কক্সবাজার পৌরসভায় দোকানি স্বামীর সঙ্গে পরকীয়া সন্দেহে সানজিদা হক রেশমা (৩৫) নামে এক নারীকে ছুরিকাঘাত করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে এক নারীর বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার (৯ জুন) রাতে পৌরসভার পাহাড়তলী এলাকায় দলবল নিয়ে বাসায় ঢুকে রেশমার ১২ বছর বয়সী ছেলের সামনেই তাকে ছুরিকাঘাত করা হয়।
নিহত সানজিদা হক রেশমা কক্সবাজার পৌরসভার পাহাড়তলী এলাকার ঠান্ডা মিয়ার মেয়ে এবং তসলিম উদ্দিন ইমনের সাবেক স্ত্রী। তিনি সন্তান নিয়ে পৌরসভার টেকপাড়া জনতা সড়কের বিসমিল্লাহ ভবনে ভাড়া থাকতেন।
জানা গেছে, গুরুতর আহত অবস্থায় রেশমাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হলে রাতের দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে এক নারী ও তার দুই মেয়েসহ তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।
আটকরা হলেন- চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার দিয়াকুল এলাকার শফিউল আলমের স্ত্রী ইয়াছমিন আক্তার (৩৫), তাদের দুই মেয়ে তানিশা সুলতানা (১৯) ও আসমাউল হুসনা (১৪)। তারা বর্তমানে কক্সবাজার সদরের পেশকার পাড়ায় বসবাস করেন।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, রেশমা দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় মুদি দোকানি শফিউল আলম সওদাগরের দোকান থেকে কেনাকাটা করতেন। এ সুবাদে তার সঙ্গে পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা। যা বাড়াবাড়ি পর্যায়ে পৌঁছায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিষয়টি জেনে ব্যবসায়ী শফির বাসায় পারিবারিক কলহ হয়। মঙ্গলবার রাতে শফিউল আলম সওদাগর আরও একজনসহ রেশমার বাসায় অবস্থান করছিল। এ খবর জেনে স্ত্রী ইয়াসমিন তার মেয়ে এবং আরও কয়েকজন নারীকে নিয়ে সানজিদার বাসায় যান। সেখানে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে সানজিদার ওপর হামলা চালান।
ঘটনার সময় বাসায় থাকা রেশমার ছেলে সাব্বিরের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে আসে কয়েকজনকে আটক করে পুলিশে খবর দেন। আর গুরুতর আহত সানজিদাকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে চিকিৎসাধীন রেশমার মৃত্যু হয়।
নিহতের ছেলে সাব্বির (১২) জানায়, ঘটনার সময় সে ও তার মা বাসায় ছিলেন। এ সময় বাসায় শফিউল আলম সওদাগর আঙ্কেলসহ আরেকজন অবস্থান করছিল। পরে কয়েকজন নারী বাসায় ঢুকে তার মায়ের ওপর হামলা চালায় এবং ছুরিকাঘাত করে।
নিহতের বাসায় কাজ করা আনোয়ারা অভিযোগ করেন, পূর্বের পারিবারিক বিরোধ ও ব্যক্তিগত সম্পর্কের জেরে পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালানো হয়েছে। কয়েকজনের প্ররোচনায় সংঘবদ্ধভাবে হামলার ঘটনা ঘটেছে বলেও দাবি করেন তিনি।
কয়েকজন প্রতিবেশী জানান, চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে তারা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পুলিশকে অবহিত করে আহত সানজিদাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করেন। নিহতের নিকটাত্মীয়রা ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থাকায় স্থানীয়রাই উদ্ধার কার্যক্রমে এগিয়ে আসেন। তবে, চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টার পরও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। ঘটনাস্থল থেকে কয়েকজন অভিযুক্তকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় অভিযুক্ত তিন নারীকে আটক করেছে।
তিনি বলেন, স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, রেশমার সঙ্গে শফিউল আলম সওদাগরের পরকীয়া সম্পর্ক রয়েছে বলে সন্দেহ করতেন তার স্ত্রী ইয়াসমিন। এ সন্দেহের জেরে ইয়াসমিন তার মেয়েদের সঙ্গে নিয়ে রেশমার বাসায় যান। সেখানে রেশমার সঙ্গে তাদের কথা কাটাকাটি ও বাগবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে ইয়াসমিন ছুরিকাঘাত করেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
ওসি আরও বলেন, আহত অবস্থায় রেশমাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হলেও তার মৃত্যু হয়। ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং জড়িতদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।