চার দিনের চীন সফর শেষ করে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। চীন সফরের আগে মালয়েশিয়ায় ১৮ ঘণ্টা সফর করেছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম বিদেশ সফরের প্রতি নজর থাকে কূটনৈতিক মহলে। তা থেকে ধারণা করা হয়, সরকারের গুরুত্বটা আসলে কোনদিকে যাচ্ছে। ১৮ ঘণ্টা মালয়েশিয়া প্রথম সফরের চেয়ে চীন সফরকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং কৌশলগত বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল।
১৮ ঘণ্টার মালয়েশিয়া সফরে প্রাপ্তি কী
কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে মালয়েশিয়ায় প্রথম সফরকে ইতিহাসের গতিপথের অন্য এক পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী মালয়েশিয়া সফরে গুরুত্ব দিয়েছেন শ্রমবাজার এবং বাণিজ্যকে। বাংলাদেশের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার দ্রুত খুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। যদিও পদ্ধতিগত কারণে এখনই এর সম্ভাবনা খুবই কম।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম সফর বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্কের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে জানিয়েছেন তার উপদেষ্টা মাহদী আমিন। তিনি বলেন, এই সফরের মাধ্যমে দুই দেশের পারস্পরিক আস্থা, বন্ধুত্ব ও জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় ও সুসংহত হয়েছে। সফরে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে সংস্কৃতি বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো দুই দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং দীর্ঘদিনের সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ককে সাংস্কৃতিক বিনিময়ের মাধ্যমে আরও শক্তিশালী করা। এছাড়া বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও সন্ত্রাস দমনে দুটি কূটনৈতিক নোট বিনিময় করা হয়েছে। এছাড়া মালয়েশিয়ার ব্যবসায়ীদের দেশে বিনিয়োগ এবং জ্বালানি খাতে সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
বিদেশ সফরে কৌশলগত পরিবর্তন কীভাবে আসলো
প্রথম সফরে সরাসরি চীনে না গিয়ে প্রথমে মালয়েশিয়া যাওয়া ইতিহাসের কৌশলগত পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ প্রধানমন্ত্রীর বাবা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯৭৭ সালের ২ জানুয়ারি প্রথম বিদেশ সফর ছিল চীনে। আর মা প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমে কমনওয়েলথের শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে ১৯৯১ সালে জিম্বাবুয়ে যান। পথে ওমরাহ পালনের জন্য জেদ্দায় অবতরণ করেন। এরপর ১৯৯২ সালের মার্চে খালেদা জিয়া রাষ্ট্রীয় সফরে যুক্তরাষ্ট্র যান। ওই বছর তিনি যুক্তরাষ্ট্রের পর ভারত, পাকিস্তান, বাহরাইন সফরও করেন। ১৯৯৫ সালে দ্বিতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি প্রথম সফর করেন পাকিস্তানে। এরপর ১৯৯৬ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দায়িত্ব নিয়ে প্রথমে সৌদি আরব যান উমরাহ পালনে। এরপর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিয়ে রাষ্ট্রীয় সফরে ভারত যান। সেই সময় ৩০ বছরের জন্য গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি সই করা হয়। ২০০২ সালে জোট সরকারের সময় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে খালেদা জিয়া চীন সফর করেন। খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী ঝু রংজির সঙ্গে দেখা করেন এবং এক চীন নীতির প্রতি সমর্থন জানান।
২০০৯ সালে ক্ষমতায় এসে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যান সৌদি আরব। ২০০৯ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে শেখ হাসিনা ৩ বার ভারত সফর করেন। ২০১৪ সালে পুনরায় ক্ষমতায় এসে শেখ হাসিনা জাপান সফর করেন। ২০১৮ সালে দায়িত্ব নিয়ে সিঙ্গাপুর সফর করেন তিনি। ২০১৯ সালে আবারও ভারত সফরে যান তিনি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার আগে তিনি চীন সফর করেন। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উমরাহ পালনের মাধ্যমে বিদেশ সফর শুরু করতে চাইলেও মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির কারণে পারেননি। তাই তিনি মালয়েশিয়া দিয়ে বিদেশ সফর শুরু করেন এবং মালয়েশিয়া থেকে চীনে যান।
