে বসেছিলাম। ককটেল বিস্ফোরণে আমার বাম পায়ের নিচের অংশে মারাত্মক ক্ষত হয়েছে।’ আহত জসিম আলী জানান, তিনি এনসিপির কর্মী নন। ঘুরতে গিয়ে অনুষ্ঠান দেখে দাঁড়িয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমার সামনেই ককটেল বিস্ফোরণ হয়। বিস্ফোরিত অংশের কিছুটা আমার আঙুলে লেগেছে।’
বিস্ফোরণের পর নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে সাভারে তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ মিছিল হয়। পরে দলটির নেতাকর্মীরা সাভার মডেল থানার সামনে অবস্থান নেন। সেখানে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘সমাবেশ শুরু হওয়ার পরপরই সেখানে বিদ্যুৎ চলে যায়। আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই– প্রশাসনিক সহযোগিতায় এই হামলা হয়েছে। আমরা এখন সাভার মডেল থানার সামনে অবস্থান করছি। শান্তিপূর্ণভাবে এখানেই অবস্থান কর্মসূচি পালন করব।’
সোমবার রাতে সাভার থানা স্ট্যান্ড-সংলগ্ন ঈদগাহ মাঠের সমাবেশে বোমার বিস্ফোরণ হয়। স্ট্রিম ছবি
তিনি বলেন, ‘পুলিশ প্রশাসনের কাছে জানতে চাইব– একটি রাজনৈতিক দলের গণতান্ত্রিকভাবে কর্মসূচি পালনের অধিকার রয়েছে। আর সেই কর্মসূচির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পুলিশ ও প্রশাসনের দায়িত্ব। পুলিশ প্রশাসন ও স্থানীয় এমপি জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছেন। কারা বোমা হামলা চালিয়েছে বা কীভাবে ঘটনা ঘটেছে, তা আমরা জানি না। তবে এ ঘটনার দায় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেই নিতে হবে। তাই আমরা তাদের কাছে জবাবদিহি চাইব।’
নাহিদ ইসলাম বলেন, এই সাভার থেকে আমরা আগস্টে কর্মসূচি সমাপ্ত করছিলাম। তারা বিদ্যুৎ বন্ধ করে এখানে বোমা ফাটিয়েছে। এই সরকার, এই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে হুঁশিয়ার করেতে চাই– জবাব দিতে হবে। কেন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারলেন না, তার জবাব দিতে হবে।
তিনি বলেন, আপনারা হুঁশিয়ার থাকুন। আমরা জুলাইয়ের আন্দোলন চালিয়ে যাব। জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করব, হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করব, সীমান্ত সুরক্ষা ও তরুণদের কর্মসংস্থানের দাবি সফলভাবে আদায় নিশ্চিত করব।
পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, এই সভার দায়িত্বে যারা ছিল, পুলিশ প্রশাসন, ডিসি– কেন বিদ্যুৎ বন্ধ হয়ে গেল? কীভাবে এটা ঘটল? এই এলাকার এমপি কী করছেন? তিনি কি নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছেন?
বোমা বিস্ফোরণের পর নাহিদ ইসলামসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের সরিয়ে নেওয়া হয়। স্ট্রিম ছবি
তিনি বলেন, আজকে এখান থেকে আমাদের কয়েকজন ভাই গুরুতর আহত হয়েছে। আমরা এর বিচার চাই। দ্রুত সময়ের মধ্যে বিচার নিশ্চিত না করা হয়, তাহলে এখানকার স্থানীয় প্রশাসন এবং এমপিকে আমরা জবাবদিহিতার আওতায় আনব। আমরা বিচার চাই। কোনো সন্ত্রাসীর ঠিকানা এই সাভারে হবে না। যারা গণহত্যাকারীদের প্রশ্রয় দেবে, যারা সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও খুনিদের প্রশ্রয় দেবে, তাদের পরিণতি আওয়ামী লীগের মতো হবে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে এনসিপির মাসব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে শুরু হয়েছে ‘জুলাই পদযাত্রা’। সোমবার বিকেলে গাজীপুরের কালীগঞ্জ শ্রমিক কলেজ এলাকা থেকে এই পদযাত্রা শুরু হয়। সেখানে অনুষ্ঠান শেষে নাহিদ ইসলাম সাভারে আসেন। পদযাত্রা অনুষ্ঠানে জাতীয় যুবশক্তির সভাপতি তারিকুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক রিফাত রশীদ, এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সংগঠক আলী নাসের খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।