Image description

ঈদুল আজহার দীর্ঘ ছুটি শেষে আজ শনিবার থেকে খুলেছে পোশাক কারখানাসহ দেশের বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। কর্মস্থলে যোগ দিতে শেষ মুহূর্তে গতকাল শুক্রবার অনেক রাত পর্যন্দত রাজধানী ঢাকায় ফিরেছেন অসংখ্য শ্রমজীবী ও কর্মজীবী মানুষ। প্রতিবারের মতো এবারও দূরপাল্লার বাসের টিকিট সংকট, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, মহাসড়কের তীব্র যানজট এবং গভীর রাতে ঢাকায় নেমে বাসাবাড়িতে পৌঁছানোর জন্য যানবাহনের তীব্র সংকটে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে সাধারণ মানুষকে।

গতকাল শুক্রবার রাত থেকে আজ শনিবার ভোর পর্যন্ত রাজধানীর গাবতলী, সায়েদাবাদ, মহাখালী ও কল্যাণপুরসহ বিভিন্ন প্রবেশমুখ ঘুরে দেখা যায়, ব্যাগ-বস্তা আর লাগেজ হাতে অসংখ্য মানুষ মধ্যরাতেও বাসের জন্য অপেক্ষা করছেন কিংবা বাস থেকে নেমে গন্তব্যে যাওয়ার বাহন খুঁজছেন। কিন্তু সেই তুলনায় রাস্তায় রিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা কিংবা অন্যান্য গণপরিবহন ছিল খুবই সীমিত।

রাজধানীর পল্লবী এলাকার একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন নুরুন নাহার। ঈদুল আজহায় টানা ১০ দিনের ছুটি পেয়ে তিনি গত ২৬ মে সিরাজগঞ্জে তার গ্রামের বাড়িতে গিয়েছিলেন। গতকাল দুপুর ১২টার দিকে তিনি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হতে সিরাজগঞ্জ শহরে আসেন। কিন্তু দুই ঘণ্টা ঘুরেও কোনো টিকিট পাচ্ছিলেন না।

নুরুন নাহার বলেন, অতিরিক্ত ২০০ টাকা বাস ভাড়া বেশি ভাড়া দিছি। কিন্তু রাস্তায় জ্যামে ঢাকা আসতে ১২ ঘণ্টা লাগছে। ঢাকায় যখন নামলাম রাত দেড়টায়। 

তিনি আরও জানান, মধ্যরাতে ঢাকায় নেমেও তিনি পড়েন আরেক বিপত্তিতে। রাস্তায় শত শত মানুষ ব্যাগ-লাগেজ নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকলেও বাসাবাড়িতে পৌঁছানোর মতো গাড়ি তেমন ছিল না। ‌তার ভাষায়, ১২ ঘণ্টার জ্যাম ঠেলে ঢাকায় নেমে বাসায় যাওয়ার গাড়ি পাই না।

একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানান বরিশাল সদর থেকে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী জহিরুল আলম। ৫০০ টাকার নিয়মিত বাস টিকিট অনেক কষ্টে বাড়তি ৩০০ টাকা যোগ করে ৮০০ টাকায় কিনতে হয়েছে তাকে।

তিনি জানান, দক্ষিণবঙ্গের রাস্তায় যানজট তেমন না থাকলেও ঢাকায় ঢোকার মুখে দীর্ঘ যানজটে পড়তে হয়। সায়েদাবাদে বাস থেকে নেমে মিরপুরের বাসায় যাওয়ার জন্য কোনো গাড়ি পাচ্ছিলেন না তিনি। শেষ পর্যন্ত গভীর রাতে কয়েকজন মিলে একটি গাড়ি ভাড়া করে (শেয়ারিংয়ে) তাকে বাসায় ফিরতে হয়েছে।

ভোগান্তির এই চিত্র থেকে বাদ যাননি শিক্ষার্থীরাও। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলের আবাসিক ছাত্র আব্দুল মোমেন তার ছোট ভাইকে নিয়ে সিরাজগঞ্জ থেকে ঢাকায় ফিরছিলেন। বাসের টিকিট পেতে হন্যে হয়ে ঘোরার পর অবশেষে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে এক হাজার টাকা বাড়তি দিয়ে রংপুর থেকে ছেড়ে আসা একটি এসি বাসে ওঠেন তিনি।

আব্দুল মোমেন বলেন, ঢাকায় পৌঁছাতে পৌঁছাতে রাত ২টা বেজে যায়। এত রাতে হলের গেট বন্ধ থাকবে ভেবে মিরপুর-১৪ নম্বরে বড় ভাইয়ের বাসায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। কিন্তু রাস্তায় এসে দেখি আমাদের মতোই অসংখ্য মানুষ গাড়ির জন্য দাঁড়িয়ে আছেন, কোনো যানবাহন নেই।

 

এদিকে সাধারণ মানুষের এই ভোগান্তির বিপরীতে ঈদের এই ফিরতি সময়টাকে বাড়তি উপার্জনের সুযোগ হিসেবে দেখছেন অনেকে। চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দিনের বদলে অনেক চালক এখন রাতে সিএনজি ও রিকশা চালাচ্ছেন।

গভীর রাতে রাজধানীর শেওড়াপাড়া এলাকায় কথা হয় সিএনজিচালক আক্কাস আলীর সঙ্গে। তিনি জানান, সাধারণত তিনি দিনে গাড়ি চালালেও গত ৩-৪ দিন ধরে রাতেই সিএনজি বের করছেন। 

আক্কাস আলীর ভাষায়, ঈদের ছুটি শেষে লোকজন রাতে বেশি ঢাকায় ফিরছে। এই সময়ে ট্রিপ মারলে ভালোই বাড়তি আয় করা যাচ্ছে।

পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একসঙ্গে বিপুল সংখ্যক মানুষ ঢাকায় ফেরায় এবং মহাসড়কে গাড়ির চাপ থাকায় এই যানজট তৈরি হয়েছে।