চীন সফর কূটনীতির কৌশলগত পরিবর্তন
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির কৌশলগত পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন কূটনীতিকরা। অতীতে ভারত কেন্দ্রিক প্রাধান্য থেকে সরে এসে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ পররাষ্ট্র নীতিতে একে কৌশলগত পরিবর্তন বলে মনে করেন তারা। কারণ চীন বাংলাদেশের উন্নয়নের প্রধান অংশীদার। বাংলাদেশের বাণিজ্য এবং বিনিয়োগের একটি প্রধান অংশ চীনকেন্দ্রিক। তাই বাংলাদেশের উন্নয়নের স্বার্থে চীন সফর জরুরি ছিল বলে মনে করেন কূটনীতিকরা।
ঢাকার সাবেক একজন কূটনীতিক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, বিএনপি সরকারের সঙ্গে অতীতে চীনের সম্পর্কে কয়েকবার টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল। বিএনপি কয়েক বছর আগে থেকেই চীনের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন কিংবা চীনের দিকে ঝুঁকে যাওয়ার একটা কৌশল নেয়। অতীতে তাইওয়ান ঘিরে ঢাকার অবস্থান বিএনপি সরকারকে বিপাকে ফেলে দেয়। আবার ২০২১ সালে চীনের রাষ্ট্রদূতের বক্তব্য ঘিরে বিএনপি বিবৃতি দেয়। সেটি নিয়েও চীনের সঙ্গে সম্পর্কের বিরোধ ঘটে। তবে এবার বিএনপি সরকার দায়িত্ব নিয়ে ‘এক চীন নীতি’-কে স্বীকৃতি দেয়। সেটি সম্পর্ক উন্নয়নের কৌশলগত অবস্থান।
যৌথ ঘোষণাতেও দুই দেশ একে অপরের মৌলিক স্বার্থ ও প্রধান উদ্বেগের বিষয়ে দৃঢ় সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে। বাংলাদেশ পুনরায় ‘এক চীন নীতি’র প্রতি অঙ্গীকার ব্যক্ত করে এবং তাইওয়ানের স্বাধীনতার যেকোনও প্রচেষ্টার বিরোধিতা করে। বাংলাদেশ পুনর্ব্যক্ত করে যে বিশ্বে একটিই চীন রয়েছে, তাইওয়ান চীনের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং বেইজিং সরকারই সমগ্র চীনের একমাত্র বৈধ সরকার। অন্যদিকে, চীন বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে।
তবে সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সি ফয়েজ আহমদ মনে করেন, অতীতের ভুল আর করলে হবে না। তিনি বলেন, ‘সরকার ওই তখনই একটা ভুল করে বসেছিল, কিন্তু সেই ভুল থেকে তারা দ্রুত বেরিয়েও এসেছে। আর সেই ভুলটাকে মনে করিয়ে দেওয়াতে চীনেরও কোনও স্বার্থ নেই। বরং চীনের স্বার্থ বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোতে। আর বাংলাদেশ যেহেতু ওই অবস্থান থেকে সরেই এসেছে, এ বিষয়ে তাদের আর চাওয়ার কিছু নেই। সুতরাং এটা নিয়ে অস্থির হওয়ার কিছু নেই। এখন আমাদের খেয়াল রাখতে হবে, আমরা যাতে ভবিষ্যতে আবার একই রকম ভুল না করি। একই ভুল আবার যেন করে না বসি।’
চীন সফরে প্রাপ্তি কী
প্রধানমন্ত্রীর তারেক রহমানের চীন সফরে বেইজিংয়ের ‘গ্রেট হল অব দ্য পিপলে’ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বেশ কয়েকটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও চীনা প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের উপস্থিতিতে চুক্তিগুলো সই হয়। দ্বিপাক্ষিক আলোচনার পর প্রধানমন্ত্রী এবং চীনের নেতৃত্বের সম্মতির ওপর ভিত্তি করে মোট ১৭টি মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং বা এমওইউ সই হয়েছে। তার মধ্যে ১৩টি বাংলাদেশ এবং চীনের প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে দুই দেশের বিভিন্ন গভর্নমেন্টের মিনিস্ট্রি টু মিনিস্ট্রি সই হয়েছে। আর তিনটি হয়েছে বাংলাদেশের বিডার সঙ্গে চীনের বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারদের এবং একটা সই হয়েছে পলিটিক্যাল পার্টি টু পলিটিক্যাল পার্টি অর্থাৎ দুটি দেশের বর্তমানে রাষ্ট্র পরিচালনায় যে রাজনৈতিক দলগুলো রয়েছে তাদের মধ্যে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহাদী আমিন জানান, গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভের অধীনে স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং দক্ষতা উন্নয়ন সম্পর্কিত বিষয়গুলো নিয়ে এমওইউ হয়েছে এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে একটি পৃথক কো-অপারেশন প্ল্যান সই হয়েছে। এছাড়া টেকনিক্যাল ও ভোকেশনাল এডুকেশনে সহযোগিতায় দুটি পৃথক এমওইউ এবং বাংলাদেশ থেকে জাতীয় ফল কাঁঠাল রফতানি বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। একই সঙ্গে গণমাধ্যম খাতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদার, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং তথ্য আদান-প্রদান বৃদ্ধির লক্ষ্যে চারটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে।
