বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে এবার উঠে এলো বাংলাদেশের সৃজনশীলতার ছাপ। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সংগীতশিল্পী সঞ্জয়কে দেখা গেছে বর্ণিল ও নান্দনিক একটি পোশাকে। যার নকশা ও নির্মাণ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা।
Apathetic-উদাসীন নামে একটি ফেসবুক পেজ থেকে করা একাধিক পোস্টে দাবি করা হয়, ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর একটি অফিসিয়াল আয়োজনে ব্যবহৃত সেই পোশাকটি বাংলাদেশের কারিগরদের তৈরি, যা দেশের ফ্যাশন ও সংস্কৃতিকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি পোস্টে দেখা যায়, আন্তর্জাতিক মঞ্চে পারফরম্যান্সের সময় সঞ্জয় একটি গাঢ় লাল ও সবুজের সমন্বয়ে তৈরি নকশাদার পোশাক পরেছেন। পোশাকটির হাতাজুড়ে রয়েছে বাঘ, পদ্মসহ বাংলাদেশের প্রকৃতি ও ঐতিহ্যকে তুলে ধরা বিভিন্ন শিল্পনির্ভর মোটিফ। সূক্ষ্ম কারুকাজ ও হাতে তৈরি অলঙ্করণে সাজানো পোশাকটি দ্রুতই দর্শকদের নজর কাড়ে।
ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করা হয়, কানাডার বৃহৎ এক উদ্বোধনী আয়োজনে সঞ্জয়ের পারফরম্যান্সে ব্যবহৃত পোশাকটি বাংলাদেশের তৈরি। পোস্টদাতার ভাষ্য অনুযায়ী, দেশের জন্ম হলেও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজের অবস্থান তৈরি করা এই শিল্পী এবার এমন একটি পোশাক পরেছেন, যা বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও কারুশিল্পকে বিশ্বদর্শকের সামনে তুলে ধরেছে।
অপর একটি পোস্টে পোশাকটির ক্লোজআপ ছবি প্রকাশ করে ‘Made in Bangladesh’ উল্লেখ করা হয়। সেখানে সঞ্জয়কে ধন্যবাদ জানিয়ে বলা হয়, আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও নকশাকে উপস্থাপন করায় দেশীয় সৃজনশীলতার জন্য এটি গর্বের মুহূর্ত।
পোশাকটির নকশায় রয়েল বেঙ্গল টাইগার, পদ্মফুল ও প্রকৃতি-প্রাণিত শিল্পকর্মের উপস্থিতি বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। অনেকেই সামাজিক মাধ্যমে মন্তব্য করেছেন, এ ধরনের উপস্থাপনা বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী শিল্প ও ফ্যাশনকে বৈশ্বিক দর্শকের কাছে নতুনভাবে পরিচিত করার সুযোগ তৈরি করে।
উল্লেখ্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সঞ্জয়ের পোশাক এবং তাতে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক উপাদানের ব্যবহার নিয়ে ইতোমধ্যেই ব্যাপক প্রশংসা দেখা যাচ্ছে। অনেকের মতে, আন্তর্জাতিক মঞ্চে এ ধরনের উপস্থিতি বাংলাদেশের সৃজনশীল শিল্প খাতের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করে।