ভুটানের বিপক্ষে ঘামঝরানো জয়ের পর সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে বাংলাদেশের মুখোমুখি হবে ভারত। তবে শিরোপা নির্ধারণী লড়াইয়ে নামার আগে কোনো রকম ‘হোম অ্যাডভান্টেজ’ বা ঘরের মাঠে খেলার বাড়তি সুবিধা দেখছেন না ভারতের কোচ ক্রিস্পিন ছেত্রী। গ্যালারিতে স্বাগতিক দেশের কোনো দর্শক না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করে ছেত্রীর প্রশ্ন, ‘মাঠে কোনো ভারতীয় দর্শক দেখেছেন?’
ছেত্রীর মতে, গ্যালারি ফাঁকা থাকায় ফাইনালটি হবে নিরপেক্ষ ভেন্যুতে ম্যাচের মতো, যেখানে দুই দলের সুযোগই থাকবে সমান—অর্থাৎ, ‘৫০-৫০’। একই সঙ্গে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশের বিপক্ষে ফাইনালের মহারণে নামার আগে দলের ফুটবলারদের বাড়তি কোনো অনুপ্রেরণার প্রয়োজন হবে না বলেও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন ছেত্রী।
গতকাল গোয়ার মারগাঁওয়ের জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে তখন ঘড়ির কাঁটা রাত ১১টা ছুঁই ছুঁই। অষ্টম নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ভুটানকে ১-০ গোলে হারিয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসেন ভারতের কোচ ক্রিস্পিন ছেত্রী। কিন্তু ফাইনালে ওঠার আনন্দ ছাপিয়ে তাঁর কণ্ঠে ঝরল তীব্র আত্মসমালোচনা।
দার্জিলিংয়ে কার্শিয়াংয়ের বাসিন্দা এই কোচ অকপটে স্বীকার করলেন, এই জয় তাঁদের প্রাপ্য ছিল না, ‘আমরা মোটেও ভালো খেলিনি। জয় আমাদের প্রাপ্য নয়, তবু আমরা ১-০ গোলে জিতেছি। ফুটবল কখনো কখনো শুধু টেকনিক আর ট্যাকটিকসের খেলা নয়, এটা মনেরও খেলা। ভুটানের মেয়েরা একেকজন যোদ্ধার মতো খেলেছে। আমার মতে, জয়টা তাদেরই প্রাপ্য ছিল। আমাদের ৯০ মিনিটজুড়েই ভালো খেলা উচিত ছিল।’
ভারতের কোচ মনে করেন, ভুটানকে তাঁরা বড্ড হালকাভাবে নিয়ে ফেলেছিলেন এবং প্রথমার্ধেই সৌভাগ্যবশত ২ গোল হজম করেননি তাঁরা। তবে আগামী শনিবার ফাইনাল ম্যাচটি যে পুরোপুরি অন্য এক ম্যাচ হবে, তা ভালো করেই জানা আছে এ কোচের।
ফাইনালে বাংলাদেশকে সমীহ করে ছেত্রী বলেন, ‘ওটা ভিন্ন ম্যাচ। আমি মনে করি, বাংলাদেশ ফাইনালে পুরো শক্তি নিয়ে আসবে। আমাদের জন্য ফাইনাল মোটেও সহজ হবে না। তবে বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলতে আমাদের আলাদা কোনো উজ্জ্বীবনী শক্তির দরকার নেই, এটা এমনিতেই চলে আসবে।’

প্রথম আলোর প্রতিনিধির এক প্রশ্নের উত্তরে ঘরের মাঠে খেলার সুবিধা বা ‘হোম অ্যাডভান্টেজ’-এর বিষয়টি উড়িয়ে দেন ছেত্রী। শূন্য গ্যালারির প্রতি ইঙ্গিত করে ছেত্রী বলেন, ‘হোম অ্যাডভান্টেজ বলে কিছু নেই, আমি তা ভাবছিও না। আপনি মাঠে কোনো দর্শক দেখেছেন? না। কোনো ভারতীয় দর্শক নেই গ্যালারিতে। ফলে এখানে ঘরের মাঠে খেলার কোনো ব্যাপার নেই। মনে করুন, কোনো নিরপেক্ষ ভেন্যুতে খেলা হচ্ছে।’
ছেত্রী বলেন, ‘প্রথম সেমিফাইনালে নেপালের পক্ষে তাদের হাজারখানেক সমর্থক এসেছিল, কিন্তু ভারতের মানুষ আসেনি। তাই এটি একটি নিরপেক্ষ মাঠ মনে হয় আমার কাছে। ফাইনাল হবে ৫০-৫০ ম্যাচ। গ্রুপ পর্বে (বাংলাদেশকে ৩-০ গোলে হারায় ভারত) যা-ই হোক না কেন, এটি নতুন ম্যাচ। আর ফাইনালে যারা প্রথম গোল করতে পারবে, তারাই মানসিকভাবে এগিয়ে যাবে।’

প্রথম সেমিফাইনালে নেপালের বিপক্ষে বাংলাদেশের ২-১ ব্যবধানের কঠিন জয় নিয়েও কথা বলেন ছেত্রী। শেষ মুহূর্তের (৯৩ মিনিট) গোলে বাংলাদেশের জয় নিয়ে তাঁর মন্তব্য, ‘খেলাটা কতটা কঠিন ছিল, এই স্কোরলাইনেই তা স্পষ্ট।’
ভারতের বিপক্ষে দারুণ লড়াই করে হেরে যাওয়া ভুটানের কোচ কিম টে-ইন সংবাদ সম্মেলনে নিজের দলের মেয়েদের প্রশংসায় ভাসিয়েছেন। তবে ফাইনালের ফেবারিট কে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি ‘নো কমেন্টস’ বলে এড়িয়ে যান।