আর মাত্র পাঁচ দিন। এরপরই উত্তর আমেরিকায় পর্দা উঠবে বিশ্বফুটবলের সবচেয়ে বড় মহাযজ্ঞের। দীর্ঘদিনের চেনা বৃত্ত আর গতানুগতিক খোলনলচে ভেঙে সম্পূর্ণ এক নতুন আঙ্গিকে সাজানো হয়েছে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ। কেবল অংশগ্রহণকারী দেশের সংখ্যা বৃদ্ধিতেই নয়, এবার ম্যাচের সংখ্যা থেকে শুরু করে নকআউটের সমীকরণ-সবকিছুতেই থাকছে রেকর্ড ভাঙা-গড়ার খেলা।
৩২ থেকে বেড়ে ৪৮ দল
১৯৯৮ সালের ফ্রান্স বিশ্বকাপ থেকে সবশেষ কাতার বিশ্বকাপ পর্যন্ত ফুটবল বিশ্বমঞ্চে ৩২টি দলের লড়াই দেখতেই অভ্যস্ত ছিলেন দর্শক। তবে দীর্ঘ ২৮ বছরের সেই চেনা বৃত্ত এবার ভাঙছে। উত্তর আমেরিকার এই আসরে দল বাড়িয়ে করা হয়েছে ৪৮টি। বৈশ্বিক ফুটবলের এই বড় সম্প্রসারণের ফলে সুযোগ পেয়েছে এমন অনেক দেশ, যারা আগে কখনো বিশ্বকাপের মঞ্চে পা রাখার সুযোগ পায়নি। ফলে এবার দেখা যাবে রেকর্ড সংখ্যক নতুন ফুটবলার ও আন্ডারডগ দলের রোমাঞ্চকর লড়াই।
ম্যাচের সেঞ্চুরি
দল বাড়ার সরাসরি প্রভাব পড়ছে ম্যাচ সংখ্যায়। কাতার বিশ্বকাপে ফাইনাল পর্যন্ত মোট ৬৪টি ম্যাচ দেখার সুযোগ হয়েছিল। এবার তা বেড়ে দাঁড়াচ্ছে ১০৪টিতে। অর্থাৎ, এবার বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম ম্যাচের সেঞ্চুরি দেখতে যাচ্ছেন ফুটবলপ্রেমীরা। ৩৯ দিনব্যাপী এই টুর্নামেন্টে ফুটবল উন্মাদনার কোনো কমতি থাকবে না, যা যেকোনো ক্রীড়া আসরের জন্য একটি নতুন রেকর্ড।
নকআউটে নতুন সমীকরণ
দল ও ম্যাচের সংখ্যা বাড়ায় ফিফাকে বদলে ফেলতে হয়েছে টুর্নামেন্টের মূল কাঠামো। এবার ৪৮টি দলকে ভাগ করা হয়েছে মোট ১২টি গ্রুপে। যেখানে প্রতি গ্রুপে থাকছে ৪টি করে দল। আগের মতো প্রতি গ্রুপের শীর্ষ দুটি দল তো নকআউটে যাবেই, তবে এবার নতুন টুইস্ট হিসেবে ১২টি গ্রুপের মধ্যে সেরা ৮টি ‘তৃতীয় স্থান’ অধিকারী দলও শেষ ৩২-এ যাওয়ার টিকিট পাবে। এর ফলে গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচ পর্যন্ত প্রতিটি দল টিকে থাকার চ্যালেঞ্জ নেবে।
ট্রফি ছুঁতে জিততে হবে আট ম্যাচ
ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে এত দিন চ্যাম্পিয়ন হতে হলে একটি দলকে ফাইনাল পর্যন্ত মোট ৭টি বাধা পার করতে হতো। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপে সেই সমীকরণ অতীত। নতুন কাঠামো অনুযায়ী এবার সোনার ট্রফি উঁচিয়ে ধরতে চ্যাম্পিয়ন দলকে পুরো টুর্নামেন্টে রেকর্ড ৮টি ম্যাচে জিততে হবে। ৩৯ দিনের এই দীর্ঘ পথচলায় শারীরিক ও মানসিকভাবে যে দল সবচেয়ে বেশি লড়াকু হবে, তাদের মাথায় উঠবে বিশ্বসেরার মুকুট।
তিন দেশের আয়োজন
২০০২ সালে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া যৌথভাবে বিশ্বকাপ আয়োজন করে ফুটবল বিশ্বে নতুন এক নজির গড়েছিল। এবার সেই যৌথ আতিথেয়তার রেকর্ডও ছাড়িয়ে যাচ্ছে। ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই প্রথম তিনটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশ-যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো একজোট হয়ে পুরো বিশ্বকে স্বাগত জানাবে। ১৬টি ভিন্ন ভিন্ন ভেন্যুর বৈচিত্র্যময় আবহাওয়ার পাশাপাশি তিন দেশের ভিন্ন সংস্কৃতি ও ফুটবল উন্মাদনা এই আসরকে দেবে এক অনন্য মাত্রা।