Image description

বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হিসেবে ইতিহাস গড়েছেন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক। ১২ জুন স্পেসএক্স শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর তার মোট সম্পদের পরিমাণ ১ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ডলার বা এক লাখ ১০ হাজার কোটি ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করেছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ১৩৪ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা। এটি বাংলাদেশের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটের তুলনায় ১৪ গুণেরও বেশি।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য বাংলাদেশের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। সেই হিসেবে বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের সম্পদ এবং বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের আয় ও বাজারমূল্যের সঙ্গে তুলনা করলে এ বাজেটের আকার নতুনভাবে উপলব্ধি করা যায়।

স্পেসএক্সের শেয়ারবাজারে অভিষেকের পর কোম্পানিটির বাজারমূল্য প্রায় ২ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। প্রতিষ্ঠানটির ৩৮ শতাংশ মালিকানা ইলন মাস্কের হাতে রয়েছে। এ ছাড়া বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা টেসলা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান এক্সএআই, এক্স, দ্য বোরিং কোম্পানি এবং নিউরালিংকের মতো প্রতিষ্ঠানে অংশীদারিত্ব রয়েছে তার।

অন্যদিকে, গুগলের সহপ্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেজের বর্তমান সম্পদের পরিমাণ প্রায় ২৯৪ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার মূল্য প্রায় ৩৬ লাখ ১৭ হাজার কোটি টাকা। সে হিসাবে ইলন মাস্কের সম্পদ ল্যারি পেজের সম্পদের চেয়ে প্রায় ৩ দশমিক ৪ গুণ বেশি।

প্রযুক্তি খাতের আরেক শীর্ষ ধনী ব্যক্তি ও অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোসের সম্পদের পরিমাণ বর্তমানে প্রায় ২৫১ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশি টাকায় যা প্রায় ৩০ লাখ ৯৩ হাজার ৪৫০ কোটি টাকা। অর্থাৎ বেজোসের সম্পদও বাংলাদেশের জাতীয় বাজেটের তিন গুণের বেশি।

শুধু ব্যক্তি সম্পদ নয়, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের আয়ও বিস্ময় জাগানিয়া। ফোর্বসের গ্লোবাল ২০০০ তালিকা অনুযায়ী, ২০২৫ সালে অ্যাপলের বার্ষিক আয় ছিল ৩৯৫ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ৪৮ লাখ ৬৮ হাজার ৩৪০ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরে অ্যাপলের আয় বাংলাদেশের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটের পাঁচ গুণেরও বেশি।

প্রযুক্তি বিশ্বের এই বিপুল সম্পদ ও আয় বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রভাবের চিত্র তুলে ধরে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের জাতীয় বাজেটের আকারকে বৈশ্বিক প্রযুক্তি খাতের আর্থিক শক্তির সঙ্গে তুলনা করার একটি ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গিও সামনে আনে।

১৯৯৮ সালে সের্গেই ব্রিনের সঙ্গে গুগল প্রতিষ্ঠা করেন ল্যারি পেজ। দুজন মিলে গুগলের পেজর্যাঙ্ক অ্যালগরিদম তৈরি করেন, যা আজও বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় সার্চ ইঞ্জিনের ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে। বর্তমানে তিনি অ্যালফাবেটের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ও নিয়ন্ত্রণকারী শেয়ারহোল্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

অন্যদিকে, ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত স্পেসএক্সকে বিশ্বের অন্যতম মূল্যবান বেসরকারি মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছেন ইলন মাস্ক। স্পেসএক্স, টেসলা, এক্সএআই এবং অন্যান্য প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে তার বিনিয়োগ ও মালিকানার কারণেই তিনি বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হওয়ার অনন্য কৃতিত্ব অর্জন করেছেন।

ইলন মাস্ক প্রিমিয়াম

৫৪ বছর বয়সী ইলন মাস্ক দক্ষিণ আফ্রিকার প্রিটোরিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৯৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি।

২০০৮ সালে টেসলার সিইও হওয়ার পর বৈদ্যুতিক গাড়িকে মূলধারায় আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন মাস্ক। বিশ্লেষকদের মতে, টেসলার সাফল্য বিশ্বজুড়ে গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বৈদ্যুতিক গাড়ির দিকে ঝুঁকতে উৎসাহিত করেছে।

টেসলা ও স্পেসএক্স ছাড়াও মাস্ক দ্য বোরিং কোম্পানি ও নিউরালিংকসহ একাধিক প্রতিষ্ঠানের সহপ্রতিষ্ঠাতা। অনেক বিনিয়োগকারীর বিশ্বাস, মহাকাশ প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রেও তিনি বড় সাফল্য অর্জন করতে পারেন।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মাস্কের ব্যক্তিগত নেতৃত্ব ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার প্রতি আস্থার কারণেই তার প্রতিষ্ঠানগুলো উচ্চ মূল্যায়ন পাচ্ছে। এ প্রবণতাকে তারা ‘ইলন মাস্ক প্রিমিয়াম’ নামে অভিহিত করছেন।