বিশ্বকাপ চলাকালে টরন্টোতে ইসরাইলকে ঘিরে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে একদল বিক্ষোভকারী। বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে কানাডার ম্যাচের আগে টরন্টো স্টেডিয়ামের কাছাকাছি এলাকায় বিশ্বকাপের লোগো ঢেকে ‘ফিফা থেকে ইসরাইলকে বহিষ্কার করো’ লেখা একটি বড় ব্যানার টানানো হয়।
শুক্রবার টরন্টোর ব্যস্ত গার্ডিনার এক্সপ্রেসওয়ের সংলগ্ন স্থানে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। ফলে মহাসড়ক দিয়ে চলাচলকারী হাজারো মানুষ ব্যানারটি দেখতে পান। বিক্ষোভকারীরা দাবি করেন, আন্তর্জাতিক ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা ইসরাইলের কর্মকাণ্ডের বিষয়ে নীরব ভূমিকা পালন করছে।
একই কর্মসূচিতে ফিলিস্তিনি চিকিৎসক হুসাম আবু সাফিয়ার মুক্তির দাবিও জানানো হয়। ২০২৪ সালের শেষ দিকে গাজায় তাকে আটক করে ইসরাইলি বাহিনী।
আন্দোলনকারীদের মুখপাত্র ফয়সাল ইব্রাহিম অভিযোগ করেন, আন্তর্জাতিক আইনের বিতর্কিত অঞ্চলগুলোতে ইসরাইল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের কার্যক্রমের বিষয়ে ফিফা কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। তার দাবি, সংস্থাটি শুধু নীরবই নয়, কিছু ক্ষেত্রে এসব ম্যাচ সম্প্রচারেও সম্পৃক্ত রয়েছে।
উল্লেখ্য, ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের অভিযোগের পরও ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে অংশ নেওয়া ইসরাইলি ক্লাবগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা গত মার্চে জানিয়েছিল ফিফা। সেই সিদ্ধান্তের পর থেকেই সংস্থাটির সমালোচনা আরও জোরালো হয়।
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত চলমান বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করেও ফিফা বিভিন্ন ইস্যুতে সমালোচনার মুখে রয়েছে। এর মধ্যেই টরন্টোর এই বিক্ষোভ নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
বিক্ষোভকারীদের ভাষ্য, তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল ফিফার শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে একটি দৃশ্যমান ও শক্ত বার্তা পৌঁছে দেওয়া। আয়োজকদের দাবি, সেই লক্ষ্য তারা সফলভাবেই অর্জন করেছেন।
২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে ব্যাপক প্রাণহানি ও মানবিক সংকট নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। এ প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘের কয়েকজন বিশেষজ্ঞও ফিফা ও উয়েফার কাছে ইসরাইলকে আন্তর্জাতিক ফুটবল প্রতিযোগিতা থেকে নিষিদ্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
শীর্ষনিউজ