Image description

ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপ হতে যাচ্ছে ২০২৬ আসর। প্রথমবারের মতো ৪৮টি দল, ১২টি গ্রুপ, ১০৪টি ম্যাচ এবং তিন আয়োজক দেশ নিয়ে বসছে এই আসর। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার যৌথ আয়োজনের এমন বিস্তৃত বিশ্বকাপ আগে কখনো দেখেনি ফুটবল বিশ্ব। তবে খরচের হিসাবে এটি সবচেয়ে ব্যয়বহুল বিশ্বকাপ হচ্ছে না; সেই জায়গায় এখনো অনেক ওপরে ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপ।

 

প্রকাশিত হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ বিশ্বকাপ আয়োজনে মোট খরচ দাঁড়াতে পারে প্রায় ১৩.৯ বিলিয়ন ডলার। সংখ্যাটা বিশাল হলেও কাতারের তুলনায় অনেক কম। ২০২২ বিশ্বকাপ আয়োজনে কাতারের ব্যয় ২০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি ছিল বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। সেই হিসাবে উত্তর আমেরিকার এবারের বিশ্বকাপের খরচ কাতারের প্রায় ১৬ ভাগের এক ভাগ।

 

এই পার্থক্যের পেছনে বড় কারণ আয়োজক দেশগুলোর অবকাঠামো। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় আগে থেকেই আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়াম, বিমানবন্দর, হোটেল, সড়ক যোগাযোগ ও নগর সুবিধা রয়েছে। ফলে বিশ্বকাপ আয়োজনের জন্য কাতারের মতো নতুন করে পুরো অবকাঠামো গড়ে তোলার প্রয়োজন হয়নি।

 

কাতারের ক্ষেত্রে চিত্রটি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। ২০২২ বিশ্বকাপের জন্য নতুন স্টেডিয়াম, মেট্রো রেল, সড়ক, পরিবহন ব্যবস্থা, আবাসন ও নতুন শহর উন্নয়নে বিপুল অর্থ ব্যয় করা হয়েছিল। ছোট ভৌগোলিক পরিসরের একটি দেশকে বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক আয়োজনের উপযোগী করে তুলতে নতুনভাবে প্রস্তুত করতে হয়েছিল। সে কারণেই কাতার বিশ্বকাপ এখনও ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল আসর।

 

২০২৬ বিশ্বকাপের মোট বাজেটের মধ্যে ফিফার নিজস্ব পরিচালন ব্যয় ধরা হচ্ছে ৩.৭৫৬ বিলিয়ন ডলার। এর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার কেন্দ্রীয় সরকার এবং আয়োজক শহরগুলোর অবদান মিলিয়ে আরও প্রায় ১০.১ বিলিয়ন ডলার যোগ হচ্ছে। পরিবহন, আবাসন, স্টেডিয়ামের ফিফা মানদণ্ড নিশ্চিতকরণ, নিরাপত্তা, ফ্যান জোন এবং টুর্নামেন্ট পরিচালনার নানা খরচ মিলিয়েই তৈরি হয়েছে এই বিশাল অঙ্কের বাজেট।

 

তবে ১৩.৯ বিলিয়ন ডলারও ছোট অঙ্ক নয়। কাতার বিশ্বকাপ বাদ দিলে ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল আসরগুলোর একটি হবে ২০২৬ বিশ্বকাপ। এর আগে ২০১৪ সালে ব্রাজিল বিশ্বকাপ আয়োজনের খরচ ছিল প্রায় ১৫ বিলিয়ন ডলার। সেই হিসাবে উত্তর আমেরিকার আসরের খরচ ব্রাজিলের কাছাকাছি থাকলেও কাতারের ধারেকাছেও যাচ্ছে না।

বিশ্বকাপের আকার বাড়লেও খরচ তুলনামূলক কম রাখা সম্ভব হয়েছে মূলত বিদ্যমান অবকাঠামোর কারণে। যুক্তরাষ্ট্রের এনএফএল স্টেডিয়াম, মেক্সিকোর ঐতিহাসিক ফুটবল ভেন্যু এবং কানাডার আধুনিক ক্রীড়া স্থাপনাগুলো ব্যবহার করেই আয়োজন করা হবে বেশির ভাগ ম্যাচ। নতুন স্টেডিয়াম নির্মাণের চাপ না থাকায় খরচ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

 

২০২৬ আসর শুধু আর্থিক দিক থেকেই নয়, কাঠামোগত দিক থেকেও নতুন। ৩২ দলের বদলে এবার খেলবে ৪৮টি দল। ম্যাচের সংখ্যা ৬৪ থেকে বেড়ে হয়েছে ১০৪টি। স্বাভাবিকভাবেই আয়োজনে বাড়ছে লজিস্টিকস চাপ, নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা, ভ্রমণ, দল ও সমর্থকদের আবাসন, সম্প্রচার কাঠামো এবং স্টেডিয়াম অপারেশন। তা সত্ত্বেও আয়োজক দেশগুলোর প্রস্তুত অবকাঠামো এই ব্যয়কে কাতারের মতো অস্বাভাবিক উচ্চতায় যেতে দেয়নি।

 

এই হিসাব এখন ২০৩০ বিশ্বকাপের আয়োজকদের কাছেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। শতবর্ষী সেই বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজনের পরিকল্পনায় রয়েছে স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কো; সঙ্গে প্রতীকী কিছু ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে দক্ষিণ আমেরিকায়। কিন্তু পরিচালন ব্যয়, স্টেডিয়াম প্রস্তুতি ও শহরভিত্তিক খরচ নিয়ে ইউরোপের কয়েকটি শহরে এরই মধ্যে দ্বিধা তৈরি হয়েছে। বিলবাও, ভ্যালেন্সিয়া, সান সেবাস্তিয়ান ও আ কোরুনিয়ার মতো শহরগুলো শেষ পর্যন্ত আয়োজক হিসেবে যুক্ত থাকবে কি না, তা নিয়েও আলোচনা চলছে।