দীর্ঘ ৫২ বছর পর ফের ফুটবল বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছে হাইতি। শেষবার ১৯৭৪ সালে ফুটবলের বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পেয়েছিল তারা। গ্রুপপর্বে আর্জেন্টিনা, পোল্যান্ড ও ইটালির কাছে হেরে বিদায় নিয়েছিল ক্যারিবীয় উপদ্বীপের এই দেশ।
এবার বিশ্বকাপ খেলতে নামার আগে নজর কেড়েছে হাইতির জার্সি। পোল্যান্ডের পতাকা লাগানো জার্সি পরে খেলবে তারা। বিশ্বকাপে হাইতির হোম ও অ্যাওয়ে জার্সিতে কোমরের কাছে পোল্যান্ডের সাদা-লাল রঙের পতাকা আঁকা আছে। এর নেপথ্যে রয়েছে ২২০ বছরের পুরনো ইতিহাস।
কী সেই ইতিহাস?
১৮০২ সালে হাইতি ছিল ফ্রান্সের উপনিবেশ। ফ্রান্সের বিরুদ্ধে স্বাধীনতার যুদ্ধ শুরু করেছিল হাইতি। সেই সময় পোল্যান্ডের প্রায় ৫ হাজার সৈন্যকে হাইতিতে পাঠান নেপোলিয়ান। ফরাসি সৈন্যদের সাহায্যের জন্য পাঠানো হয়েছিল তাদের। পোল্যান্ড ভেবেছিল, হাইতির বিরুদ্ধে ফরাসি সৈন্যদের সাহায্য করলে তাদেরও স্বাধীন হতে সাহায্য করবে ফ্রান্স। সেই সময় পোল্যান্ডের উপর রাশিয়া ও অস্ট্রিয়ার দখল ছিল।
কিন্তু হাইতিতে পৌঁছোনোর পর পোল্যান্ডের সৈনিকেরা দেখেন, এ তো স্বাধীনতার যুদ্ধ। হাইতির মতো তারাও তো স্বাধীনতা চান। তাহলে কী ভাবে স্বাধীনতার জন্য লড়াই করা একটি দেশের বিরোধিতা তারা করবেন। তারপরেই পোল্যান্ডের সৈন্যদের একটা বড় অংশ হাইতির স্বাধীনতা সংগ্রামীদের সঙ্গে হাত মেলান। তাদের যৌথ লড়াইয়ে পিছু হটে ফ্রান্স। ১৮০৪ সালে স্বাধীন হয় হাইতি।
স্বাধীনতার পর হাইতির প্রথম প্রধান জ্যঁ জ্যাক দেশালিন্স পোল্যান্ডের এই সাহায্যের কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করেন। পরবর্তীতে হাইতি কোনও শ্বেতাঙ্গকে নাগরিকত্ব না দিলেও বা সেখানে জমি কেনার অধিকার না দিলেও পোল্যান্ডের সৈন্যদের জন্য ছাড় ছিল। এমনকি, প্রায় ৫০০ পোলিশ সৈন্য সেখানেই থেকে যান। তারা আর দেশে ফেরেননি।
২২০ বছর পরেও পোল্যান্ডের সৈন্যদের সেই সাহায্যের কথা ভোলেনি হাইতি। তাই তারা এমন জার্সি তৈরি করেছে, যেখানে পোল্যান্ডের পতাকা রয়েছে। গ্রুপ সি-তে ব্রাজিল, স্কটল্যান্ড ও মরক্কোর সঙ্গে খেলবে হাইতি। ঘটনাচক্রে, এবারের বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি পোল্যান্ড। তবে হাইতির জার্সির মধ্যে দিয়ে তারাও থাকবে ফুটবল বিশ্বকাপে।