চীনে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সি ফয়েজ আহমদ বলেন, ‘মোট ১৭টি এমওইউ হয়েছে। তারপরও যদি কেউ বলে কিছু আনতে পারেনি; তা আসলে ঠিক হবে না। বরং অনেক বেশি হয়েছে। আমি মনে করি যে অঙ্গীকারের দিক থেকে যদি দেখা হয়, তো অঙ্গীকারের কোনও শেষ নেই, প্রচুর আছে। মূল প্রশ্ন আসলে সেগুলো বাস্তবায়ন করতে পারবো কিনা, চীনের পক্ষ থেকে তো সমস্যা হবে না। কিন্তু আমাদের সেগুলো গ্রহণ করার মতো, সেগুলোকে কাজে লাগানোর মতো দক্ষতা সবসময় থাকে না। সে জন্য অনেক সময় অনেক প্রতিশ্রুতি শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়ন হয় না। তো সেজন্য আমাদের সেই জিনিসটার ব্যাপারে চেষ্টা করতে হবে, আমাদের অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে। আর যেসব কাজ করবো বলেছি, সে কাজগুলো সত্যি সত্যি এগিয়ে গিয়ে করার চেষ্টা করতে হবে। আমরা অনেক সময় বলি, তারপর করি না। সেজন্যে ‘অনেক অনেক’ বলে, টাকার অঙ্কের কথা উচ্চারণ না করে; যেগুলো করা হচ্ছে, সেগুলো কাজে লাগাতে হবে।’
যৌথ ইশতেহারে একসঙ্গে কাজ করার প্রতিশ্রুতি
বাংলাদেশ-চীন একটি যৌথ ইশতেহার তৈরি করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ পক্ষ বিশ্বাস করে চীনের ১৫তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়নের সুযোগ বয়ে আনবে। নতুন যুগে দুই দেশ ও দেশের জনগণের জন্য আরও বেশি সুফল বয়ে আনতে উভয়পক্ষ তাদের ‘কমপ্রিহেনসিভ স্ট্র্যাটেজিক কো-অপারেটিভ পার্টনারশিপ’ বা ‘সামগ্রিক কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদারত্বকে’ আরও এগিয়ে নিয়ে যৌথভাবে ‘চীন-বাংলাদেশ অভিন্ন ভাগ্যের কমিউনিটি’ গড়ে তুলতে সম্মত হয়েছে।
উভয়পক্ষ উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগের ধারা বজায় রাখতে, শাসন পরিচালন ব্যবস্থার অভিজ্ঞতা বিনিময় বাড়াতে এবং সরকার, আইনসভা ও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যোগাযোগ ও সহযোগিতা জোরদার করতে সম্মত হয়েছে। দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে একটি কৌশলগত সংলাপের ব্যবস্থা চালুর বিষয়ে উভয়পক্ষ একমত হয়েছে। এ ছাড়া কূটনীতি ও প্রতিরক্ষা বিষয়ক একটি ‘টু প্লাস টু’ (২+২) সংলাপ ব্যবস্থার পথ খোঁজার বিষয়েও উভয়পক্ষ সম্মত হয়েছে।
এ বিষয়ে মুন্সি ফয়েজ আহমদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এই নতুন সরকারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটা সফর। আমাদের সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিশেষ করে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে কখনও কখনও চীন সবচেয়ে সামনে থাকে। আবার কখনও কখনও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সামনে আসে। বিশেষ করে যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিমান কেনা হয়, তখন সেটার পরিমাণ বেড়ে যায়। আর না হলে চীন আসলে আমাদের মূল বিনিয়োগকারী। আমাদের দেশে অনেক দেশ বিনিয়োগ করে, কিন্তু চীনের বিনিয়োগ অনেক বেশি নিয়মিত হয়ে থাকে। আর চীনের সঙ্গে আমাদের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা অব্যাহত আছে। শিক্ষা জনশক্তি উন্নয়নে, সামাজিক উন্নয়ন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং কৃষি গবেষণায় চীনের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সব কিছু মিলিয়ে চীনের সঙ্গে আমাদের বহুদিন ধরে যে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারত্ব; সেই সম্পর্কটাকে আর নতুন মাত্রায় নিয়ে যাওয়ার জন্য এই সফরটা খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা শুনেছি, এই সফরে ১৭টির মতো চুক্তি, প্রটোকল অথবা স্মারক সই হয়েছে এবং সেগুলো সবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে। আমি মনে করি, এই চুক্তিগুলো আমাদের দুই দেশের সম্পর্কে নতুন গতি সঞ্চার করতে জোরালো ভূমিকা রাখবে। সেজন্য আমি মনে করি, প্রধানমন্ত্রী এই সফরটা অত্যন্ত সফল হয়েছে এবং এর মাধ্যমে আমাদের পররাষ্ট্র-সম্পর্কের অগ্রগতির নতুন দুয়ার উন্মোচন করেছে এবং নতুন নতুন ক্ষেত্রে আমাদের সহযোগিতা এগিয়ে যাবে।’